৯৪ বছর বয়সে মারা গেলেন নরওয়ের রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫ বার
৯৪ বছর বয়সে মারা গেলেন নরওয়ের রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নরওয়ের রাজপরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ৯৪ বছর বয়সে মারা গেছেন দেশটির রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড, যিনি দীর্ঘ জীবনে রাজপরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিত ছিলেন। শুক্রবার তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে নরওয়ের রাজপ্রাসাদ।

রাজপরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিডের মৃত্যুর বিষয়টি জানানো হয়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে রাজপরিবারের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি দেশের মানুষের সঙ্গে রাজপরিবারের যোগাযোগ রক্ষায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড ছিলেন প্রয়াত রাজা হ্যারাল্ডের বড় বোন। ভাইয়ের মৃত্যুর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তার মৃত্যু নরওয়ের রাজপরিবারে শোককে আরও গভীর করেছে। রাজা হ্যারাল্ড ৮৯ বছর বয়সে গত মাসে মারা যান। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নরওয়ের সিংহাসনে দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছিল। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই রাজপরিবার হারাল আরেক প্রবীণ সদস্যকে।

ভাই রাজা হ্যারাল্ডের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়াই ছিল রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিডের শেষ জনসমক্ষে উপস্থিতি। বুধবার অনুষ্ঠিত ওই শেষকৃত্যে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাকে দেখা যায়। এরপর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানেই তার মৃত্যুর সংবাদ সামনে আসে। বিষয়টি নরওয়ের রাজপরিবারের জন্য বিশেষভাবে বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে।

রাজপ্রাসাদের বিবৃতিতে রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিডের দীর্ঘ জীবনের দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা স্মরণ করা হয়েছে। রাজা হাকন অষ্টম বলেন, দীর্ঘ জীবনে রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তার এই অবদান রাজপরিবারের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও বিবৃতির ভাষ্যে প্রতিফলিত হয়েছে।

রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অ্যাস্ট্রিডের ভূমিকা ছিল দীর্ঘস্থায়ী। বিশেষ করে রাজপরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন সময়ে তিনি জনসমক্ষে রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। রাজপরিবারের প্রতি তার দায়িত্ববোধ এবং মানুষের সঙ্গে তার সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তাকে নরওয়ের সাধারণ মানুষের কাছেও পরিচিত করে তুলেছিল।

রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিডের জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল রাজপরিবারের সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পৃক্ততা। নরওয়ের রাজপরিবারের ইতিহাসে এমন একটি সময়ে তিনি বেড়ে উঠেছিলেন, যখন দেশটির রাজতন্ত্র ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে রাজপরিবারের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হচ্ছিল। সময়ের সঙ্গে রাজপরিবারের দায়িত্ব ও জনসম্পৃক্ততার ধরন বদলালেও অ্যাস্ট্রিড তার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

তার প্রজন্মের রাজপরিবারের সদস্যদের মধ্যে অ্যাস্ট্রিড ছিলেন এমন একজন, যিনি রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বকে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার চেয়ে কর্তব্য হিসেবে দেখেছেন। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া, রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্ব করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পরিবারের পাশে থাকার মধ্য দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে নরওয়ের রাজপরিবার একটি দীর্ঘ ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষীকে হারাল। ৯৪ বছরের জীবনে তিনি দেখেছেন নরওয়ের সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় নানা পরিবর্তন। একই সঙ্গে রাজপরিবারের ভেতরেও এসেছে একাধিক প্রজন্মের পরিবর্তন। রাজপরিবারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের উত্থান ও বিদায়ের সাক্ষী ছিলেন তিনি।

বিশেষ করে ভাই রাজা হ্যারাল্ডের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল রাজপরিবারের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে তারা একই রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন দায়িত্ব ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছেন। হ্যারাল্ড যখন সিংহাসনে ছিলেন, তখন অ্যাস্ট্রিডও বিভিন্ন সময়ে রাজপরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ভাইয়ের শেষকৃত্যে উপস্থিত হওয়ার ঘটনাটি তাই ছিল আবেগঘন। সেটিই যে তার জীবনের শেষ জনসম্মুখে উপস্থিতি হয়ে থাকবে, তা হয়তো তখন কেউই ভাবতে পারেননি। কয়েক দিন পর তার মৃত্যুর খবর নরওয়ের মানুষের কাছে সেই শেষ উপস্থিতির স্মৃতিকে আরও আবেগপূর্ণ করে তুলেছে।

রাজপরিবারের প্রবীণ সদস্যদের মৃত্যু সাধারণত শুধু একটি পরিবারের শোকের ঘটনা হয়ে থাকে না; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জাতীয় স্মৃতিও। রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিডের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি নরওয়ের রাজপরিবারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অংশ ছিলেন। ফলে তার মৃত্যু দেশটির রাজপরিবারের ইতিহাসে একটি প্রজন্মের অবসানের প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিডের মৃত্যুর পর নরওয়ের রাজপরিবারে নতুন করে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে রাজা হ্যারাল্ডের মৃত্যুতে পরিবারটি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছিল। সেই শোকের মধ্যেই এবার অ্যাস্ট্রিডের বিদায় রাজপরিবারের সদস্যদের জন্য আরও কঠিন সময় তৈরি করেছে।

দীর্ঘ ৯৪ বছরের জীবনের শেষ অধ্যায় পর্যন্ত রাজপরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক অটুট ছিল। শেষবার ভাইয়ের শেষকৃত্যে উপস্থিত হয়ে তিনি যেন নিজের পারিবারিক দায়িত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পন্ন করে গেছেন। এরপর তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে নরওয়ের রাজপরিবারে তৈরি হলো আরেকটি গভীর শূন্যতা।

রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে তার অবদান ও দায়িত্বশীল ভূমিকার যে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, তা তার দীর্ঘ জনজীবনেরই প্রতিফলন। রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পরিবারের প্রতিনিধিত্ব—সব মিলিয়ে নরওয়ের রাজতন্ত্রের দীর্ঘ ইতিহাসে রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিডের নাম একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে থেকে যাবে।

তার মৃত্যুতে নরওয়ের রাজপরিবার হারাল একজন প্রবীণ সদস্যকে, আর দেশ হারাল এমন একজন ব্যক্তিত্বকে, যিনি কয়েক দশক ধরে রাজপরিবারের দায়িত্ব, ঐতিহ্য ও জনসম্পৃক্ততার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ৯৪ বছরের জীবন শেষে তার বিদায় তাই শুধু একটি মৃত্যুসংবাদ নয়; এটি নরওয়ের রাজপরিবারের একটি দীর্ঘ অধ্যায়েরও সমাপ্তি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত