সর্বশেষ :
কক্সবাজারে ৪ পর্যটকের সাগরে প্রানহানি, এখনও নিখোঁজ ১ ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু অসুস্থ: উন্নত চিকিৎসায় বিএমইউতে স্থানান্তর রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বিড়ির বাজার দখল কেন্দ্রিক কোন্দলে বিএনপি অফিসে ভাঙচুর ‘ইশরাক পোষ্য কোটায় রাজনীতিতে এসেছেন, অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে’: নিলোফার চৌধুরী খুলনার দাকোপে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেক নিউজ নিয়ন্ত্রণে আইনি পদক্ষেপ ও বাকস্বাধীনতার ভারসাম্য চান তথ্যমন্ত্রী ‘ক্ষমতাহীন নাগরিকই শাসকদলের চাঁদাবাজির শিকার’: হাসনাত আবদুল্লাহ সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা: নিহত ১, আহত ৮ গাজীপুরে গভীর রাতে বিধ্বংসী আগুন: পুড়ল মসজিদ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নভেম্বরের শুরুতে স্কুল-কলেজে মিলতে পারে টানা ৩ দিনের ছুটি

আ.লীগকে মাফ করার কথা বলেননি জামায়াত নেতারা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪৩ বার
আ.লীগকে মাফ করার কথা বলেননি জামায়াত নেতারা
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু এবং অতীত রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও বিবৃতির মাধ্যমে এক নতুন রাজনৈতিক উত্তাপের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করে একটি তীব্র প্রতিবাদলিপি ও বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে দাবি করেছেন যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো দায়িত্বশীল বা শীর্ষস্থানীয় নেতা কখনো বিগত স্বৈরশাসন ও ফ্যাসিবাদী কার্যক্রমের সাথে জড়িত আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করে দেওয়ার বা মাফ করে দেওয়ার মতো কোনো কথা বলেননি। দেশের একটি স্বনামধন্য ও সুপরিচিত রাজনৈতিক দলের নীতিনির্ধারক নেতার পক্ষ থেকে আসা এই ধরনের একটি বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা প্রকৃত সত্য দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
এই পুরো বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে মূলত বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর একটি প্রকাশ্য বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আলোচনা সভায় বিএনপির এই শীর্ষ নেতা অংশ নেন। ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ভূমিকার প্রতি তীব্র ইঙ্গিত করে বলেন যে, দলটির কোনো এক শীর্ষ নেতা নাকি গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভুত্থান ও সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করে দেওয়া বা মাফ করে দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে উচ্চারণ করেছেন। বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতার এমন একটি স্পর্শকাতর ও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যেই দেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
রুহুল কবির রিজভীর এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিক্রিয়ায় দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, বিএনপি নেতার এই দাবি সম্পূর্ণ কাল্পনিক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বাস্তবতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে উল্লেখ করেন যে, জামায়াতে ইসলামীর কোনো কেন্দ্রীয় বা প্রান্তিক নেতা কখনো, কোনো সময়ে, কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগকে মাফ করে দেওয়া সংক্রান্ত এ ধরনের কোনো বক্তব্য প্রদান করেননি। জামায়াতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অসৎ উদ্দেশ্যে এবং রাজনৈতিক ফায়দা লোটার মানসেই কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা তথ্য উপাত্ত ছাড়াই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এই বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই ধরনের অসত্য বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
মাওলানা আব্দুল হালিম তাঁর বক্তব্যে আরও অত্যন্ত জোরালোভাবে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন যে, বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী যদি তাঁর দাবির সপক্ষে সামান্যতম সত্যতা পেয়ে থাকেন, তবে জামায়াতে ইসলামীর কোন শীর্ষ নেতা, ঠিক কখন, কোন স্থানে এবং কোন বিশেষ প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বক্তব্য প্রদান করেছেন, তার সুনির্দিষ্ট ও অকাট্য প্রমাণ অবিলম্বে জাতির সামনে প্রকাশ করুন। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মুখ থেকে এ ধরনের প্রমাণবিহীন এবং মনগড়া বক্তব্য কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখেই দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর একে অপরের সাথে আচরণ করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার এই অপচেষ্টা কস্মিনকালেও সফল হবে না বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিশেষে, জামায়াতে ইসলামীর এই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে অনুরোধ করেন যেন ভবিষ্যতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়া এবং তথ্যপ্রমাণহীন বক্তব্য প্রদান করা থেকে বিরত থাকা হয়। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার পরিবর্তে এ ধরনের অনভিপ্রেত বাগ্‌যুদ্ধ ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে অনাবশ্যক ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করতে পারে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বার্থে সকল রাজনৈতিক দলকেই আরও বেশি সহনশীল, দায়িত্বশীল এবং সত্যনিষ্ঠ হওয়ার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন, যা দেশের সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতা ও প্রত্যাশার সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com