আগামী সপ্তাহেই দিল্লি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩ বার

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর ঘিরে ঢাকা ও নয়াদিল্লিতে কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহের শেষ ভাগে অথবা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে নয়াদিল্লি যেতে পারেন তারেক রহমান। তবে সফরের চূড়ান্ত তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য সফরকে সামনে রেখে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে প্রস্তুতি চলছে। সফর হলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো সফর নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। কর্মকর্তারাও নাম প্রকাশ করে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফলে সম্ভাব্য সফরের সময়সূচি ও কর্মসূচি এখনো পরিবর্তন হতে পারে।

মোদি-তারেক বৈঠক ঘিরে আগ্রহ

তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর হলে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এটিই হবে তার প্রথম সরাসরি বৈঠক। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ককে নতুন বাস্তবতায় এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এ বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

সফরটি দুই দিনের দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচি হিসেবে আয়োজনের পরিকল্পনা চলছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয় আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস আউটরিচ সেশনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গ

ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যান। এরপর থেকে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের একটি ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর ঢাকার পক্ষ থেকে তাকে ভারতের কাছে হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছে। ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হচ্ছে।

চলতি মাসের শুরুতে দিল্লিতে শেখ হাসিনার একটি ভার্চ্যুয়াল মতবিনিময়কে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। ঢাকা এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে। ফলে সম্ভাব্য মোদি-তারেক বৈঠকে প্রত্যর্পণ ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পানি, বাণিজ্য ও সীমান্তও আলোচনায়

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় ইস্যুগুলোও আলোচনায় আসতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য, ট্রানজিট, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ।

অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। ফলে চুক্তির ভবিষ্যৎ এবং নবায়ন নিয়েও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ সীমান্ত এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগনির্ভর সম্পর্কের কারণে রাজনৈতিক সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখা উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান দিল্লির কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, তাকে ফেরত পাঠানোর দাবি এবং সীমান্তসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়।

তবে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই দেশই সম্পর্ককে কার্যকর যোগাযোগের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। গত এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। সম্প্রতি ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনারও তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

এই ধারাবাহিক যোগাযোগের পর সম্ভাব্য ভারত সফরকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে একটি সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সব অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান হবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। বরং সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে জটিল বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিত আলোচনার পরিবেশ তৈরি করাই হতে পারে এই সফরের বড় অর্জন।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহের শেষ ভাগে অথবা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তারেক রহমানের দিল্লি সফর হতে পারে। সফরের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ভর করছে দুই দেশের আলোচনার ওপর। সম্ভাব্য এই সফর বাস্তবায়িত হলে তা নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত