প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি কাজের কারণে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার দুটি এলাকায় সোমবার প্রায় সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ঝাউচর ও কান্দারগাঁও এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ থাকবে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর মেঘনাঘাট সাব-জোনাল অফিস থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সরবরাহ বন্ধ রাখা প্রয়োজন।
সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ঝাউচর ও কান্দারগাঁও এলাকার বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দৈনন্দিন কাজের জন্য বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল, তাদের আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। তবে কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করা হতে পারে। অন্যদিকে কারিগরি প্রয়োজন বা কাজের পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরিবর্তনও হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রাহকদের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার বিভিন্ন লাইন, যন্ত্রপাতি ও কারিগরি অংশ পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার না করলে ভবিষ্যতে আকস্মিক ত্রুটি দেখা দিতে পারে। এ কারণে সাময়িক অসুবিধা হলেও নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এই সাত ঘণ্টার বিদ্যুৎ বন্ধের সময়টি আগেভাগে জানা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যুৎ না থাকলে বাসাবাড়িতে পানির পাম্প, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে ছোট ব্যবসা ও দোকানপাটেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎনির্ভর যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়, তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে সীমিত হতে পারে। ফ্রিজ, ফ্রিজার বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়ীদেরও প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিতে হতে পারে। এ ছাড়া কম্পিউটার, ইন্টারনেট এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাজেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে।
তবে কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এই বিদ্যুৎ বন্ধ কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ত্রুটির কারণে নয়। জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের অংশ হিসেবেই পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে কাজ শেষ হওয়ার পর পুনরায় স্বাভাবিক সরবরাহ চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সাধারণত দীর্ঘমেয়াদে সেবার মান বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। বিদ্যুৎ লাইন ও বিভিন্ন কারিগরি সরঞ্জাম নিয়মিত পরীক্ষা করলে সম্ভাব্য ত্রুটি আগেভাগে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এতে বড় ধরনের যান্ত্রিক সমস্যা কিংবা আকস্মিক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঝুঁকি কমানো যায়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের সাময়িক এই অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে ঝাউচর ও কান্দারগাঁও এলাকার বাসিন্দাদের নির্ধারিত সময়ের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ না থাকার সময় বাসাবাড়িতে প্রয়োজনীয় পানি আগেই সংরক্ষণ করে রাখা যেতে পারে। বিদ্যুৎনির্ভর গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকলে সেগুলো নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করলে ভোগান্তি কমানো সম্ভব। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িক বন্ধ থাকার খবর জানার পর অনেক গ্রাহক তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম নতুন করে পরিকল্পনা করছেন। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের জন্য দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকা কিছুটা অসুবিধার কারণ হতে পারে।
বর্তমান সময়ে বিদ্যুৎ শুধু আলো জ্বালানোর মাধ্যম নয়, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে যুক্ত। পানি সরবরাহ, যোগাযোগ, শিক্ষা, ব্যবসা, চিকিৎসাসেবা এবং বিভিন্ন ডিজিটাল কার্যক্রম বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। ফলে পরিকল্পিতভাবে কয়েক ঘণ্টার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলেও এর প্রভাব বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনুভূত হতে পারে।
তবে নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের ক্ষেত্রে আগাম বিজ্ঞপ্তি গ্রাহকদের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার তুলনায় পূর্বঘোষিত সাময়িক বন্ধের সময় মানুষ প্রয়োজনীয় কাজের পরিকল্পনা করতে পারেন এবং সম্ভাব্য ভোগান্তি কমাতে ব্যবস্থা নিতে পারেন।
নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর মেঘনাঘাট সাব-জোনাল অফিস জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ আগেই চালু করা হতে পারে। আবার কারিগরি কাজের ধরন ও বাস্তব পরিস্থিতির কারণে সময় কিছুটা কম বা বেশি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর প্রতি কর্তৃপক্ষের আহ্বান, সাময়িক বিদ্যুৎ বন্ধের সময় ধৈর্য ধরে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু হওয়ার পর কোনো কারিগরি সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার প্রয়োজন হতে পারে।
সোমবারের এই পরিকল্পিত বিদ্যুৎ বন্ধ মূলত ঝাউচর ও কান্দারগাঁও এলাকার বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অংশ। কাজ শেষ হলে ওই দুই এলাকায় পুনরায় স্বাভাবিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।