আওয়ামী লীগের মিছিলের জেরে গুলশানে এনসিপির মিছিল

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪ বার
আওয়ামী লীগের মিছিলের জেরে গুলশানে এনসিপির মিছিল

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গুলশান থানা শাখা। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর ঢাকা মহানগর উত্তরের আওতাধীন গুলশান থানা এনসিপির নেতাকর্মীরা এ মশাল মিছিল করেন। মিছিলটি গুলশান-২ নম্বর মোড় থেকে শুরু হয়ে গুলশান-১-এর শ্যুটিং ক্লাব এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে গুলশান এলাকায় আওয়ামী লীগের একটি ঝটিকা মিছিল বের হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এর প্রতিবাদেই সন্ধ্যার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা মশাল হাতে রাস্তায় নামেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এই এলাকায় পরপর দুই পক্ষের কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক তৎপরতা ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যার পর গুলশান-২ নম্বর মোড় এলাকায় এনসিপির নেতাকর্মীরা জড়ো হন। পরে তারা হাতে মশাল নিয়ে মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি গুলশানের বিভিন্ন সড়ক অতিক্রম করে গুলশান-১-এর শ্যুটিং ক্লাব এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের মিছিলের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এনসিপির পক্ষ থেকে এই কর্মসূচিকে আওয়ামী লীগের মিছিলের প্রতিবাদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দলটির গুলশান থানা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত মশাল মিছিলের মধ্য দিয়ে রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রাজনৈতিক অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

শুক্রবার দুপুরের আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল এবং একই দিন সন্ধ্যার পর এনসিপির পাল্টা মশাল মিছিল রাজধানীর রাজনীতিতে কর্মসূচি ও পাল্টা কর্মসূচির একটি চিত্র সামনে এনেছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠপর্যায়ের তৎপরতায় বিভিন্ন এলাকায় মিছিল, সমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি দেখা যাচ্ছে। গুলশানের মতো ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের কর্মসূচি সাধারণ মানুষের নজরও কেড়েছে।

রাজনৈতিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে রাজধানীর সড়ক ও জনজীবনের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গুলশান রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকা হওয়ায় এখানকার সড়কগুলোতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করেন। ফলে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলে তা ঘিরে পথচারী, যানবাহন চালক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়। পাশাপাশি সড়কে সাময়িক চাপ বা চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

এদিন এনসিপির মশাল মিছিলের রুট ছিল গুলশান-২ নম্বর মোড় থেকে গুলশান-১-এর শ্যুটিং ক্লাব পর্যন্ত। কর্মসূচির শুরু ও শেষের স্থান হিসেবে রাজধানীর পরিচিত দুটি এলাকা বেছে নেওয়ায় মিছিলটি স্থানীয়ভাবে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। সন্ধ্যার পর মশাল হাতে নেতাকর্মীদের মিছিল রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি প্রতীকী প্রতিবাদের আবহও তৈরি করে।

আওয়ামী লীগের মিছিলের বিষয়ে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুরে দলটির নেতাকর্মীরা গুলশানে একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। এরপর সন্ধ্যার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা সেই কর্মসূচির প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেন। অর্থাৎ একই দিনে একই এলাকায় দুই রাজনৈতিক পক্ষের পৃথক কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে।

রাজনীতিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি দলগুলোর নিজেদের অবস্থান জনগণের সামনে তুলে ধরার একটি প্রচলিত মাধ্যম। মিছিল, মানববন্ধন, সমাবেশ কিংবা প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে দলগুলো তাদের রাজনৈতিক বার্তা তুলে ধরে। তবে এসব কর্মসূচির ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া জরুরি।

গুলশানে অনুষ্ঠিত এনসিপির মশাল মিছিলেও দলটির নেতাকর্মীরা নিজেদের প্রতিবাদী অবস্থান তুলে ধরেন। কর্মসূচির মাধ্যমে তারা আওয়ামী লীগের মিছিলের বিরোধিতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে রাজধানীর রাজনৈতিক মাঠে নিজেদের সক্রিয় উপস্থিতির জানান দেওয়ার সুযোগ পায় দলটি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণের দিক থেকেও একই দিনে দুটি পৃথক কর্মসূচি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, মাঠের রাজনীতিতে দলগুলোর সাংগঠনিক সক্রিয়তা শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বক্তব্য বা বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও মহানগর পর্যায়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ও কর্মসূচি দলীয় সাংগঠনিক সক্ষমতার একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। গুলশান থানা পর্যায়ে এনসিপির মশাল মিছিল সেই স্থানীয় সাংগঠনিক তৎপরতারই একটি উদাহরণ।

অন্যদিকে, রাজধানীর ব্যস্ত এলাকাগুলোতে রাজনৈতিক কর্মসূচির ধরন ও সময় নিয়েও সাধারণ মানুষের আগ্রহ থাকে। দিনের ব্যস্ত সময়ে ঝটিকা মিছিল কিংবা সন্ধ্যার পর বড় ধরনের মিছিল হলে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে এর প্রভাব পড়তে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ যাতে কম হয়, সে বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

শুক্রবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুলশান এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপের একটি চিত্র দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এনসিপির মশাল মিছিলটি গুলশান-১-এর শ্যুটিং ক্লাব এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদ জানানো।

রাজধানীর রাজনীতিতে গুলশান একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। বিভিন্ন রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কারণে এলাকাটির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। সেখানে কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি হলে তা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শুক্রবারের ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়।

এদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি যত বাড়ছে, ততই শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। মতপার্থক্য ও রাজনৈতিক বিরোধ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ হলেও কর্মসূচি যেন সংঘাত বা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কারণ না হয়, সেটিই প্রত্যাশিত। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত ভূমিকা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলের প্রতিবাদে এনসিপির মশাল মিছিল তাই শুধু একটি স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; একই দিনে একই এলাকায় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাজধানীর মাঠের রাজনীতির বর্তমান গতিপ্রকৃতিরও একটি চিত্র সামনে এনেছে। আগামী দিনে এসব কর্মসূচি কীভাবে আরও বিস্তৃত হয় এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠপর্যায়ের তৎপরতা কোন দিকে এগোয়, তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত