ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে আলোচনায় একাধিক নেতা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৫ বার
ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে আলোচনায় একাধিক নেতা

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘিরে আলোচনা এখন শেষ পর্যায়ে। বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নেতৃত্বাধীন কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই নতুন নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনের ভেতরে নানা আলোচনা চলছে। দুই শীর্ষ নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদায়ের বার্তাও দিয়েছিলেন। তবে প্রত্যাশিত সময়ের মধ্যে নতুন কমিটি ঘোষণা না হওয়ায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা আরও বেড়েছে।

সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মী ও বিভিন্ন পর্যায়ের সূত্রের ভাষ্য, নতুন কমিটিতে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতাসহ একাধিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। যদিও শেষ পর্যন্ত কারা নেতৃত্বে আসছেন, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে একাধিক নাম সামনে এসেছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, সহসভাপতি ইজাজুল কবির রুয়েল, মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ, এইচ এম আবু জাফর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, সহসভাপতি শাফি ইসলাম ও খোরশেদ আলম সোহেলের নাম সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

আমান উল্লাহ আমানকে ঘিরে আলোচনা তুলনামূলকভাবে বেশি। তিনি বর্তমানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁর কারাবরণের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তাঁর দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নতুন নেতৃত্বের আলোচনায় তাঁকে সামনে এনেছে বলে সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন।

সহসভাপতি ইজাজুল কবির রুয়েলও সম্ভাব্য সভাপতি প্রার্থীদের আলোচনায় রয়েছেন। একইভাবে মঞ্জুরুল আলম রিয়াদের নামও ঘুরছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার কারণে তাঁর নাম বিবেচনায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

সভাপতি পদে আলোচনায় থাকা আরেকজন এইচ এম আবু জাফর। বিভিন্ন সময় ছাত্রদলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয়তার বিষয়টি সামনে এসেছে। অন্যদিকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমানও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন। ২০১৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তিনি ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সহসভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছিলেন। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ছাত্ররাজনীতিতেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে।

শাফি ইসলাম ও খোরশেদ আলম সোহেলের নামও সভাপতি পদে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, রাজপথের কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে তাঁদের নামও বিবেচনায় রয়েছে। তবে এসব নামের কোনোটিই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়েছে বলে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়েও সংগঠনের ভেতরে একাধিক নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সূর্যসেন হলের সাবেক সভাপতি শামিম আকতার শুভ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, মমিনুল ইসলাম জিসান, প্রচার সম্পাদক শরিফ প্রধান শুভ এবং মো. তরিকুল ইসলাম তারিকের নাম রয়েছে।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালেহ মো. আদনান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ এবং সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্সের নামও আলোচনায় রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

এর মধ্যে মমিনুল ইসলাম জিসান ও ফারুক হোসেনের নাম বিভিন্ন পর্যায়ে তুলনামূলকভাবে বেশি আলোচিত হচ্ছে বলে সংগঠনের মাঠপর্যায়ের নেতাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক আন্দোলনের সময় তাঁদের সক্রিয়তার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে নতুন কমিটির নেতৃত্ব নির্ধারণে শুধু অতীতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়, সংগঠন পরিচালনার সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও বিবেচনায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ছাত্রদলের বর্তমান কমিটি ২০২৪ সালের মার্চে দায়িত্ব নেয়। রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি এবং নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত ওই কমিটির মেয়াদ ছিল দুই বছর। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে নতুন কমিটি ঘোষণার সম্ভাবনা তৈরি হলেও তা বিলম্বিত হয়েছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান কমিটির শীর্ষ দুই নেতা দায়িত্ব ছাড়ার প্রস্তুতি হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদায়ের বার্তা দিয়েছিলেন। সম্ভাব্য নেতৃত্বের নাম নিয়েও বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হওয়ায় পদপ্রত্যাশীদের অপেক্ষা দীর্ঘ হয়েছে।

নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনায় শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ নয়, সংগঠনের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ছাত্রদলের মতো একটি বড় ছাত্রসংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্ধারণে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ের সংগঠনগুলোকে কীভাবে আরও সক্রিয় করা হবে, মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রের সমন্বয় কতটা কার্যকর হবে এবং শিক্ষার্থীদের কাছে সংগঠনের রাজনৈতিক অবস্থান কীভাবে উপস্থাপন করা হবে—এসব প্রশ্নও সামনে রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে নতুন কমিটি গঠনের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। এতে বোঝা যায়, নতুন নেতৃত্ব নিয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আগ্রহ কতটা বেড়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো তালিকা বা বিজ্ঞপ্তিকে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হিসেবে না দেখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় সামনে এসেছে—নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছে সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নেতৃত্ব বাছাইয়ের সময় আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংগঠনকে পরিচালনার যোগ্যতাও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে যত আলোচনা থাকুক, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এসব নামকে চূড়ান্ত বলা যাচ্ছে না। শেষ মুহূর্তে সমীকরণ পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনে অস্বাভাবিক নয়। ফলে আলোচনায় থাকা নেতাদের তালিকা এবং শেষ পর্যন্ত ঘোষিত কমিটির মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে।

এদিকে নতুন কমিটি ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নিলে সংগঠনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় ইউনিটগুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা, সাংগঠনিক কার্যক্রম সক্রিয় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বাড়ানো।

সব মিলিয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নতুন কমিটি ঘিরে এখন মূল আগ্রহ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কারা দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা নিয়ে। আমান উল্লাহ আমান, ইজাজুল কবির রুয়েল, মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ, এইচ এম আবু জাফর, মোস্তাফিজুর রহমানসহ একাধিক নেতার নাম সভাপতি পদে এবং ফারুক হোসেন, মমিনুল ইসলাম জিসান, শরিফ প্রধান শুভ, তরিকুল ইসলাম তারিকসহ আরও কয়েকজনের নাম সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে সম্ভাব্য নাম হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এখন অপেক্ষা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ও নতুন নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত