বহুদলীয় ও সংসদীয় গণতন্ত্র বিএনপির হাত ধরেই এসেছে: প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৬ বার
বহুদলীয় ও সংসদীয় গণতন্ত্র বিএনপির হাত ধরেই এসেছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিকাশ, সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষা এবং কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপি শুধু দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেই ভূমিকা রাখেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রের পথও এ দলের হাত ধরেই সুগম হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও নানা প্রতিকূলতার পর দেশে গণতান্ত্রিক ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠকে বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা, নাগরিক অধিকার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বৈঠক সম্পর্কে জানান, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, শক্তিশালী ও টেকসই করার বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রের জন্য বিএনপিকে দীর্ঘদিন সংগ্রাম করতে হয়েছে এবং এ সংগ্রামের পথে দলের অসংখ্য নেতাকর্মী নানা ধরনের নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। গণতন্ত্র শুধু একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা নয়, বরং মানুষের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তাই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংসদীয় ব্যবস্থার বিকাশের সম্পর্ক রয়েছে। দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় বিএনপির ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে শুধু নির্বাচন আয়োজন করাই যথেষ্ট নয়; গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা, জবাবদিহি এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের সামনে এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার আশাবাদী এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের গণতন্ত্র নিয়ে প্রত্যাশা অনেক বেশি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি শক্তিশালী ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং প্রয়োজনীয় জনসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। রাষ্ট্রের উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে, যখন সাধারণ মানুষ তার সুফল পাবে এবং নাগরিকরা নিজেদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে নিরাপদ বোধ করবেন।

সাক্ষাৎকালে আইপিইউ সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাতীয় সংসদের কার্যকর ভূমিকা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলেও তিনি মত দেন।

বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রগতির প্রশংসা করে আন্দা ফিলিপ বলেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে জনগণের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় হবে। একটি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের সঙ্গে শক্তিশালী সংসদীয় ব্যবস্থার সম্পর্ক রয়েছে বলেও আলোচনায় উঠে আসে।

আইপিইউ সেক্রেটারি জানান, তিনি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারও পর্যালোচনা করেছেন। বিশেষ করে শিক্ষা খাতে বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির বিষয়গুলো তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের সক্ষমতা বাড়ানো একটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দেন তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ও আইপিইউর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। আন্দা ফিলিপ বলেন, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বিভিন্ন সংসদীয় কার্যক্রমে সহযোগিতা বাড়াতে আইপিইউ আগ্রহী। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংসদীয় কূটনীতি শক্তিশালী হলে বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার সুযোগও বৃদ্ধি পায়।

তানজানিয়ায় অনুষ্ঠেয় আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণের বিষয়েও আশা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক এই সংসদীয় প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ আইপিইউর সঙ্গে জাতীয় সংসদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে।

গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে নাগরিক সচেতনতার গুরুত্বের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। আন্দা ফিলিপ বলেন, শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্ব বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে না; সচেতন নাগরিক সমাজও একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নাগরিকদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।

বৈঠকে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে নিজের বৈঠকের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আইপিইউ সেক্রেটারি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ ও নারী প্রতিনিধিদের মধ্যে কাজ করার আগ্রহ ও উদ্যম রয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়লে গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব আরও বিস্তৃত হতে পারে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নারীদের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। নারীদের জন্য অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন শুধু শিক্ষা অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একজন নারী আর্থিকভাবে সক্ষম হলে পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁর অংশগ্রহণ বাড়ে এবং সমাজেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।

ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা শক্তিশালী করা। সরকারের বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া এই সাক্ষাৎকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর করার অঙ্গীকার, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সংসদীয় সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি—দুই ক্ষেত্রেই নতুন সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে বৈঠকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণে প্রায়ই বলা হয়, গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি শুধু নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জনগণের অধিকার রক্ষা, কার্যকর সংসদ, স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর এর স্থায়িত্ব নির্ভর করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যেও এসব বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।

সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের সামনে গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করার যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা মোকাবিলায় রাজনৈতিক ঐক্য, কার্যকর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের আস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারের পক্ষ থেকে সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা, জনসেবা নিশ্চিত করা এবং নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর যে অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়েছে, তার বাস্তবায়ন দেশের গণতান্ত্রিক ও সামাজিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত