কাজিপুরে ট্রাকচাপায় ভ্যানচালক নিহত, আহত ৩

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬
  • ১৬ বার
কাজিপুরে ট্রাকচাপায় ভ্যানচালক নিহত, আহত ৩

প্রকাশ:  ১৭ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার পাটাগ্রাম রোডে আজ শুক্রবার সকালে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাদশা মিয়া নামের এক ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ও একটি শিশুসহ আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মেঘাই থেকে রায়গঞ্জগামী একটি বেপরোয়া গতির বালুবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দিলে এই হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সকালের শান্ত জনপদ মুহূর্তের মধ্যেই আর্তনাদ আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ট্রাকটি এতটাই দ্রুতগতিতে ছিল যে চালক ব্রেক চেপেও গাড়িটি সামলাতে পারেননি, যার ফলে বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশাগুলো ট্রাকের নিচে পিষ্ট হয়ে যায়।

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাটাগ্রাম রোডের আরআইএম ডিগ্রি কলেজের সামনে পৌঁছালে ট্রাকটি হঠাৎ করেই তার গতিপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে। মেঘাই এলাকা থেকে বালু ভর্তি করে ট্রাকটি রায়গঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশাগুলোর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের সময় অটোরিকশাগুলো দুমড়েমুচড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ভ্যানচালক বাদশা সরকার ট্রাকের নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান। তাঁর পরিবারের সদস্যরাও সেই মুহূর্তে অটোরিকশাতেই ছিলেন, যা এই দুর্ঘটনাকে আরও বেশি ট্র্যাজেডিতে রূপ দিয়েছে। বাদশা সরকার স্থানীয় শুভগাছা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি পেশায় একজন খেটে খাওয়া মানুষ, যিনি নিজের পরিবারের অন্ন সংস্থানের জন্য প্রতিদিন ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

কাজিপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল দ্রুত সংবাদ পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তারা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ট্রাকের নিচ থেকে বাদশা সরকারের মরদেহ উদ্ধার করে। আহত অবস্থায় নিহতের স্ত্রী এবং শিশুসহ আরও তিনজনকে দ্রুত কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের অবস্থা বেশ গুরুতর। দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারের ওপর যে দুর্যোগ নেমে এসেছে, তা কোনোভাবেই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটির অকাল মৃত্যুতে স্বজনদের কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। স্থানীয় মানুষজন তাদের সমবেদনা জানাতে হাসপাতালের দিকে ভিড় করছেন।

কাজিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম মোস্তাফিজুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ খবর পাওয়ার পরপরই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘাতক ট্রাকটিকে পুলিশ জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। তবে ট্রাকের চালক ঘটনার পর পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং পলাতক চালককে শনাক্ত করতে মাঠে নেমেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ওসি মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলেই পুলিশ দ্রুত যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি স্থানীয়দের আশ্বস্ত করেছেন যে, অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপরতা চালাবে।

সড়ক দুর্ঘটনা সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের সাধারণ মানুষের জন্য এক অভিশপ্ত অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে। পাটাগ্রাম রোডের এই এলাকাটিতে প্রায়শই ভারি যান চলাচলের কারণে এমন ঝুঁকি সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। বালুবাহী ট্রাকগুলোর বেপরোয়া গতি এবং চালকদের অদক্ষতা ও অসাবধানতার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। সচেতন মহলের মতে, নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু পরিবহন এবং সড়কের ওপর নিয়ন্ত্রণহীন ট্রাক চলাচল বন্ধ না করলে অদূর ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ভ্যান ও অটোরিকশার মতো ছোট যানবাহনগুলোর চলাচলের জন্য যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা সতর্কতা না থাকায় সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ঝুঁকিতে থাকছেন।

নিহত বাদশা মিয়ার অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো শুভগাছা গ্রামে। একটি পরিবার আজ নিঃস্ব হয়ে গেল একটি মাত্র ট্রাকের বেপরোয়া গতির কারণে। আহতরা এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন, তাদের সুস্থতার জন্য পুরো গ্রাম দোয়া করছে। এই দুর্ঘটনা কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটি একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়ার গল্প। স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন নাগরিক সমাজের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘাতক চালককে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া বালুবাহী ট্রাকের অবৈধ চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশাসনের আরও কঠোর তদারকির প্রয়োজন। সিরাজগঞ্জের কাজিপুর সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের প্রধান দাবি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতি হবে না এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

পরিশেষে বলা যায়, রাস্তার নিরাপত্তা রক্ষা করা সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের নৈতিক দায়বদ্ধতা। বাদশা মিয়ার পরিবারের শোক কাটাতে কোনো কিছুই যথেষ্ট নয়, তবে বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা তাদের জন্য কিছুটা হলেও সান্ত্বনা বয়ে আনতে পারে। কাজিপুরের এই সড়কটি যেন আর কোনো প্রাণ না কাড়ে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক ও চালকদেরও বিবেকবান হওয়া প্রয়োজন। আশা করা যায়, পুলিশি তদন্তে প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত হবে এবং দেশের আইনের শাসন আবারও প্রতিষ্ঠিত হবে। আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য আমরা প্রার্থনা করছি এবং নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করছি। এই দুর্ঘটনা আমাদের আবারও স্মরণ করিয়ে দিল যে, সড়কের শৃঙ্খলা বজায় রাখা কতটুকু জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত