প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চট্টগ্রাম নগরের ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা নিউ মার্কেটে একটি কাপড়ের গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে কোতোয়ালি থানাধীন নিউ মার্কেটের বি ব্লকের তৃতীয় তলায় থাকা একটি কাপড়ের গুদামে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ২৫ মিনিটের দিকে নিউ মার্কেটের বি ব্লকের তৃতীয় তলায় একটি কাপড়ের গুদামে আগুন লাগার খবর আসে। খবর পাওয়ার পর নন্দনকানন ফায়ার স্টেশন থেকে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
নন্দনকানন ফায়ার স্টেশনের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, নিউ মার্কেটের বি ব্লকের তৃতীয় তলায় কাপড়ের একটি গুদামে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে আগুনে গুদামে থাকা কাপড় ও অন্যান্য সামগ্রীর ঠিক কতটা ক্ষতি হয়েছে, সেটিও তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। আগুন কীভাবে লেগেছে, সে বিষয়েও প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিউ মার্কেট চট্টগ্রাম শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ কেনাকাটা ও ব্যবসায়িক কাজে এই এলাকায় আসা-যাওয়া করেন। এর পাশাপাশি মার্কেটের বিভিন্ন অংশে কাপড়সহ নানা ধরনের পণ্য মজুত ও বিক্রি করা হয়। ফলে মার্কেটের কোনো অংশে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়লে ব্যবসায়ী ও আশপাশের মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়।
কাপড়ের গুদামে আগুন লাগার ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কাপড় ও অন্যান্য দাহ্য সামগ্রী আগুনের সংস্পর্শে এলে অল্প সময়ের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত উপস্থিতি আগুন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কিছুটা উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় পরিস্থিতি বড় ধরনের বিপর্যয়ের দিকে যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর আশপাশের ব্যবসায়ী ও দোকানিরাও স্বস্তি ফিরে পান।
এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে সাধারণত গুদামে থাকা পণ্যের পরিমাণ, আগুনে পুড়ে যাওয়া সামগ্রী এবং ধোঁয়া ও তাপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের হিসাব করা প্রয়োজন হয়। নিউ মার্কেটের ওই গুদামে কী পরিমাণ কাপড় মজুত ছিল এবং আগুনে কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর হিসাব ও পরিদর্শনের মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিয়েও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। বৈদ্যুতিক ত্রুটি, শর্টসার্কিট কিংবা অন্য কোনো কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যেতে পারে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত তথ্য জানানো হয়নি।
চট্টগ্রামের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নগরে মার্কেট ও গুদামে অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। একদিকে ব্যবসায়ীরা তাঁদের পণ্য নিরাপদে সংরক্ষণ করতে চান, অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে দ্রুত উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি। বিশেষ করে কাপড়, কাগজ, প্লাস্টিক ও অন্যান্য দাহ্য পণ্য যেখানে বেশি পরিমাণে মজুত থাকে, সেখানে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ না হলে ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
নিউ মার্কেটের এই ঘটনায় বড় ধরনের হতাহতের খবর না থাকলেও ঘটনাটি ব্যবসায়ীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গুদামে বৈদ্যুতিক সংযোগ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি বের হওয়ার পথ এবং অগ্নিকাণ্ডের সময় দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের প্রবেশের সুযোগ—এসব বিষয় নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মার্কেট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।
ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় সম্ভাব্য বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও ঘটনাস্থলে থাকা কাপড় ও অন্যান্য সামগ্রী থেকে পুনরায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আছে কি না, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সাধারণত আগুনের উৎস ও আশপাশের স্থান পরীক্ষা করে দেখেন, যাতে পুনরায় আগুন জ্বলে ওঠার সম্ভাবনা কমে।
নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের জন্যও এ ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে। একটি গুদামে থাকা পণ্য শুধু একজন ব্যবসায়ীর সম্পদ নয়; এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে শ্রমিক, কর্মচারী, সরবরাহকারী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক কার্যক্রম। তাই কোনো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সরাসরি ক্ষতির পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
বৃহস্পতিবার সকালের এই অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এবং আগুনের কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পর্যায়ের পরিদর্শন ও তদন্তের দিকে তাকিয়ে আছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে মার্কেটের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
চট্টগ্রাম নিউ মার্কেটের মতো জনবহুল বাণিজ্যিক স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত পরিদর্শন, বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি। এবারের ঘটনায় দ্রুত ফায়ার সার্ভিস পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও ভবিষ্যতের জন্য আরও কার্যকর প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন। এতে ব্যবসায়ীদের সম্পদ যেমন সুরক্ষিত থাকবে, তেমনি ক্রেতা, কর্মচারী ও আশপাশের মানুষের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সহজ হবে।