সর্বশেষ :
কক্সবাজারে ৪ পর্যটকের সাগরে প্রানহানি, এখনও নিখোঁজ ১ ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু অসুস্থ: উন্নত চিকিৎসায় বিএমইউতে স্থানান্তর রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বিড়ির বাজার দখল কেন্দ্রিক কোন্দলে বিএনপি অফিসে ভাঙচুর ‘ইশরাক পোষ্য কোটায় রাজনীতিতে এসেছেন, অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে’: নিলোফার চৌধুরী খুলনার দাকোপে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেক নিউজ নিয়ন্ত্রণে আইনি পদক্ষেপ ও বাকস্বাধীনতার ভারসাম্য চান তথ্যমন্ত্রী ‘ক্ষমতাহীন নাগরিকই শাসকদলের চাঁদাবাজির শিকার’: হাসনাত আবদুল্লাহ সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা: নিহত ১, আহত ৮ গাজীপুরে গভীর রাতে বিধ্বংসী আগুন: পুড়ল মসজিদ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নভেম্বরের শুরুতে স্কুল-কলেজে মিলতে পারে টানা ৩ দিনের ছুটি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৮ বার
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন
প্রকাশ: ১২ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের রাজনীতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ পদের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। দেশের রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পর সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান বেছে নিতে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে সমস্ত প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে। জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে আগামী বিশ আগস্ট অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনার এই শীর্ষ পদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোর তৎপরতায় সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে অত্যন্ত গতিশীল। দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংসদের ভেতরে ও বাইরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাঞ্চল্য।
ঘোষিত তফসিলে জানানো হয়েছে যে, আগামী বিশ আগস্ট দুপুর দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে জাতীয় সংসদ ভবনের মূল অধিবেশন কক্ষে ভোটাভুটি সম্পন্ন হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে, যা আগামী সাতাশ আগস্ট বসার কথা রয়েছে। তবে তার আগেই রাষ্ট্রপতির শূন্য পদ পূরণের এই বিশেষ নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সমস্ত প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদের সম্মানিত সদস্যগণ সরাসরি গোপন বা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন করবেন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যেই সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপিতে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নীতি নির্ধারণী মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। দলের ভেতর থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব ও পরীক্ষিত ব্যক্তিত্বদের মধ্য থেকেই কাউকে এই পদে আসীন করার জোরালো গুঞ্জন রয়েছে। দলীয় সূত্রে প্রকাশ পেয়েছে যে, দলের শীর্ষপর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত সকলের আস্থার প্রতীক এমন একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে এই পদে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে, যিনি দেশের সংবিধান রক্ষা এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করতে পারবেন। ক্ষমতাসীন দলের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল এবং দলের ভেতরেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠেছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন মুখ আসার পাশাপাশি প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক বিন্যাসেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও এই নির্বাচনে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেছে। সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা জোটের পক্ষ থেকেও রাষ্ট্রপতি পদে নিজস্ব প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন যে, বর্তমান সংসদে ক্ষমতাসীন দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত জেনেই বিরোধী পক্ষ প্রতীকী বা প্রতিযোগিতামূলক অংশগ্রহণের অংশ হিসেবে প্রার্থী দিয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন পর দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কিছুটা হলেও রাজনৈতিক উত্তাপ ও বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দুই পক্ষের এমন সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে দেশের সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলের নজর এখন পুরোপুরি সংসদ ভবনের ভেতরের এই নির্বাচনি প্রক্রিয়ার দিকে নিবদ্ধ রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই সামগ্রিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সমীকরণ দেশের আগামী দিনের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাংবিধানিক এই গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য যিনি বা যারা চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হবেন, তাদের ওপর দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার বড় ধরনের দায়িত্ব থাকবে। নির্বাচন কমিশনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত দিনে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে এই নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে সংশ্লিষ্ট সকলে আশা প্রকাশ করছেন। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের এই নানামুখী আলোচনার মাঝেই এখন সকলের দৃষ্টি আগামী দিনের চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com