লাতিন আমেরিকায় স্থল অভিযানের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪ বার

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

লাতিন আমেরিকায় মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে এবার স্থলপথে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, মাদক চোরাচালানকারী চক্রগুলোকে নির্মূল করতে সমুদ্রপথের অভিযানের পাশাপাশি স্থলভাগেও সরাসরি অভিযান চালানো হতে পারে।

পানামায় একটি সামরিক মহড়া পরিদর্শনের সময় তিনি এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লড়াই এখন আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র মূলত সমুদ্রে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালিয়েছে। নতুন পরিকল্পনায় ইকুয়েডর, কলম্বিয়াসহ লাতিন আমেরিকার কয়েকটি মিত্র দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থলভাগেও অভিযান পরিচালনার বিষয়টি সামনে এসেছে।

হেগসেথ মাদক পাচারকারী সংগঠনগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছেন। তিনি এসব গোষ্ঠীকে আইএস ও আল-কায়েদার মতো সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন পিছপা হবে না।

মার্কিন নেতৃত্বাধীন এই মাদকবিরোধী উদ্যোগে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ১৯টি দেশ যুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব দেশের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং মাদক পাচার প্রতিরোধে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে ওয়াশিংটনের।

তবে এই জোটে মেক্সিকো নেই। দেশটিতে বড় বড় মাদক চক্রের সক্রিয় উপস্থিতি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই সামরিক উদ্যোগে মেক্সিকোর অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি।

মাদকবিরোধী মার্কিন সামরিক অভিযান নিয়ে এরই মধ্যে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত বছর সমুদ্রে পরিচালিত মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত ২১৫ জন নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে এসব সংগঠন সামরিক পদক্ষেপের বৈধতা ও বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

সমালোচকদের আশঙ্কা, স্থলপথে সামরিক অভিযান শুরু হলে প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর যৌথ অভিযান কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে মানবাধিকার ও আইনি প্রশ্নও সামনে আসতে পারে।

তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এসব সমালোচনায় নীতিগতভাবে পিছু হটার কোনো ইঙ্গিত দেননি। বরং মাদক পাচারকারী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার পক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

ওয়াশিংটনের এই নতুন কৌশল বাস্তবায়িত হলে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের মাদকবিরোধী সামরিক তৎপরতার ধরন উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। এতদিন সমুদ্রপথে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হলেও এবার স্থলভাগে সরাসরি অভিযান শুরু হলে এর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাবও পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক পাচার দমনে আঞ্চলিক দেশগুলোর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সামরিক শক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, গোয়েন্দা সহযোগিতা, অর্থপাচার বন্ধ এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, পিট হেগসেথের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র লাতিন আমেরিকায় মাদকবিরোধী অভিযানকে আরও কঠোর ও বিস্তৃত করতে চাইছে। স্থলপথে অভিযান শুরু হলে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে এবং এর মানবিক ও রাজনৈতিক মূল্য কতটা হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত