ঘুষের উদাহরণ টেনে শিক্ষার গুরুত্ব বোঝালেন হাসনাত

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫ বার
ঘুষের উদাহরণ টেনে শিক্ষার গুরুত্ব বোঝালেন হাসনাত

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে ব্যতিক্রমী ও আলোচিত একটি উদাহরণ দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এমনকি সমাজের নেতিবাচক বাস্তবতার উদাহরণ টানলেও শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাঁর বক্তব্যে ব্যবহৃত ‘ঘুষ’ প্রসঙ্গটি নিয়ে আলোচনা তৈরি হলেও মূল বক্তব্য ছিল শিক্ষার মাধ্যমে ব্যক্তি ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের গুরুত্ব।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থী ও উপস্থিতদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, জীবনে এগিয়ে যেতে হলে পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী হওয়ার বিকল্প নেই। একজন মানুষের জ্ঞান, দক্ষতা ও সামাজিক অবস্থান গঠনে শিক্ষার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তি জীবনের উন্নতির পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনেও শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শিক্ষার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, একজন অশিক্ষিত বা অদক্ষ ব্যক্তি সমাজে যে ধরনের গ্রহণযোগ্যতা বা সুযোগ পান, একজন শিক্ষিত ও দক্ষ ব্যক্তি অনেক ক্ষেত্রেই তার চেয়ে বেশি সুযোগ ও গুরুত্ব লাভ করেন। তবে বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি ঘুষের প্রসঙ্গ টেনে যে মন্তব্য করেন, সেটিই আলোচনার জন্ম দেয়।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এমনকি ঘুষের মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের উদাহরণ দিয়েও তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, সমাজে দক্ষতা, জ্ঞান ও শিক্ষার গুরুত্ব অনেক বেশি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একজন মূর্খ ব্যক্তি কোনো অনৈতিক সুবিধা চাইলে তা সহজে গ্রহণযোগ্যতা পায় না, কিন্তু সমাজের বাস্তবতায় শিক্ষিত ও ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা অনেক সময় নানা ধরনের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পান।

তবে তাঁর বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতি আরও মনোযোগী করে তোলা এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে উৎসাহ দেওয়া। তিনি বলেন, ভালো ফলাফল অর্জন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হলেও সেটিই জীবনের শেষ অর্জন নয়। শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে নিয়মিত পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং নতুন জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, একটি ভালো ফলাফল আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে, কিন্তু সেই সাফল্য ধরে রাখতে আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হয়। আগামী দিনের উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখন থেকেই শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।

তিনি বলেন, এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কিন্তু সামনে আরও দীর্ঘ পথ রয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং কর্মজীবনের জন্য প্রতিযোগিতা—সব ক্ষেত্রেই নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তাই বর্তমানের সাফল্যে থেমে না থেকে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে।

হাসনাত আবদুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, পড়াশোনায় ভালো করলে শুধু একজন শিক্ষার্থীই লাভবান হয় না; এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে পুরো পরিবারের ওপর। একটি পরিবারের সন্তান শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত হলে পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হয়।

তিনি বলেন, একজন মেধাবী ও সফল সন্তানের অর্জন বাবা-মায়ের জীবনেও স্বস্তি নিয়ে আসে। পরিবারের সদস্যরা উন্নত চিকিৎসা ও অন্যান্য সুযোগ গ্রহণের সক্ষমতা অর্জন করতে পারেন। তাই শিক্ষাকে শুধু পরীক্ষার ফলাফল বা সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; শিক্ষা মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ভালো ফলাফল অর্জনের পর আত্মতুষ্টিতে ভোগা যাবে না। নিয়মিত পড়াশোনা থেকে দূরে সরে গেলে একসময় অর্জিত সাফল্যের গুরুত্বও কমে যেতে পারে। শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং প্রতিটি ধাপে নিজেকে আরও দক্ষ করে তোলা জরুরি।

বর্তমান সময়ের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই যথেষ্ট নয় বলেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। প্রযুক্তি, যোগাযোগ, ভাষাজ্ঞান, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং নৈতিক মূল্যবোধ—এসব বিষয়েও শিক্ষার্থীদের দক্ষ হতে হয়। হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যেও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান উঠে আসে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের কথা শুনতে হবে এবং সমাজে যেসব অনিয়ম রয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন অবস্থান নিতে হবে। একটি উন্নত রাষ্ট্র গঠনে শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, সচেতন ও শিক্ষিত নাগরিকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণ প্রজন্মের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, দায়িত্ববোধ এবং দেশপ্রেমের চেতনা তৈরি হওয়া প্রয়োজন। ভবিষ্যতে যারা প্রশাসন, রাজনীতি, শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবেন, তাদের আজকের প্রস্তুতির ওপরই দেশের আগামী দিনের অনেক কিছু নির্ভর করবে।

বাংলাদেশে শিক্ষার বিস্তার এবং তরুণদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়লেও এখনো মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শহর ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের সুযোগের ব্যবধান, অর্থনৈতিক সংকট, ঝরে পড়া এবং প্রযুক্তিগত সুবিধার অসমতা এখনো অনেক শিক্ষার্থীর সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এসব বাস্তবতার মধ্যেও ভালো ফলাফল করা শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়।

নাঙ্গলকোটের অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ মূলত সেই সম্ভাবনাকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং ব্যক্তিগত উন্নতির পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের অগ্রগতির জন্যও শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

তবে ঘুষের উদাহরণ ব্যবহার করে দেওয়া তাঁর বক্তব্যের ভাষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ ঘুষ একটি অপরাধ এবং দুর্নীতির অন্যতম প্রধান উপাদান। শিক্ষা ও দক্ষতার গুরুত্ব বোঝাতে দেওয়া উদাহরণটি নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যাও সামনে আসতে পারে।

তবে অনুষ্ঠানে তাঁর সামগ্রিক বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করা, অর্জিত সাফল্য ধরে রাখা এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করা। তিনি তরুণদের অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি দেশের মানুষের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনার আহ্বান জানান।

একটি দেশের উন্নয়নের জন্য শিক্ষিত জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বড় শক্তি—এই বাস্তবতা সামনে রেখেই তিনি শিক্ষার্থীদের নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। ভালো ফলাফলকে শেষ গন্তব্য না ভেবে নতুন যাত্রার শুরু হিসেবে গ্রহণ করার কথাও বলেন তিনি।

বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সামনে প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তাই শুধু ভালো নম্বর নয়, একজন দায়িত্বশীল, দক্ষ ও সৎ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের আলোচিত অংশটি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাঁর মূল বার্তা ছিল স্পষ্ট—জীবনে এগিয়ে যেতে জ্ঞান ও শিক্ষার বিকল্প নেই। ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য তরুণ প্রজন্মকে নিয়মিত পড়াশোনা, দক্ষতা অর্জন এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার পথেই এগিয়ে যেতে হবে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আজকের শিক্ষার্থীদের ওপর। তাই তাদের সামনে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার লক্ষ্য নয়, জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের দায়িত্বও রয়েছে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায় ও সততার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এনসিপির এই নেতা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত