সর্বশেষ :

মাতামুহুরী কলেজের জমি উদ্ধারে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
  • ১১ বার
মাতামুহুরী কলেজের জমি উদ্ধারে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় সরকারি মাতামুহুরী কলেজের দুই একর জমি জবরদখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে শিক্ষা অঙ্গন। কলেজের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে কলেজের মূল্যবান সরকারি জমির একটি অংশ অবৈধভাবে দখলে রাখা হলেও প্রশাসনিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় পাঁচ দফা দাবিতে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান এবং ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ঘোষণা করেছেন তারা। দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) লামা উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে ‘শিক্ষার আঙিনায় ভূমিদস্যুতা কেন? জেগে ওঠো লামা ছাত্র-জনতা’ স্লোগানে শত শত শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংহতি প্রকাশ করেন। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল কলেজের জমি উদ্ধারের দাবিসংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার। পুরো কর্মসূচিতে কলেজের জমি রক্ষার দাবিতে প্রতিবাদী স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা।

মানববন্ধনে কলেজের শিক্ষক আব্দুল মোনায়েম, রফিকুল ইসলাম, আক্তার কামাল, শামসুল আলম, ইয়াসির আরাফাত, মনজুর ই এলাহী এবং সুমাইয়া আক্তার উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। এছাড়া কলেজ শিক্ষার্থী ও কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি তাওহীদুল ইসলাম তুষার এবং সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, উপজেলার ৩০৫ নম্বর গজালিয়া মৌজার ১৭০ নম্বর হোল্ডিংভুক্ত সরকারি মাতামুহুরী কলেজের নামে মোট পাঁচ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই একর জমি মো. সুমন ওরফে চান্দা সুমন জবরদখল করে রেখেছেন বলে তারা দাবি করেন। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে এ জমি উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন, অভিযোগ এবং প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ফল পাওয়া যায়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, গত মার্চ মাস থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত কলেজের জমি উদ্ধারের বিষয়ে নানা আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তাদের দাবি, একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি দখল হয়ে থাকা শুধু কলেজের জন্য নয়, পুরো এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যও হুমকিস্বরূপ। তাই আর কোনো ধরনের বিলম্ব না করে প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। তারা আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কলেজের জবরদখলকৃত দুই একর জমি উদ্ধার করে কলেজ কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। উদ্ধারকৃত জমিতে স্থায়ী সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং কলেজের নামসংবলিত সাইনবোর্ড পুনঃস্থাপনেরও দাবি করেন তারা।

এছাড়া আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হুমকি বা হয়রানি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। কলেজের বিরুদ্ধে করা হয়রানিমূলক পাল্টা মামলাগুলো প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে জমি দখলের সময় অভিযোগ দায়েরের পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার জবাবদিহিতা দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।

শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়িত না হলে কলেজে অনির্দিষ্টকালের জন্য তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। কোনো ধরনের ক্লাস, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা কিংবা প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি কলেজের অধ্যক্ষকে দায়ী করে তার বাসভবন অবরোধ এবং শিক্ষকদের অফিসে প্রবেশে বাধা দেওয়ার কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করা হয়।

তারা আরও জানান, প্রয়োজনে লামা-চকরিয়া মহাসড়কসহ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ অবরোধ করা হবে। প্রশাসনিক কার্যালয় ঘেরাও, লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি এবং অনশনসহ আরও কঠোর কর্মসূচি পালনেরও ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। তাদের ভাষ্য, কলেজের জমি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই।

মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রী এবং বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপিতে কলেজের জমি উদ্ধারে জরুরি প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

এ বিষয়ে লামা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের দেওয়া স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, বিষয়টি আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি রক্ষা করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা গেলে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ কমবে এবং শিক্ষা কার্যক্রমও স্বাভাবিক থাকবে। তারা মনে করেন, প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই বর্তমান পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত