দেবীদ্বারে মা-শিশুকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, আহত ভাবি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৭ বার
দেবীদ্বারে মা-শিশুকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, আহত ভাবি

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কুমিল্লার দেবীদ্বারে পারিবারিক একটি ঘটনায় এক যুবকের বিরুদ্ধে নিজের মা ও আট মাস বয়সী ভাতিজিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় হামলা ঠেকাতে এগিয়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন ওই যুবকের ভাবি। সোমবার সকালে উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় নেমে আসে শোক ও আতঙ্কের আবহ।

নিহত দুজন হলেন অভিযুক্ত ইমনের মা পেয়ারা বেগম এবং তার আট মাস বয়সী ভাতিজি। গুরুতর আহত রাবেয়া বেগমকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত ইমনকে আটক করে একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় বলে জানা গেছে। একই ঘটনার বিষয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যমও মা ও শিশুর মৃত্যুর এবং ভাবির আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন পরিবারের সদস্যরা। এ সময় ইমন হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তিনি ধারালো দা নিয়ে তার মা পেয়ারা বেগমের ওপর হামলা চালান। হামলায় গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

এরপর একই বাড়িতে থাকা আট মাস বয়সী ভাতিজির ওপরও হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। শিশুটিকে আছড়ে হত্যা করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। মাত্র আট মাস বয়সী একটি শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়েছেন।

ঘটনার সময় রাবেয়া বেগম হামলা থামাতে এগিয়ে এলে তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ রয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা সাহস করে অভিযুক্ত ইমনকে ধরে ফেলেন। পরে তাকে বাড়ির একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। এ সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও স্থানীয়রা আইন নিজের হাতে না নিয়ে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে দেবীদ্বার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়।

দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত যুবক ইমন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে কী কারণে তিনি পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছেন, সে বিষয়ে তখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের এই বক্তব্যের কারণে ঘটনার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ বা উদ্দেশ্য ছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। পারিবারিক বিরোধ, ব্যক্তিগত কোনো সমস্যা কিংবা অন্য কোনো বিষয় থেকে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে। একইভাবে অভিযুক্তের অসুস্থতার ধরন বা তার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরিষ্কার হতে পারে।

এ ধরনের ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ঘটনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষ্য সংগ্রহ, ঘটনাস্থল থেকে আলামত উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা। পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। নিহতদের মরদেহের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং আহত রাবেয়া বেগমের চিকিৎসার পাশাপাশি তার কাছ থেকে তথ্য নেওয়াও তদন্তের অংশ হতে পারে।

একটি পরিবারের ভেতরে এমন সহিংসতার ঘটনায় শুধু দুটি প্রাণ ঝরে যায়নি, একই সঙ্গে একটি শিশুর জীবন অকালে থেমে গেছে এবং পরিবারের আরেক সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। বাড়িটির স্বাভাবিক পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হয়েছে শোক ও আতঙ্কের স্থানে। প্রতিবেশীদের কাছেও ঘটনাটি গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ করে আট মাস বয়সী শিশুটির মৃত্যু স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক নাড়া দিয়েছে। পরিবারের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে নিজের মা ও শিশুভাতিজিকে হত্যার অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এসব প্রশ্নের কোনো অনুমাননির্ভর উত্তর দেওয়া না করে পুলিশি তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করাই গুরুত্বপূর্ণ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলার ধারাবাহিকতা এবং অভিযুক্তের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবে। একই সঙ্গে আহত রাবেয়া বেগমের চিকিৎসা ও তার বক্তব্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত ছিলেন কি না, কিংবা হামলার আগে কোনো বিরোধ বা উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এদিকে মা ও শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে। পরিবারের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। আট মাসের শিশুটির মৃত্যু বিশেষভাবে নাড়া দিয়েছে এলাকাবাসীকে। একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন মৃত্যু এবং আরেকজনের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠেছে স্থানীয়ভাবে।

পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার কারণ কিংবা অভিযুক্তের উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না। তদন্তে পাওয়া তথ্য, সাক্ষ্য ও আলামতের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে। বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ঘটনার পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত