প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতির সময় থানার প্রাঙ্গণে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ ও ‘জয় জননেত্রী শেখ হাসিনা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই নেতার পাঁচ স্বজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে আওয়ামী লীগ নেতা মতিনকে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন টঙ্গীর মরকুন এলাকার আতিকুর রহমানের ছেলে মাহদী হাসান (২৬), একই এলাকার মৃত আব্দুর রউফের ছেলে হারুনর রশীদ (৩৪), মজিবুর রহমানের মেয়ে জহুরা বেগম (৫৫), মো. কাউছার আলীর মেয়ে শারমিন সুলতানা (৩৭) এবং মৃত শহীদ মিয়ার মেয়ে শাহিদা আক্তার (৩৬)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে টঙ্গীর ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি মতিনকে (৪৭) গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানোর জন্য থানার প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যানে তোলার প্রস্তুতি চলছিল।
এ সময় মতিনের কয়েকজন স্বজন ও সমর্থক থানার ভেতরে প্রকাশ্যে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ ও ‘জয় জননেত্রী শেখ হাসিনা’ স্লোগান দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ। থানা প্রাঙ্গণে স্লোগান দেওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করে।
পুলিশের ভাষ্য, থানার মতো সংরক্ষিত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী স্থাপনার ভেতরে এমন কর্মকাণ্ড নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক আইনি কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে। এ কারণে ঘটনাটিকে আইনগতভাবে গুরুত্ব দিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছেন। মামলায় আটক পাঁচজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া আরও দুজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, থানার নিরাপত্তা ও আইনি পরিবেশ বিঘ্নিত করে ভেতরে এ ধরনের স্লোগান দেওয়া বেআইনি। তাই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় নাম থাকা এবং অজ্ঞাতনামা অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। একই সঙ্গে ঘটনার সময় থানার প্রাঙ্গণে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতা মতিনকে কোন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে তাকে আদালতে পাঠানোর সময়ই থানার ভেতরে স্লোগান দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে মামলা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকলেও থানার মতো নিরাপত্তা-সংবেদনশীল স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার মতো কোনো কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত