সর্বশেষ :
রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য সংকট, চিকিৎসকদের পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান ফখরুলের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার হাসনাত আবদুল্লাহর রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তার দাবি নাহিদের, নতুন বিতর্ক রাজনীতিতে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রস্তুতি, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নজর দেশের গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত স্পিকার-ইসির ভূতুড়ে প্রতিষ্ঠানের নামে টিআর বরাদ্দ, উঠছে অনিয়মের অভিযোগ গ্যাস সংকটে রাজধানীর সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ অপেক্ষা মাতামুহুরী কলেজের জমি উদ্ধারে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম নলছিটি পৌরসভার অনিয়মে প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রস্তুতি, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নজর দেশের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
  • ১২ বার
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রস্তুতি, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নজর দেশের

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বিশেষ কোনো কারণে তা সম্ভব না হলে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে পারেন তিনি। রাষ্ট্রপতির এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্তকে ঘিরে বঙ্গভবন, জাতীয় সংসদ এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে চিকিৎসা ও বিশ্রামে মনোযোগ দিতে চান। পদত্যাগের পর তিনি রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে অবস্থান করবেন। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সও দুটি পৃথক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত করেছেন। আরেকটি সূত্রের দাবি, গত মঙ্গলবারই প্রধানমন্ত্রীকে তিনি এ বিষয়ে জানান এবং শুক্রবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তুতি নেন। তবে বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো প্রকাশ্যে পরিচয় দিতে রাজি হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের উদ্দেশে পাঠাতে হয়। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড সফরে ছিলেন। তবে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের বিষয়টি সামনে আসার পর তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই সফর সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা থাকলেও সাংবিধানিক প্রয়োজন বিবেচনায় তিনি আগেই ঢাকায় ফিরছেন।

বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত। যদিও আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র প্রস্তুত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। তবে বৃহস্পতিবার দিনজুড়ে বঙ্গভবনে এক ধরনের বিদায়ের আবহ বিরাজ করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও এ বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা দেখা গেছে।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সে হিসেবে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিল মাসে। কিন্তু মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি দায়িত্ব ছাড়তে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে পদত্যাগের পর সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সরকারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ রাষ্ট্রপতির পদ কখনো দীর্ঘ সময় শূন্য রাখা যায় না। ফলে স্পিকারের অস্থায়ী দায়িত্ব গ্রহণ এবং পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া সংবিধান অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে সরকারিভাবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না এলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সরকার রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে বলেনি। তিনি যদি ব্যক্তিগত বা স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করতে চান, সেটি তার সাংবিধানিক অধিকার। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত জানতে শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত।

এদিকে বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে তারা কোনো তাড়াহুড়া করতে চায় না। সংবিধানে নির্ধারিত ৯০ দিনের সময়সীমার মধ্যেই প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ততদিন স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক বিতর্কও আবার আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় তার সাংবিধানিক ভূমিকা এবং পরে শেখ হাসিনার পদত্যাগ প্রসঙ্গে দেওয়া এক সাক্ষাৎকার নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সময় তার পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনের আন্দোলনও হয়েছিল। যদিও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে তিনি দায়িত্বে বহাল ছিলেন।

চলতি বছর জাতীয় সংসদ গঠনের পরও রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি। সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনা এবং ওয়াকআউট রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছিল। ফলে দায়িত্ব পালনকালজুড়েই তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। যদিও জুলাই জাতীয় সনদে গোপন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং সংসদের দুই কক্ষের সদস্যদের অংশগ্রহণের প্রস্তাব রয়েছে, তবে সংবিধান সংশোধন না হওয়ায় এখনো সেই ব্যবস্থা কার্যকর হয়নি। ফলে বিদ্যমান সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ীই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক অধ্যায়। পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনআস্থা আরও শক্তিশালী হবে। এখন সবার দৃষ্টি থাকবে রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে এবং এরপর স্পিকার ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কীভাবে এগিয়ে যায়, তার ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত