সর্বশেষ :
গণবিক্ষোভে বদলে যাওয়া ভারত: দেড় দশকের রাজনৈতিক বাঁক গণতন্ত্র হত্যাকারী হাসিনাকে বিতাড়িত করেছে দেশের মানুষ: রাশেদা বেগম হিরা প্রধান শিক্ষকের কুৎসিত রূপ: চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ নড়াইলে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে ইউপি সদস্য খুন, এলাকায় উত্তেজনা বিয়ের তিন দিন পর সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরল নবদম্পতির স্বপ্ন রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য সংকট, চিকিৎসকদের পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান ফখরুলের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার হাসনাত আবদুল্লাহর রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তার দাবি নাহিদের, নতুন বিতর্ক রাজনীতিতে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রস্তুতি, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নজর দেশের

বিয়ের তিন দিন পর সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরল নবদম্পতির স্বপ্ন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
  • ১০ বার
বিয়ের তিন দিন পর সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরল নবদম্পতির স্বপ্ন

প্রকাশ: ২৪ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নোয়াখালীর সেনবাগে বিয়ের আনন্দ শেষ না হতেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মো. আল-আমিন (৩০) নামে এক যুবক। বিয়ের মাত্র তিন দিনের মাথায় ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও পুরো এলাকায়। যে ঘরে কয়েক দিন আগেও বিয়ের আনন্দ-উৎসব ছিল, সেখানে এখন শুধুই কান্না আর স্বজন হারানোর বেদনা।

বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ৯টার দিকে সেনবাগ–সোনাইমুড়ী সড়কের কুটিরবাড়ি এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত আল-আমিন সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের ছাতারপাইয়া পশ্চিম-দক্ষিণপাড়া গ্রামের রশিদ বেপারীবাড়ির আব্বাস ক্বারির ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে একজন পরিচিত তরুণ ব্যবসায়ী ছিলেন এবং পরিবারের সঙ্গে ছাতারপাইয়া বাজারে ওষুধের ব্যবসা পরিচালনা করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার পারিবারিকভাবে আল-আমিনের বিয়ে সম্পন্ন হয়। নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে তিনি সংসার শুরু করেছিলেন। আত্মীয়-স্বজনের শুভেচ্ছা আর আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যেই কেটেছে গত কয়েকটি দিন। কিন্তু সেই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতে মোটরসাইকেলে সোনাইমুড়ী এলাকা থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন তিনি। পথে কুটিরবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত মুরগিবাহী অটোরিকশার সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের তীব্রতায় আল-আমিন গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের এমন ঘোষণায় মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে তাঁর পরিবারের সব আশা-আকাঙ্ক্ষা।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আল-আমিনের বাড়িতে শোকের মাতম শুরু হয়। কয়েক দিন আগেও যেখানে বিয়ের অনুষ্ঠানে আত্মীয়-স্বজনের পদচারণায় মুখর ছিল বাড়িটি, সেখানে এখন কান্নার রোল। নববধূর জীবনে নেমে এসেছে অকল্পনীয় শোক। পরিবারের সদস্যরা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন, আর প্রতিবেশীরা তাঁদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আল-আমিন অত্যন্ত ভদ্র, পরিশ্রমী ও সবার কাছে প্রিয় একজন মানুষ ছিলেন। পারিবারিক ব্যবসায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক ছিল এবং সবসময় হাসিমুখে চলাফেরা করতেন। তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যু কেউই মেনে নিতে পারছেন না।

এলাকাবাসীর দাবি, সেনবাগ–সোনাইমুড়ী সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এবং রাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তারা এই সড়কে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত নজরদারি এবং নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ কামনা করেছেন।

দুর্ঘটনার পর খবর পেয়ে সেনবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম সরকার জানান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। যেহেতু পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি, তাই মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এর অন্যতম কারণ অতিরিক্ত গতি, সড়ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং বিভিন্ন ধরনের ধীরগতির যানবাহনের সঙ্গে একই সড়কে অনিয়ন্ত্রিত চলাচল। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে চালকদের সচেতনতার পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর নজরদারি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন।

আল-আমিনের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার জন্যই এক অপূরণীয় ক্ষতি। নতুন সংসারের স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করা এক তরুণের জীবন এভাবে সড়কে ঝরে পড়ায় শোকাহত সবাই। স্বজনদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে এমন হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে আর কোনো পরিবারকে বিয়ের আনন্দের কয়েক দিনের মধ্যেই প্রিয়জন হারানোর বেদনা বয়ে বেড়াতে না হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত