প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নোয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাস, মাদক ও অপরাধ দমনে পরিচালিত যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে অস্ত্র, গুলি ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে নয়জনকে আটক করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ ধরনের সমন্বিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পরিচালিত এই অভিযানে অংশ নেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), জেলা পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, বাংলাদেশ আনসার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) প্রতিনিধিরা। বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানকে সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্প এলাকায় পরিচালিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইন-শৃঙ্খলা অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অভিযান চলাকালে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের কাছ থেকে একটি একনলা বন্দুক, ১৬ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ২২টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সাতজন অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মাদক পাচার, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, মানবপাচার এবং বিভিন্ন ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে দীর্ঘদিন ধরেই নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল অপরাধচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা এবং ক্যাম্প এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত এ ধরনের অভিযান ক্যাম্প এলাকায় সন্ত্রাস, মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তিনি জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি, নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসকারী সাধারণ শরণার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধী চক্রকে বিচারের আওতায় আনা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তাই কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, গুলি ও মাদক জব্দ করে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অপরাধচক্রের অন্য সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে।
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মানবপাচার এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষের বসবাস এবং সীমান্তসংলগ্ন অবস্থানের কারণে এসব ক্যাম্পে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব, এপিবিএন, কোস্ট গার্ড এবং অন্যান্য সংস্থার সমন্বিত অভিযান অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানগুলো অস্ত্র ও মাদক চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়ক হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে।
সীমান্তবর্তী টেকনাফ ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অপরাধ দমনে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের মতে, সন্ত্রাস, মাদক ও অস্ত্রের বিস্তার রোধে ধারাবাহিক অভিযানই দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, এই অভিযানের মাধ্যমে শুধু অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারই নয়, অপরাধচক্রের কার্যক্রমও ব্যাহত করা সম্ভব হয়েছে। তদন্ত শেষে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অপরাধে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।