দীর্ঘদিন সাগরে, হতাশ মার্কিন রণতরীর নাবিকরা

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৩ বার

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস অ্যাব্রাহাম লিংকনের ক্রু ও নাবিকদের মধ্যে মানসিক চাপ ও হতাশা বাড়ছে বলে মার্কিন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদি মোতায়েনের কারণে জাহাজটির রসদ সরবরাহ ব্যবস্থাতেও নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতির মধ্যে লিংকনের স্থলাভিষিক্ত করতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করা ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, একটি ক্রুজার ও একটি ডেস্ট্রয়ারসহ ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন গত সপ্তাহে ভিয়েতনামের দানাং বন্দর ত্যাগ করেছে। এরপর রণতরী বহরটিকে সিঙ্গাপুর ও মালাক্কা প্রণালি অতিক্রম করে ভারত মহাসাগরের দিকে যেতে দেখা গেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক উপস্থিতির অংশ হিসেবেই ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে পাঠানো হচ্ছে। মূলত দীর্ঘ সময় ধরে মোতায়েন থাকা ইউএসএস অ্যাব্রাহাম লিংকনের দায়িত্বভার নেওয়ার কথা রয়েছে নতুন রণতরীটির।

২৬০ দিনের বেশি মোতায়েনে চাপ

সাধারণ পরিস্থিতিতে মার্কিন নৌবাহিনীর রণতরীগুলো ছয় থেকে নয় মাসের মিশনে মোতায়েন থাকে। কিন্তু চলমান সংঘাতের কারণে ইউএসএস অ্যাব্রাহাম লিংকনের মোতায়েনের সময় ২৬০ দিনেরও বেশি বাড়ানো হয়েছে। আধুনিক মার্কিন নৌ ইতিহাসে এটিকে অন্যতম দীর্ঘ সময়ের রণতরী মোতায়েন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রায় ৫ হাজার ক্রু ও নাবিক নিয়ে পরিচালিত জাহাজটিতে দীর্ঘদিন সমুদ্রে থাকার কারণে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়েছে বলে নেভি টাইমস ও স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কয়েকজন নাবিক জাহাজ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় নাবিকদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রসদ সরবরাহেও সংকট

দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে ঐতিহ্যবাহী সরবরাহকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় লিংকনে প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহেও সমস্যা তৈরি হয়েছিল বলে মার্কিন নৌবাহিনী স্বীকার করেছে।

খাবার ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি দেখা দিলে জাহাজের নেতৃত্ব প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে। নৌবাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে খাবার, এরপর পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী এবং সবশেষে চিঠিপত্র সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

তবে বর্তমানে নাবিকদের জন্য পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি ও পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক

রণতরীটির পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, বিষয়টি ‘সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে’। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিটি জাহাজ, ক্রু ও ক্যাপ্টেনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তবে প্রতিরক্ষা সচিবের বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন ডেমোক্র্যাটিক দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা। কানেকটিকাটের সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল নৌবাহিনীর কাছে জবাবদিহিতা চেয়ে চিঠি দিয়েছেন।

অ্যারিজোনার সিনেটর এবং সাবেক মেরিন রুবেন গ্যালেগো নাবিকদের পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখার জন্য একটি নিরপেক্ষ প্রতিনিধি দল নিয়ে রণতরীটি পরিদর্শনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে নাবিকদের এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করানোকে তিনি বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতি আরও দীর্ঘ?

ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা কিছুটা কমলেও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে মার্কিন সামরিক তৎপরতাও বহাল রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পেন্টাগন এখনো সংঘাতের সমাপ্তি নিয়ে বিস্তারিত কোনো রূপরেখা প্রকাশ করেনি। ফলে ইউএসএস অ্যাব্রাহাম লিংকনের পরিবর্তে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

একদিকে দীর্ঘ মোতায়েনের কারণে নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ, অন্যদিকে রসদ সরবরাহের জটিলতা—দুই মিলিয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য ইউএসএস অ্যাব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘ মিশন এখন বড় ধরনের ব্যবস্থাপনাগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত