সর্বশেষ :
প্রধান শিক্ষকের কুৎসিত রূপ: চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ নড়াইলে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে ইউপি সদস্য খুন, এলাকায় উত্তেজনা বিয়ের তিন দিন পর সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরল নবদম্পতির স্বপ্ন রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য সংকট, চিকিৎসকদের পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান ফখরুলের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার হাসনাত আবদুল্লাহর রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তার দাবি নাহিদের, নতুন বিতর্ক রাজনীতিতে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রস্তুতি, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নজর দেশের গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত স্পিকার-ইসির ভূতুড়ে প্রতিষ্ঠানের নামে টিআর বরাদ্দ, উঠছে অনিয়মের অভিযোগ

গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত স্পিকার-ইসির

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
  • ১৪ বার
গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত স্পিকার-ইসির

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ভবিষ্যৎ সংসদ সদস্যপদ নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে দলটি। তবে শুধু দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলেই সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে না। বিষয়টি এখন স্পিকারের সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে পৃথক দুটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দলীয়ভাবে তদন্ত পরিচালনা করা হয়। তদন্তে তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করে দলটি। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বিষয়টি রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করা হয়েছে।

জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দলীয় তদন্ত ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের পর বিষয়টি স্পিকার এবং নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। এখন সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের।

দলীয় সূত্র জানায়, গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হয়নি। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাদের ভাষ্য, বহিষ্কারের মাধ্যমে দলের দায়িত্ব শেষ হয়েছে। এখন সংসদ সদস্য পদে থাকা বা না থাকার বিষয়টি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

এদিকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ এবং সংসদ সদস্য পদ নিয়ে চলমান বিতর্কের বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলামের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। একাধিকবার ফোন করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। হোয়াটসঅ্যাপেও যোগাযোগের চেষ্টা করে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক সময়ে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলে জামায়াত দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ‘পর্দা লঙ্ঘনের’ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। পরে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দল থেকে বহিষ্কার এবং সংসদ সদস্য পদ হারানো দুটি পৃথক বিষয়। বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য যদি নিজ দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তাহলে তার আসন শূন্য হবে। কিন্তু দল যদি কোনো সদস্যকে বহিষ্কার করে, সেই ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হবে কি না, সে বিষয়ে সংবিধানে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই। ফলে বিষয়টি একটি সাংবিধানিক ব্যাখ্যার প্রশ্ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কোনো সংসদ সদস্যের পদ নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে প্রথম সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার স্পিকারের। যদি স্পিকার মনে করেন যে বিষয়টি সাংবিধানিক ব্যাখ্যার প্রয়োজন, তাহলে তিনি তা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে পাঠাতে পারেন। এরপর নির্বাচন কমিশন শুনানি এবং আইনগত পর্যালোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত দেবে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ সাংবাদিকদের বলেন, শুধু কোনো রাজনৈতিক দলের বহিষ্কারের চিঠির ভিত্তিতে সংসদ সদস্য পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। জাতীয় সংসদের স্পিকার বা সংসদ সচিবালয় থেকে আনুষ্ঠানিক রেফারেন্স এলে সংবিধান, আইন এবং প্রযোজ্য বিধান পর্যালোচনা করে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, একজন সংসদ সদস্যকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং সে তথ্য নির্বাচন কমিশন ও স্পিকারকে জানানো হয়েছে। এখন কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেটি সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিষয়। দল তার নৈতিক দায়িত্ব পালন করেছে।

এদিকে সাতক্ষীরা-৪ আসন ভবিষ্যতে শূন্য ঘোষণা করা হলে সম্ভাব্য উপনির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে জামায়াত। দলীয় সূত্র বলছে, আসনটি শূন্য হলে স্থানীয় নেতাকর্মী, রুকন, যুব ও মহিলা বিভাগের মতামতের ভিত্তিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি প্যানেল কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পাঠানো হবে। সেখান থেকে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করবে।

সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী রাজনৈতিক ও নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি দলীয় শৃঙ্খলাজনিত বিষয় নয়; বরং এটি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা এবং সংসদ সদস্যের সাংবিধানিক অবস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি নজিরও তৈরি করতে পারে। এখন স্পিকার এবং প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক অঙ্গনের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত