প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পঞ্চগড়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম হুমায়ূন কবির উজ্জলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের ঢাকাইয়াপট্টি এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি পঞ্চগড় সদর থানার পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উজ্জলের বিরুদ্ধে পঞ্চগড় সদর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নিখোঁজ আল আমিনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলা, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে করা মামলা এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলাও রয়েছে। তবে এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়; অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারেই নির্ধারিত হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের একটি দল শহরের ঢাকাইয়াপট্টি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। সেখানেই উজ্জলকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে থানায় নেওয়া হয় এবং মামলাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। পরে বিকেলে তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উজ্জলের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। আইনগত কার্যক্রম শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে পঞ্চগড়ে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার পর একাধিক মামলা করা হয়েছে। এসব মামলার কয়েকটিতে রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর নাম রয়েছে। উজ্জলের বিরুদ্ধেও এমন একাধিক মামলা থাকার কথা পুলিশ জানিয়েছে। এর মধ্যে আন্দোলনের সময় নিখোঁজ আল আমিনকে ঘিরে করা মামলাটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আল আমিনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলার বিষয়ে আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার পরিবারের পক্ষ থেকে আন্দোলনের সময় নিখোঁজ হওয়ার পর হত্যা ও গুমের অভিযোগে মামলা করা হয়েছিল। ওই মামলায় একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়। উজ্জলের নামও ওই মামলার আসামিদের তালিকায় থাকার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তবে মামলায় অভিযোগ থাকা এবং আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়; বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই অভিযোগের আইনগত নিষ্পত্তি হওয়ার কথা।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলাও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এসব মামলার তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর বিস্তারিত বিষয় সামনে আসতে পারে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর কারণে গ্রেপ্তার এবং আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
পঞ্চগড়ে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় রয়েছে। এর আগে জেলার পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আল তারিককেও গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। ফলে একই পৌর সংগঠনের আরও একজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতার গ্রেপ্তার স্থানীয় রাজনৈতিক পরিসরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
উজ্জলকে গ্রেপ্তারের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে বিভিন্ন জেলায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব মামলায় রাজনৈতিক পরিচয় বা পদ-পদবি নয়, প্রত্যেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়াই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, উজ্জলের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং আদালতের আদেশ অনুযায়ী তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর পরবর্তী কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট আদালত ও তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে এগিয়ে যাবে।
এদিকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পঞ্চগড়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এ ঘটনায় নতুন কোনো উত্তেজনা বা সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
একজন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলে তার আইনগত অবস্থান নির্ধারণের বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। ফলে উজ্জলের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং বিচারিক সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বিষয় হবে। বর্তমানে তিনি মামলাগুলোর আসামি হিসেবে আদালতের আদেশে কারাগারে রয়েছেন।
পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, উজ্জলের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিষয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম চলবে। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের পরবর্তী আদেশের ওপর তার আইনগত অবস্থার পরবর্তী ধাপ নির্ভর করবে।
এভাবে পঞ্চগড়ে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম হুমায়ূন কবির উজ্জলের গ্রেপ্তার এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর মধ্য দিয়ে তার বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া আরও একটি ধাপে এগোল। তবে মামলাগুলোতে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।