মানি এক্সচেঞ্জে ডলার বিক্রির নতুন দর ১২৬.৫০ টাকা

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৭ বার

প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

খোলা বাজারে ডলারের বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নতুন দর নির্ধারণ করেছে মানি চেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমসিএবি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের মানি এক্সচেঞ্জগুলোতে প্রতি মার্কিন ডলার সর্বোচ্চ ১২৬ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি এবং ১২৫ টাকা ৫০ পয়সায় কেনা হবে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন বিনিময় হার ঘোষণা করেন এমসিএবি সভাপতি এম এস জামান। এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী গৌতম দে, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এমসিএবি জানিয়েছে, নতুন নির্ধারিত দর সংগঠনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেশের সব মানি চেঞ্জারকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাজারে ডলারের লেনদেনকে একটি নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যে রাখতে এই হার কার্যকর করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এম এস জামান ডলার বাজারের সাম্প্রতিক অস্থিরতা নিয়ে মানি চেঞ্জারদের দায়ী করার বিরোধিতা করেন। তার দাবি, ডলারের বাজারে অনৈতিক কারসাজির জন্য মানি চেঞ্জার খাতকে দায়ী করা ঠিক নয়। তার মতে, ব্যাংকিং খাতের কার্যক্রমের কারণেই বাজারে বড় ধরনের প্রভাব তৈরি হয়।

তিনি বলেন, মানি চেঞ্জার খাতের পরিধি তুলনামূলকভাবে সীমিত। ফলে এ খাতের পক্ষে বড় পরিসরে বৈদেশিক মুদ্রার বাজার নিয়ন্ত্রণ বা কারসাজি করা সম্ভব নয়।

এমসিএবি সভাপতির অভিযোগ, করোনা-পরবর্তী সময়ে ডলারের বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে বিভিন্ন ব্যাংক বড় অঙ্কের মুনাফা করেছে। অথচ বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেই এর দায় মানি চেঞ্জারদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়।

তিনি বলেন, মানি চেঞ্জাররা মূলত নগদ বৈদেশিক মুদ্রা বা ক্যাশ কারেন্সি কেনাবেচা করে। তারা ইলেকট্রনিক বা ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা লেনদেন করে না এবং সরাসরি রেমিট্যান্সও সংগ্রহ করতে পারে না।

বিদেশফেরত যাত্রী ও প্রবাসী কর্মীদের সঙ্গে দেশে আসা নগদ বৈদেশিক মুদ্রাই মানি চেঞ্জারদের ব্যবসার অন্যতম প্রধান উৎস বলে জানান তিনি। প্রবাসীদের দেশে আনা নগদ বৈদেশিক মুদ্রা বৈধ চ্যানেলে লেনদেনের মাধ্যমে অর্থনীতিতে প্রবাহিত করার ক্ষেত্রে মানি চেঞ্জাররা ভূমিকা রাখে বলেও দাবি করেন তিনি।

এম এস জামান আরও বলেন, মানি চেঞ্জারদের মূলধন ও ব্যবসার সক্ষমতা এমন নয় যে তারা এককভাবে দেশের ডলারের বাজারের বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। দেশের মুদ্রানীতি ও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

তার অভিযোগ, আন্তঃব্যাংক বাজারে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কেনাবেচা করে এবং তফসিলি ব্যাংকগুলোর জন্য বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়। কিন্তু মানি চেঞ্জারদের ক্ষেত্রে ডলারের ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে একই ধরনের স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা সবসময় থাকে না।

এই বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়েছে এমসিএবি। সংগঠনটি বৈধভাবে ডলার লেনদেনের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি অবৈধ বৈদেশিক মুদ্রাবাজার বন্ধে নীতিমালা আরও সহজ ও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এমসিএবি সভাপতি জানান, বৈধ ব্যবসা নিশ্চিত করতে অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন মানি চেঞ্জারদের একটি তালিকা ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের লিখিত নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করছে।

নতুন বিনিময় হার কার্যকরের ফলে মানি এক্সচেঞ্জগুলোর মাধ্যমে নগদ ডলার কেনাবেচায় একটি নির্দিষ্ট মূল্যসীমা বজায় থাকবে বলে আশা করছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে অবৈধ বাজারের কার্যক্রম কমিয়ে বৈধ চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত