ভারতে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ ডাক সোনমের

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৭ বার

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচনের পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। দেশকে আরও উন্নত ও সম্মানজনক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি নাগরিকদের নিয়ে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন’ শুরু করার ডাক দিয়েছেন।

সোনম ওয়াংচুকের মতে, ভারতের রাজনীতিতে সৎ, সাহসী ও নিঃস্বার্থ নেতৃত্বের প্রয়োজন রয়েছে। দেশের ভবিষ্যৎকে আরও শক্তিশালী করতে এমন মানুষদের খুঁজে বের করতে হবে, যারা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের জন্য কাজ করতে সক্ষম।

তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের অনেক সাংসদের বিরুদ্ধেই খুন, অপহরণসহ গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা এখন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

ওয়াংচুকের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের মান, জবাবদিহি এবং জনসম্পৃক্ততার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন প্রয়োজন।

এই পরিবর্তনের পথ কী হতে পারে, তা নিয়ে দেশের সৎ ও সচেতন নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনা করতে চান তিনি। তাঁর মতে, শুধু বুদ্ধিজীবী বা বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষকেও এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে হবে।

এ জন্য নাগরিকদের নিজ নিজ এলাকা থেকে যোগ্য, সৎ ও জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের নাম প্রস্তাব করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রত্যাশা, তৃণমূল পর্যায় থেকে যোগ্য নেতৃত্ব উঠে এলে ভারতের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

ওয়াংচুকের এই আহ্বান এমন সময়ে এসেছে, যখন ভারতের রাজনীতি ও নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক চলছে। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলাগুলোও দীর্ঘদিন ধরে দেশটির জনপরিসরে আলোচিত একটি বিষয়।

রাজনৈতিক সংস্কারের আহ্বানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। সম্প্রতি পরীক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।

ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনরত এক ছাত্রনেতার আমরণ অনশনেও তিনি সমর্থন প্রকাশ করেছেন। শিক্ষাব্যবস্থা, পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং তরুণদের অধিকার নিয়ে তাঁর অবস্থানও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় এসেছে।

সোনম ওয়াংচুকের ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন’-এর আহ্বানের মূল লক্ষ্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের গুণগত পরিবর্তন ঘটানো। তাঁর বক্তব্যে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, সৎ নেতৃত্ব নির্বাচন এবং রাজনৈতিক জবাবদিহির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে এই ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন বাস্তবায়নে শুধু আহ্বান যথেষ্ট নয়। নির্বাচনব্যবস্থা, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, প্রার্থীদের জবাবদিহি এবং অপরাধমূলক মামলার তথ্য প্রকাশের মতো বিষয়েও কার্যকর সংস্কারের প্রয়োজন হতে পারে।

সোনম ওয়াংচুকের আহ্বান শেষ পর্যন্ত ভারতের রাজনৈতিক পরিসরে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে তাঁর বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার জন্য সাধারণ নাগরিকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা থাকা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com