সর্বশেষ :
প্রধান শিক্ষকের কুৎসিত রূপ: চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ নড়াইলে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে ইউপি সদস্য খুন, এলাকায় উত্তেজনা বিয়ের তিন দিন পর সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরল নবদম্পতির স্বপ্ন রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য সংকট, চিকিৎসকদের পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান ফখরুলের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার হাসনাত আবদুল্লাহর রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তার দাবি নাহিদের, নতুন বিতর্ক রাজনীতিতে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রস্তুতি, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নজর দেশের গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত স্পিকার-ইসির ভূতুড়ে প্রতিষ্ঠানের নামে টিআর বরাদ্দ, উঠছে অনিয়মের অভিযোগ

ভূতুড়ে প্রতিষ্ঠানের নামে টিআর বরাদ্দ, উঠছে অনিয়মের অভিযোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
  • ১৫ বার
ভূতুড়ে প্রতিষ্ঠানের নামে টিআর বরাদ্দ, উঠছে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাস্তবে অস্তিত্বহীন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেখিয়ে তা উত্তোলন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়া সত্ত্বেও উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত না দিয়ে ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের টিআর দ্বিতীয় পর্যায়ের আওতায় ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের কলকাকলী বিদ্যাপীঠে মাটি ভরাট ও উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য এক লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বশির আহম্মদ। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রকল্পটির কাজ গত ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্পের নামে বরাদ্দ দেওয়া হলেও দৃশ্যমান উন্নয়নকাজ প্রায় নেই বললেই চলে। স্থানীয়দের দাবি, সামান্য কিছু কাজ দেখানো হলেও প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য অনুযায়ী মাটি ভরাট বা অবকাঠামোগত উন্নয়নের কোনো বাস্তব চিত্র পাওয়া যায়নি। ফলে বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে একই অর্থবছরের টিআর তৃতীয় পর্যায়ে সেলবরষ ইউনিয়নের ‘কলকাকলী বিদ্যাপীঠ উন্নয়ন’ নামে আরও একটি পৃথক প্রকল্পে একই পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু অনুসন্ধানে স্থানীয়দের দাবি, সেলবরষ ইউনিয়নে ‘কলকাকলী বিদ্যাপীঠ’ নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বই নেই। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকাবাসীও এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, অস্তিত্বহীন এই প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে একই ব্যক্তি বশির আহম্মদকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি করে বরাদ্দের অর্থ ছাড় দেওয়া হয়। পরে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত না দিয়ে তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে সংরক্ষণ করা হয়। সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ না হলে অব্যবহৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেই নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

সেলবরষ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ খোকা জানিয়েছেন, তার ইউনিয়নে কলকাকলী বিদ্যাপীঠ নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। একই দাবি করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারাও। তাদের মতে, সরকারি বরাদ্দের অর্থ যদি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে উত্তোলন হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, বরং এটি একটি গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, যা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।

এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি বশির আহম্মদ বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) দোহাই দিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাকে দুটি প্রকল্পের বিল জমা দিতে বলেন। অন্যথায় একটি প্রকল্পের বরাদ্দ ফেরত চলে যেত। তিনি দাবি করেন, একটি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং অন্য প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ এখনো তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে সংরক্ষিত রয়েছে। বিষয়টি তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন বলেও জানান।

অন্যদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জাকির হোসেন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে স্থানীয় এমপি অবগত রয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পে ইউনিয়নের নাম ভুলবশত উল্লেখ হয়েছে। সময় স্বল্পতার কারণে তা সংশোধন করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও দাবি করেন, বরাদ্দ ফেরত চলে গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অর্থ থেকে বঞ্চিত হতো। তবে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি, সেগুলোর বরাদ্দ ফেরত গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রশাসনিক ব্যাখ্যা থাকলেও স্থানীয়দের অনেকেই তা সন্তোষজনক বলে মনে করছেন না। তাদের দাবি, সরকারি অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রকল্প, প্রতিষ্ঠান ও বাস্তব অবস্থার যথাযথ যাচাই-বাছাই করা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্ব। যদি প্রকল্পের তথ্য ভুল থাকে কিংবা অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ অনুমোদিত হয়ে থাকে, তবে এর দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। তারা বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি অর্থ যথাযথভাবে উদ্ধার করার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞদের মতে, টিআর প্রকল্পের মতো সামাজিক নিরাপত্তা ও স্থানীয় উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম বা তথ্য গোপনের অভিযোগ তদন্ত ছাড়া উপেক্ষা করা হলে ভবিষ্যতে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তারা মনে করেন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকল্প বাস্তবায়নের বাস্তব চিত্র যাচাই এবং আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা না এলেও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত তদন্ত শুরু হবে। একই সঙ্গে যদি অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত