বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট মুনাফা ২৬ হাজার কোটি টাকা

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২২ বার

প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের অর্থনীতিতে নানা চ্যালেঞ্জ ও ব্যাংক খাতে অস্থিরতার মধ্যেও সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য মুনাফা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিট বা প্রকৃত মুনাফা হয়েছে ২৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ মুনাফা বেড়েছে ৩ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা।

রোববার (৩০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চূড়ান্ত আর্থিক বিবরণী অনুমোদন করা হয়। একই বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মূল বেতনের ছয় গুণ সমপরিমাণ ‘পারফরম্যান্স বোনাস’ বা প্রণোদনা বোনাসও অনুমোদন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিট মুনাফা ছিল ২২ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে নিট মুনাফা বেড়েছে প্রায় ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্রস মুনাফা প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা হলেও নিট মুনাফা ছিল ১৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুনাফা বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে গত অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে সুদ আয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বিনিয়োগ থেকে পাওয়া আয়কে দেখা হচ্ছে।

গত অর্থবছরে দেশের ব্যাংক খাতে তারল্যসংকট ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। দৈনন্দিন তারল্য চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক আগের তুলনায় বেশি হারে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থ ধার করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন ঋণ ও তারল্য সহায়তার বিপরীতে পাওয়া সুদ থেকে বড় অঙ্কের আয় হয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের একটি অংশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এবং আন্তর্জাতিক বন্ডে বিনিয়োগ করা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সুদের হার তুলনামূলক বেশি থাকায় এসব বিনিয়োগ থেকেও গত অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য আয় হয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামগ্রিক আর্থিক ফলাফলে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপুল মুনাফাকে শুধু আর্থিক সাফল্য হিসেবে দেখার বিষয়ে সতর্কতা রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান উদ্দেশ্য মুনাফা করা নয়। ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করাই এর মূল দায়িত্ব।

তার মতে, অর্থনীতি ও ব্যাংক খাতের অস্থিরতার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুনাফা বেড়ে থাকতে পারে। তবে মুনাফা অর্জনের বিষয়টি যেন মুদ্রাবাজার ও সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষার মূল দায়িত্বকে ছাপিয়ে না যায়, সেদিকে নজর রাখা প্রয়োজন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় জানানো হয়েছে, অর্জিত নিট মুনাফার একটি বড় অংশ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে এবং রাজস্ব ঘাটতি মোকাবিলায় অর্থের জোগান কিছুটা বাড়বে।

এদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ছয় মাসের সমপরিমাণ বেতন নয়, বরং মূল বেতনের ছয় গুণ সমপরিমাণ ‘পারফরম্যান্স বোনাস’ অনুমোদনের বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক ফলাফলের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

সামগ্রিকভাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও এর পেছনে দেশের ব্যাংক খাতের তারল্য পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সুদের হারের মতো বিশেষ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ভূমিকা রয়েছে। ফলে এই মুনাফাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক কার্যক্রমের সাফল্যের একমাত্র সূচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ থাকবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক খাতের সুশাসন নিশ্চিত করা, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক খাতে আস্থা পুনর্গঠন। মুনাফা থেকে সরকারি কোষাগারে অর্থ হস্তান্তরের পাশাপাশি এসব মূল দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনের ওপরই দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভর করবে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত