প্রেসক্লাব থেকে হাসপাতাল, ফের সংঘর্ষে শান্তা-আয়াস

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ২২ বার

প্রকাশ: ৫ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নতুন ধারা বাংলাদেশ (এনডিবি) এবং রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ শুধু প্রেসক্লাব চত্বরে সীমাবদ্ধ থাকেনি; আহতদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরও দুই পক্ষ আবার মুখোমুখি হয়। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার ধারাবাহিকতায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। গত শনিবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং শহীদদের নিয়ে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন ধারা বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানাকে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াস চড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর আগে গত ১ আগস্টও নতুন ধারা বাংলাদেশের কার্যালয়ে শান্তা ফারজানার ওপর হামলার অভিযোগ করেছিল দলটি। এসব ঘটনার প্রতিবাদ এবং পাল্টা অবস্থান জানাতে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করে দুই সংগঠন।

সন্ধ্যার দিকে কর্মসূচি চলাকালে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা দ্রুত ধাক্কাধাক্কি এবং হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি অল্প সময়ের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যেই একে অপরের ওপর হামলা চালান। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওগুলোর একটিতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে শান্তা ফারজানাও আ ন ম আয়াসকে মারধর করছেন। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, একপর্যায়ে আয়াস মাটিতে পড়ে গেলে একটি কালো রঙের লোহার পাইপ দিয়ে তাঁকে আঘাত করা হচ্ছে। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আয়াসও শান্তা ফারজানাকে পাল্টা আঘাত করছেন। তবে এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত ভিডিওগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেনি।

প্রেসক্লাব এলাকায় সংঘর্ষের পর আহতদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে গিয়েও উত্তেজনা থামেনি। অভিযোগ রয়েছে, ‘মঞ্চ-২৪’ নামে একটি সংগঠনের কিছু নেতা-কর্মী হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে আয়াসের সমর্থক পরিচয়ে নতুন ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী এবং শান্তা ফারজানার সঙ্গে আরেক দফা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

শান্তা ফারজানার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, হাসপাতালে তাঁদের একটি অংশকে ঘিরে রাখা হয় এবং বেশ কিছু সময় আটকে রাখা হয়েছিল। তাঁদের দাবি, পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হস্তক্ষেপ করে এবং পরে তাঁদের নিরাপদে বের করে আনে। যদিও মঞ্চ-২৪-এর পক্ষ থেকে এ অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় দুই পক্ষ পৃথক কর্মসূচি পালন করছিল। একপর্যায়ে তারা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

তবে সংঘর্ষে আহতদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আহতদের কয়েকজনকে চিকিৎসা দেওয়া হলেও তাঁদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও বিস্তারিত জানায়নি।

এ ঘটনায় আইনগত অগ্রগতির বিষয়েও এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। থানায় মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে কি না কিংবা কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সংঘর্ষের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আ ন ম আয়াস, শান্তা ফারজানা এবং নতুন ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কারও কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনার বিষয়ে তাঁদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো জানা যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাভাবিক হলেও তা সহিংসতায় রূপ নেওয়া উদ্বেগজনক। বিশেষ করে প্রকাশ্য স্থানে এবং পরে হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোও জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তবে যাচাই-বাছাই ছাড়া এসব ভিডিওকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত, ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর উচিত সংলাপ ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সংস্কৃতি গড়ে তোলা, যাতে জনসমক্ষে সহিংসতা আর না ঘটে।

ঘটনার পর জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সংশ্লিষ্ট এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা এবং দায়ীদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত