রামিসা হত্যা মামলার শুনানির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৫ বার
রামিসা হত্যা মামলার শুনানির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে দাগ কেটে যাওয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল, চাঞ্চল্যকর এবং মর্মান্তিক শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিদের করা আপিলের ওপর উচ্চ আদালতে শুনানির সমস্ত প্রস্তুতি এখন সম্পূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দেশের বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে ন্যায়বিচার দ্রুত নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই মামলার শুনানি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি মাইলফলক হতে চলেছে। ফেনীর আলোচিত মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলা এবং মাগুরার চাঞ্চল্যকর আছিয়া হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির কার্যক্রম শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই এই রামিসা হত্যা মামলার শুনানির মূল কার্যক্রম সর্বোচ্চ আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের বিবেককে নাড়া দেওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার অবুঝ শিশু রামিসার পরিবার এবং দেশবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে উচ্চ আদালতের বিচারিক বেঞ্চে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সব মহলেই এখন গভীর প্রত্যাশা ও নজর তৈরি হয়েছে।
গত বুধবার সকালে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের অলিঅঙ্গনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট মহলের সামনে নিশ্চিত করেছেন দেশের বিজ্ঞ অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। এর আগে উচ্চ আদালতের উচ্চপর্যায়ের বিচারিক কার্যক্রমে হাইকোর্টের বিশিষ্ট বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত একটি দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অংশ হিসেবে মামলাটিতে স্টেট ডিফেন্স বা রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ করার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর কার্যালয়কে কঠোর নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। আদালতের সেই নির্দেশ পাওয়ার পরপরই গত ২৫ জুন এই বহুল আলোচিত মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হওয়া প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ ও অভিজ্ঞ আইনজীবী হাফিজুর রহমান খানকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে এই মামলার আইনি লড়াইয়ের সমস্ত প্রাথমিক ও দাপ্তরিক বাধা দূর হয়ে উচ্চ আদালতে শুনানির পথ উন্মুক্ত হয়।
আইন ও বিচারিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ মে নরপশু সোহেল রানা নিষ্পাপ শিশু রামিসাকে প্রথমে বর্বরোচিতভাবে ধর্ষণ করে এবং পরবর্তীতে তার মুখ চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় নির্মমভাবে হত্যা করে। এই নৃশংস ও পৈশাচিক অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে খুনি সোহেল রানাকে সম্পূর্ণভাবে ও প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছিল তার নিজের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। সমাজের সমস্ত মানবতা ও নৈতিকতাকে পদদলিত করে ঘটা এই অপরাধের ভয়াবহতা এবং গভীরতা গভীরভাবে বিবেচনা করে ঢাকার শিশু অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক মাসরুর সালেকীন অত্যন্ত ঐতিহাসিক ও দৃষ্টান্তমূলক এক রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না আক্তার—উভয়কেই সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। বিচারিক আদালতের এই যুগান্তকারী রায় ঘোষণার পরপরই দেশের সাধারণ মানুষ ও শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো স্বস্তি প্রকাশ করেছিল। রায়ের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পরই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই অপরাধীকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কুখ্যাত কনডেম সেলে প্রেরণ করা হয়, যেখানে তারা বর্তমানে অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাদের অপরাধের পরিণতির অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছে।
বিচারিক আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডিত আসামিরা কনডেম সেলে বসেই আইনগত অধিকার বলে দ্রুত জেল আপিল দায়ের করেছিলেন। নিয়মানুযায়ী বিচারিক আদালত কর্তৃক কোনো আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হলে সেই মামলার রায়ের অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স উচ্চ আদালতে প্রেরণ করতে হয়। সেই ধারাবাহিকতায় রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স নথি উচ্চ আদালতে আসার পর থেকেই রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। শিশু রামিসার ওপর চালিত ওই অমানবিক নির্যাতন এবং পরবর্তী সময়ে তাকে হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের পেছনের প্রতিটি লোমহর্ষক বিবরণ উচ্চ আদালতের শুনানির সময় বিস্তারিতভাবে উপস্থাপিত হবে। দেশবাসীর পাশাপাশি শিশুটির হতভাগ্য মা-বাবা এবং আত্মীয়স্বজনরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছেন কবে উচ্চ আদালতের এই বেঞ্চে চূড়ান্ত শুনানি শুরু হবে এবং অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি আদালতের মাধ্যমে চিরতরে বহাল থাকবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এই মামলার রায় এবং তার উচ্চ আদালতের ডেথ রেফারেন্স শুনানি দেশের শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দায়িত্বশীল মহলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, চাঞ্চল্যকর এই মামলাটির শুনানির জন্য রাষ্ট্রপক্ষ সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছে। সমাজে শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধের হার চিরতরে কমিয়ে আনতে এবং অপরাধীরা যাতে কোনোভাবেই ফাঁকফোকর দিয়ে আইনের হাত থেকে রেহাই না পায়, সে বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ অত্যন্ত শক্ত ও আপসহীন অবস্থান গ্রহণ করেছে। ফেনীর বহুল আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলা এবং মাগুরার আছিয়া হত্যা মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির কার্যক্রম শেষ হওয়ার ঠিক পরেই যখন রামিসা হত্যা মামলার শুনানি শুরু হবে, তখন তা দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে শিশু অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। অবুঝ শিশু রামিসার আত্মা শান্তি পাক এবং দেশের বিচার ব্যবস্থায় দ্রুততম সময়ে এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত ও ন্যায়সঙ্গত নিষ্পত্তি হোক—এখন এটিই সমগ্র দেশবাসীর অন্তরের তীব্র দাবি ও প্রত্যাশা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত