জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪ বার
জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চার দিনের জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। রোববার রাতে তিনি ঢাকায় পৌঁছান। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে ২০তম এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তিনি গত ১৬ সেপ্টেম্বর জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। সফরকালে তিনি এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ক্রীড়া আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার (ওসিএ) সভাপতি শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বিভিন্ন দেশের অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

আইচি-নাগোয়া ২০২৬ এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ১৯ সেপ্টেম্বর নাগোয়া শহরের মিজুহো পার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে। জাপানের সম্রাট নারুহিতো আনুষ্ঠানিকভাবে এবারের আসরের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে ২০তম এশিয়ান গেমস। জাপানের আইচি প্রিফেকচার ও নাগোয়া শহরকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় এশিয়ার ৪৫টি দেশ ও অঞ্চল অংশ নিচ্ছে এবং ৪৩টি খেলায় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধানের এবারের জাপান সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী আয়োজনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পান। এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ক্রীড়া প্রশাসন ও বিভিন্ন দেশের ক্রীড়া সংগঠনের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

সফরকালে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার সভাপতি শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে ক্রীড়া ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয় বলে জানা গেছে। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন দেশের অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিদের সঙ্গেও আলোচনা করেন। এসব বৈঠক ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এশিয়ান গেমস শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; এ আয়োজনকে ঘিরে বিভিন্ন দেশের ক্রীড়া প্রশাসক, অলিম্পিক কমিটি, সংগঠক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময়ও হয়ে থাকে। ফলে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে সেনাপ্রধানের এ সফরকে ক্রীড়া-সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক যোগাযোগের একটি অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

এবারের এশিয়ান গেমস জাপানের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৫৮ সালে টোকিও এবং ১৯৯৪ সালে হিরোশিমার পর তৃতীয়বারের মতো জাপানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এশিয়ার সবচেয়ে বড় বহু-ক্রীড়া আয়োজন। আয়োজক জাপানের আইচি ও নাগোয়া অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ৪৩টি খেলায় প্রতিযোগিতা হচ্ছে। আয়োজক সূত্র অনুযায়ী, এবারের গেমসের মূল ভাবনা এশিয়ার দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে ক্রীড়ার মাধ্যমে পারস্পরিক যোগাযোগ ও ঐক্যকে সামনে আনা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তারা অংশ নেন। ক্রীড়ার পাশাপাশি প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও বিনোদনের নানা আয়োজনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে এশিয়ার বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক সংযোগ তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার তথ্য অনুযায়ী, এবারের আসরে প্রথমবারের মতো একটি শরণার্থী দলও অংশ নিচ্ছে, যেখানে দুইজন তায়কোয়ান্দো ক্রীড়াবিদ রয়েছেন।

বাংলাদেশের জন্যও এশিয়ান গেমস আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। বিভিন্ন খেলায় বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি দেশের ক্রীড়া প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়। এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজনের সময় বিভিন্ন দেশের অলিম্পিক কমিটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

জাপান সফরের আগে সেনাপ্রধানের চার দিনের সফরসূচির বিষয়টি জানিয়ে বলা হয়েছিল, তিনি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এশিয়ান গেমসের বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজন পরিদর্শন করবেন এবং এশিয়ান গেমস ও অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন।

সফর শেষে দেশে ফিরে এখন তিনি নিয়মিত দায়িত্বে ফিরেছেন। এদিকে জাপানে ২০তম এশিয়ান গেমসের প্রতিযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এবারের আসর। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াবিদরা বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে নিজেদের সেরাটা তুলে ধরতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সেনাপ্রধানের এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রীড়া অঙ্গনের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংগঠনগুলোর যোগাযোগ, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ বাড়াতে পারে।

জাপান সফর শেষে দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে সেনাপ্রধানের নির্ধারিত চার দিনের সফর শেষ হয়েছে। এখন এশিয়ান গেমসের বাকি সময় বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ ও পারফরম্যান্সের দিকে নজর থাকবে। আন্তর্জাতিক এই আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী ক্রীড়াবিদদের সাফল্য দেশের ক্রীড়া অঙ্গনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একটি বড় ক্রীড়া আসরে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের সময় দেশের ক্রীড়া প্রশাসনের শীর্ষ প্রতিনিধির উপস্থিতি খেলোয়াড়দের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ক্রীড়াবিদদের জন্য প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার পাশাপাশি মানসিক উৎসাহও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এশিয়ান গেমসের ভেন্যুতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সেনাপ্রধানের যোগাযোগ সফরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হয়ে ওঠে।

জাপান সফরের আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সেনাপ্রধানের সফরে এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্ট পরিদর্শন এবং এশিয়ান গেমস ও অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। সে অনুযায়ী সফরে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ ও মতবিনিময় করেন তিনি।

এবারের এশিয়ান গেমস জাপানের আইচি ও নাগোয়া অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই বহু-ক্রীড়া আয়োজন ঘিরে বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তারা জাপানে সমবেত হয়েছেন। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরাও অংশ নিচ্ছেন। ফলে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির সফরকে দেশের ক্রীড়া কার্যক্রমের আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সেনাপ্রধানের সফরে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় বাংলাদেশের ক্রীড়া অঙ্গনের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে এসব যোগাযোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কোনো চুক্তি বা নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

চার দিনের সফর শেষে ২০ সেপ্টেম্বর রাতে দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের জাপান সফর শেষ হয়। তার দেশে ফেরার তথ্য বাংলাদেশ আর্মির ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজে জানানো হয়েছে।

সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন জাপানের আইচি-নাগোয়ায় এশিয়ান গেমসকে কেন্দ্র করে এশিয়ার ক্রীড়া জগতের বড় একটি সমাবেশ চলছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংগঠনের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধির সরাসরি যোগাযোগের ফলে দেশের ক্রীড়া অঙ্গনের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রেও এ ধরনের যোগাযোগ কার্যকর হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত