প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
২০২৭ সালে পবিত্র হজ পালনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রাথমিক নিবন্ধনকারীর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মোট ১ হাজার ২১৭ জন হজযাত্রী প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধন করেছেন ৫২৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬৯৩ জন।
তবে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরও প্রত্যাশিত হারে সাড়া না পাওয়ায় নির্ধারিত হজ কোটা পূরণ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওমরাহ পালনের প্রবণতা বৃদ্ধি এবং হজের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এবার অনেকেই হজ নিবন্ধনের বিষয়ে অপেক্ষা করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পবিত্র হজ মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। সামর্থ্যবান মুসলমানদের জীবনে অন্তত একবার হজ পালন করার ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব সফর করেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হজ ব্যবস্থাপনা, যাতায়াত, আবাসন এবং অন্যান্য সেবার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অনেক পরিবারের জন্য হজের পরিকল্পনা আগের তুলনায় কঠিন হয়ে উঠেছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হজে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে এখন পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৫৯৩ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬০ হাজার ১২৯ জন প্রাক-নিবন্ধন করেছেন। প্রাক-নিবন্ধন এবং প্রাথমিক নিবন্ধন দুটি পৃথক ধাপ হওয়ায় বিপুলসংখ্যক প্রাক-নিবন্ধিত ব্যক্তি এখনো প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করেননি।
২০২৭ সালের হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত গাইডলাইন অনুযায়ী, হজ পালনে আগ্রহীদের প্রথমে জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা পাসপোর্টের মাধ্যমে প্রাক-নিবন্ধন করতে হয়। এ জন্য নির্ধারিত ৩০ হাজার টাকা জমা দিয়ে জাতীয় হজ ডাটাবেসে নিবন্ধনের সুযোগ পাওয়া যায়।
প্রাক-নিবন্ধনের ক্রম অনুযায়ী জাতীয় হজ ডাটাবেসে ব্যক্তির অবস্থান নির্ধারিত হয়। পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হজযাত্রীরা প্রাথমিক এবং পরে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারেন।
সৌদি আরবের নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুসরণ করে ২০২৭ সালের হজের নিবন্ধন কার্যক্রম গত ২৮ জুলাই শুরু হয়েছে। বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী, নিবন্ধন চলবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তবে আগের বছরগুলোর মতো প্রয়োজন হলে নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করার পর নির্ধারিত অর্থ জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। গাইডলাইন অনুযায়ী, প্রাক-নিবন্ধিত ব্যক্তিদের প্রাথমিক নিবন্ধনের জন্য ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে হয়। পরবর্তীতে নির্বাচিত হজ প্যাকেজ অনুযায়ী বাকি অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাক-নিবন্ধিত এবং প্রাথমিকভাবে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে হজের চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ না করলে হজযাত্রার পরিকল্পনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশের হজযাত্রীদের সামনে সরকারি ও বেসরকারি—দুই ধরনের ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের সুযোগ রয়েছে। কেউ সরকারি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারেন, আবার কেউ অনুমোদিত হজ এজেন্সির মাধ্যমে বেসরকারি ব্যবস্থাপনা বেছে নিতে পারেন। দুই ক্ষেত্রেই নির্ধারিত নিয়ম ও সময়সীমা অনুসরণ করে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
হজের খরচ বৃদ্ধির বিষয়টি এবার নিবন্ধনে ধীরগতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক যাতায়াত ব্যয়, সৌদি আরবে আবাসন ও অন্যান্য সেবার খরচ বৃদ্ধির প্রভাব হজ প্যাকেজের ওপর পড়ে। ফলে অনেক মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের পরিবার দীর্ঘদিনের সঞ্চয় থাকা সত্ত্বেও হজে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে নতুন করে হিসাব-নিকাশ করছেন।
ধর্মীয়ভাবে হজের গুরুত্ব অপরিসীম হলেও অর্থনৈতিক বাস্তবতা অনেকের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে যেসব পরিবার কয়েক বছর ধরে হজের জন্য অর্থ সঞ্চয় করছেন, তাদের জন্য প্যাকেজ ব্যয়ের পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
এবার ওমরাহ পালনের প্রবণতা বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। অনেক মানুষ অপেক্ষাকৃত ভিন্ন পরিকল্পনায় ওমরাহ পালনের দিকে ঝুঁকছেন বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। এর ফলে নিয়মিত হজ নিবন্ধনে আগ্রহের ওপর কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে।
তবে হজ ও ওমরাহর ধর্মীয় তাৎপর্য এবং ব্যবস্থাপনা পৃথক। হজ নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পালন করতে হয়, অন্যদিকে ওমরাহ বছরের বিভিন্ন সময়ে পালনের সুযোগ রয়েছে। তাই দুই ধরনের ইবাদতের জন্য মানুষের পরিকল্পনা ও আর্থিক প্রস্তুতিও ভিন্ন হয়ে থাকে।
হজ নিবন্ধনে সাড়া কম থাকার কারণে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সামনে এখন নির্ধারিত কোটার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ থেকে কতজন হজযাত্রী চূড়ান্তভাবে সৌদি আরবে যাবেন, তা নিবন্ধনের অগ্রগতি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার ওপর নির্ভর করবে।
প্রাক-নিবন্ধিত ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় সামনে নিবন্ধনের সংখ্যা বাড়তে পারে। নিবন্ধনের সময়সীমা যত এগিয়ে আসবে, তত বেশি মানুষ তাদের আর্থিক প্রস্তুতি ও ভ্রমণ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।
হজযাত্রীদের জন্য সময়মতো নিবন্ধন সম্পন্ন করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হজের মতো বৃহৎ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনায় ভিসা, যাতায়াত, আবাসন, পরিচয় যাচাই এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত সময়সূচি মেনে চলতে হয়।
এ কারণে হজে যেতে আগ্রহীদের নিবন্ধন সংক্রান্ত শর্ত, অর্থ জমার সময়সীমা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে সঠিক তথ্য জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে হজযাত্রার প্রস্তুতি আরও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
হজযাত্রীদের নিবন্ধনের সঙ্গে শুধু একটি ব্যক্তিগত ধর্মীয় সফরের প্রস্তুতি নয়, জড়িয়ে থাকে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও আবেগ। অনেকেই বছরের পর বছর অর্থ সঞ্চয় করে পবিত্র মক্কা ও মদিনা সফরের অপেক্ষায় থাকেন। তাই নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের মধ্যে প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার ব্যস্ততা দেখা দেয়।
২০২৭ সালের হজের জন্য এখন পর্যন্ত প্রাথমিক নিবন্ধন হাজার ছাড়ালেও সামনে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ধর্ম মন্ত্রণালয় নিবন্ধনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে হজে আগ্রহীদের সচেতন থাকতে বলা হচ্ছে।
আগামী কয়েক সপ্তাহের নিবন্ধনের গতি থেকেই স্পষ্ট হবে, বাংলাদেশ থেকে ২০২৭ সালের হজযাত্রায় আগ্রহীদের অংশগ্রহণ কতটা বাড়ছে এবং নির্ধারিত হজ কোটা পূরণে পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে। প্রাথমিক নিবন্ধনের বর্তমান সংখ্যা ধর্মপ্রাণ মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার যাত্রার শুরু হলেও চূড়ান্ত নিবন্ধনের সময়সীমা সামনে রেখে আগ্রহীদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।