রাষ্ট্রপতি পদত্যাগে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন: স্পিকার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
  • ১৬ বার
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন: স্পিকার

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে দেশজুড়ে চলমান আলোচনা ও রাজনৈতিক জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ব্যক্তিগত চিকিৎসা ও সফর শেষে থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে তিনি স্পষ্ট করেছেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তাঁর কাছে আগাম কোনো তথ্য নেই। তবে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে ৯০ দিনের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার দুপুরে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্পিকার এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রাজনৈতিক অঙ্গন এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যে আলোচনা চলছে, তার প্রেক্ষাপটে স্পিকারের বক্তব্য নতুন করে বিষয়টিকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন। ফলে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কিংবা এ–সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অগ্রগতির বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই। তিনি বলেন, দেশের বাইরে থাকায় কে কী করেছেন বা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সে বিষয়ে তাঁর কিছু জানা ছিল না। দেশে ফিরে এখন পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হওয়ার সুযোগ হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি যদি পদত্যাগ করেন, তাহলে পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে স্পিকার সংবিধানের বিধান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তিনি স্পিকারের উদ্দেশে লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। এরপর সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে। এটিই দেশের সাংবিধানিক বিধান এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে আলোচনা চলছে, সে বিষয়ে স্পিকার সতর্ক অবস্থান নেন। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে, তিনিও সেভাবেই বিষয়টি শুনেছেন। তবে রাষ্ট্রপতি কী সিদ্ধান্ত নেবেন, সে বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। তাই অনুমানের ভিত্তিতে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার কারণ সম্পর্কেও ব্যাখ্যা দেন স্পিকার। তিনি জানান, তাঁর দেশে ফেরার নির্ধারিত তারিখ ছিল ২৬ জুলাই। তবে ব্যক্তিগত প্রয়োজন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মেডিকেল চেকআপ নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পন্ন হওয়ায় তিনি দুই দিন আগে দেশে ফিরে আসেন। এই সফর সংক্ষিপ্ত করার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব কে পালন করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবেও স্পিকার সংবিধানের বিধান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। এটি দেশের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ এবং দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি নিজের স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত পত্রের মাধ্যমে স্পিকারের উদ্দেশে পদত্যাগপত্র প্রদান করতে পারেন। একইভাবে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা দায়িত্ব পালনে অপারগতা দেখা দিলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। বিভিন্ন মহল থেকে সম্ভাব্য পদত্যাগ, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে নানা বিশ্লেষণও সামনে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি এখনো রাজনৈতিক আলোচনা ও জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয়ে নির্ধারিত আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং সাংবিধানিক শূন্যতার কোনো সুযোগ সৃষ্টি হয় না।

এদিকে স্পিকারের সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরাকেও অনেকেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ-সংক্রান্ত আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করে দেখার চেষ্টা করেছেন। তবে স্পিকার নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর আগেভাগে দেশে ফেরার কারণ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত। এ বিষয়ে অন্য কোনো ব্যাখ্যার সুযোগ নেই বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে যতই আলোচনা চলুক না কেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো বিষয়কে নিশ্চিত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে স্পিকারের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ঘটলে সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে এবং সেই সময় পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক দায়িত্ব স্পিকারই পালন করবেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি এখন রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের দিকে। যদি পদত্যাগের মতো কোনো সাংবিধানিক ঘটনা ঘটে, তাহলে সংবিধানে নির্ধারিত বিধান অনুসরণ করে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং ৯০ দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে—স্পিকারের বক্তব্যে সেই সাংবিধানিক অবস্থানই আবারও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত