বিধবাকে বাড়িছাড়া, শ্রমিক লীগ নেতাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬
  • ৩০ বার
বিধবাকে বাড়িছাড়া, শ্রমিক লীগ নেতাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় স্বামীর মৃত্যুর পর এক বিধবা গৃহবধূকে সন্তানসহ বাড়ি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ, বসতঘরে হামলা-ভাঙচুর, মাছ লুট, গাছ কেটে নেওয়া এবং সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগে শ্রমিক লীগ নেতা শহীদ আলমসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পর তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের একটি এলাকায় ঘটেছে। মামলার বাদী লামিয়া আক্তার অভিযোগ করেছেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি সন্তানদের নিয়ে বসতভিটায় বসবাস করছিলেন। কিন্তু তাঁর অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করে আসছিল। সম্প্রতি সেই চেষ্টার অংশ হিসেবেই তাঁর বাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্র, দা, লোহার রডসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ঙ্কর সরঞ্জাম নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে। তারা এলাকায় শক্তির মহড়া প্রদর্শন করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এরপর বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট এবং সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি ঘটানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় অভিযুক্তরা তাঁর মাছের ঘের থেকে মাছ লুট করে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে বাড়ির বিভিন্ন মূল্যবান গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে। বসতঘরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামাল ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনাও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। এসব ঘটনার পর তিনি সন্তানদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন।

লামিয়া আক্তার বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারটি আর্থিক ও সামাজিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে প্রভাবশালী একটি মহল তাঁদের সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। তিনি অভিযোগ করেন, বারবার ভয়ভীতি দেখানোর পর শেষ পর্যন্ত হামলা চালিয়ে তাঁকে সন্তানসহ বাড়িছাড়া করা হয়েছে। তিনি প্রশাসনের কাছে নিজের ও সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। তবে এ ঘটনায় তাঁরা প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন। তাঁদের দাবি, ঘটনার পর এলাকায় এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং অনেকেই নিরাপত্তার কারণে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাইছেন না।

মামলায় দপদপিয়া ইউনিয়নের শ্রমিক লীগ নেতা শহীদ আলমসহ মোট সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, লুটপাট এবং ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

নলছিটি থানার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মান্নান জানিয়েছেন, আদালতে মামলা দায়েরের পর বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অভিযোগের প্রতিটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং স্থানীয়দের বক্তব্য নেওয়ার কাজ চলছে। তদন্তের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে কোনো তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রকাশ করা হচ্ছে না। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে এবং অপরাধের সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় আদালতে মামলা হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। তদন্তের মাধ্যমে সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

মানবাধিকারকর্মীদের মতে, কোনো ব্যক্তি বিশেষ করে একজন বিধবা নারী ও তাঁর সন্তানদের জোরপূর্বক বাড়িছাড়া করার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এ ধরনের অভিযোগ দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে তাঁরা মনে করেন।

বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। পুলিশ বলছে, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত