স্থানীয় বাসিন্দা, আশপাশের প্রতিবেশী এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অত্যন্ত প্রাথমিক ও বিশদ তথ্যানুযায়ী জানা গেছে যে, মর্মান্তিক এই মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে মূলত মিতালি আবাসিক এলাকার একশ এগারো নম্বর বহুতল আবাসিক বাসায়। ওই বাড়ির মূল স্বত্বাধিকারী এবং স্থানীয় মুরুব্বি হিসেবে এলাকার সব মহলে অত্যন্ত পরিচিত, সজ্জন ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হাজী আব্দুস সত্তার মিয়া এবং তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুনামের সাথে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন। বুধবার সকালে যখন দীর্ঘ সময় ধরে ওই বাড়ির ভেতর থেকে কোনো ধরনের সাড়াশব্দ বা আলোড়নী পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন আশপাশের লোকজনের মনে তীব্র সন্দেহ ও আশঙ্কার সৃষ্টি হয়। প্রতিবেশীরা বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার একপর্যায়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরবর্তীতে পুলিশ, গোয়েন্দা শাখা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্য দায়িত্বশীল সদস্যরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন এবং বাড়ির মূল গেট ও দরজা ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করেন। ভেতর থেকে হাজী আব্দুস সত্তার মিয়া, তাঁর সহধর্মিণী এবং তাঁদের বাসাবাড়ির দৈনন্দিন কাজে নিয়োজিত একজন গৃহপরিচারিকার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘরের বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক অবস্থা, আসবাবপত্রের বিন্যাস এবং প্রাথমিক আলামত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো ঘটনাটিকে অত্যন্ত রহস্যজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং বিষয়টি অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও নিখুঁত দক্ষতার সাথে তদন্ত করে দেখছে।
হাজী আব্দুস সত্তার মিয়া স্থানীয় এলাকায় একজন অত্যন্ত সজ্জন, ধর্মভীরু ও বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে সকলের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত থাকায় তাঁর ও তাঁর পরিবারের এই ধরনের আকস্মিক, অস্বাভাবিক ও করুণ মৃত্যু কেউ সহজে মেনে নিতে পারছেন না। ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই সিলেটের উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাগণ, অপরাধ তদন্ত বিভাগের ক্রাইম সিন ইউনিট এবং বিশেষায়িত গোয়েন্দা দলের প্রতিনিধিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ঘরের বন্ধ দরজা ও জানালার প্রকৃত অবস্থা, মরদেহের শরীরের বিভিন্ন অংশের ক্ষত বা আঘাতের চিহ্ন এবং চারপাশের অন্যান্য আলামত অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সাথে এটি কোনো সুপরিকল্পিত ও ঠান্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো আকস্মিক বিষক্রিয়া বা রহস্যজনক ঘটনা রয়েছে, তা বৈজ্ঞানিক উপায়ে উদঘাটনের জন্য ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি বিশেষ দলও ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেছে। ময়না তদন্তের জন্য মৃতদেহগুলো দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণের সর্বাত্মক প্রক্রিয়া চলছে। হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে ময়না তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে আসার পরই মৃত্যুর আসল ও সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়েছে।
এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর সিলেটের ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই মিতালি আবাসিক এলাকা এবং এর আশপাশের পুরো অঞ্চলে এক ধরনের থমথমে, থমকে যাওয়া ও আতঙ্কজনক পরিবেশ বিরাজ করতে শুরু করেছে। এলাকার শত শত সাধারণ মানুষ ঘরের বাইরে এসে রাস্তায় ও গলির মুখে ভিড় জমাচ্ছেন এবং এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠিত, অভিজাত ও পরিচিত পরিবারে কীভাবে এমন রহস্যজনক ও ужаসজনক ঘটনা ঘটতে পারে, তা নিয়ে একে অপরের সাথে নানা বিশ্লেষণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে অত্যন্ত জোরালোভাবে জানানো হয়েছে যে, এই স্পর্শকাতর ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কিংবা এর পেছনের প্রকৃত সত্য বের করতে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সাহায্য নেওয়া হচ্ছে এবং বাড়ির আশপাশের বিভিন্ন পয়েন্টে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করার কাজ পুরোদমে চলছে। নিহতের নিকটাত্মীয় ও স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের সুনির্দিষ্ট মতামত, পূর্বের কোনো বিরোধের ইতিহাস বা অন্য কোনো তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অবুঝ ও রহস্যঘেরা এই মৃত্যুর নেপথ্যে থাকা প্রতিটি ধোঁয়াশা খুব দ্রুতই উদ্ঘাটিত হবে এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত দৃঢ় আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে।