প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ২৩ জানুয়ারি ২০২৭ বিশ্ববিদ্যালয়টির দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় এক দশক পর এই আয়োজনকে ঘিরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও স্নাতকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন আগ্রহ ও প্রত্যাশা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে সমাবর্তন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ সমাবর্তনের তারিখের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে উপাচার্যের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। সেখানে দ্বিতীয় সমাবর্তনে আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে উপস্থিত থাকার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সম্মতি দিয়েছেন।
সমাবর্তন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক আয়োজন। দীর্ঘ শিক্ষাজীবন শেষে ডিগ্রি অর্জন করা শিক্ষার্থীদের জন্য এটি শুধু সনদ গ্রহণের অনুষ্ঠান নয়; বরং তাঁদের একাডেমিক পথচলার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের বিস্তৃত উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই আয়োজনের গুরুত্ব আরও বেশি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অসংখ্য কলেজের শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। ফলে দ্বিতীয় সমাবর্তনকে ঘিরে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় ২৫ বছর পর ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই আয়োজনের পর দ্বিতীয় সমাবর্তনের জন্য শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। এবার প্রথম সমাবর্তনের প্রায় এক দশক পর দ্বিতীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ এই বিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমাবর্তন নিয়ে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমাবর্তন আয়োজনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। সমাবর্তনে কারা অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া কী হবে, সমাবর্তন বক্তা কে থাকবেন এবং অনুষ্ঠান কোথায় ও কীভাবে আয়োজন করা হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী সময়ে জানানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আয়োজনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার কথা রয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলো দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। রাজধানীর বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ এসব কলেজের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পান। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম উচ্চশিক্ষার সুযোগকে বিস্তৃত করেছে। ফলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন কেবল একটি কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অর্জনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বড় আয়োজন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
বহু শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করার পর কর্মজীবনে প্রবেশ করেছেন, কেউ উচ্চশিক্ষার জন্য এগিয়েছেন, আবার কেউ নিজ নিজ ক্ষেত্রে পেশাগত অবস্থান তৈরি করেছেন। তাঁদের অনেকের কাছেই সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা হয়ে ছিল। ডিগ্রি অর্জনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার সুযোগ শিক্ষাজীবনের স্মৃতিকে নতুনভাবে ধারণ করার একটি উপলক্ষ তৈরি করে। পরিবার ও শিক্ষকদের কাছেও এটি শিক্ষার্থীদের সাফল্য উদ্যাপনের একটি বিশেষ মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে।
দ্বিতীয় সমাবর্তনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও এখন ব্যস্ততা বাড়বে। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও অতিথিকে সম্পৃক্ত করে এমন একটি আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করতে নিবন্ধন, সনদ ও পোশাক বিতরণ, অনুষ্ঠানস্থল ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, পরিবহন এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে। এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
রাষ্ট্রপতির উপস্থিতির সম্মতি সমাবর্তন আয়োজনের আনুষ্ঠানিক গুরুত্বও বাড়িয়েছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বা আচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতি আচার্য হিসেবে দ্বিতীয় সমাবর্তনে উপস্থিত থাকবেন বলে সম্মতি দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য।
সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিনিধিদলের বিভিন্ন সৌজন্য সাক্ষাৎ ও উচ্চশিক্ষা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের বিভিন্ন বক্তব্যে উঠে এসেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তনও এমন একটি সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার মান, কর্মমুখী শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সমাবর্তনের আয়োজনের আরেকটি তাৎপর্য হলো, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় এর শিক্ষার্থী ও অধিভুক্ত কলেজের পরিসর অনেক বিস্তৃত। তাই একটি সমাবর্তন আয়োজনের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর একাডেমিক অর্জন জড়িয়ে থাকে। প্রত্যন্ত এলাকার কোনো কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করা একজন শিক্ষার্থীর জন্য রাজধানী বা কেন্দ্রীয় কোনো আয়োজনে এসে নিজের শিক্ষাজীবনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি গ্রহণের অভিজ্ঞতা হতে পারে স্মরণীয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তনের তারিখ নির্ধারণের খবর প্রকাশের পর এখন শিক্ষার্থীদের প্রধান আগ্রহ অংশগ্রহণের নিয়ম ও যোগ্যতা নিয়ে। কোন শিক্ষাবর্ষ বা কোন সময়ের মধ্যে ডিগ্রি অর্জনকারীরা সমাবর্তনে অংশ নিতে পারবেন, নিবন্ধন ফি কত হবে, নিবন্ধনের সময়সীমা কী এবং সনদ বা সমাবর্তন পোশাক সংগ্রহের প্রক্রিয়া কী—এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশের পর এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর সমাবর্তনের তারিখ ঘোষণায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা আগামী কয়েক মাসে আরও বাড়বে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানকে ঘিরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাবেক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
আগামী ২৩ জানুয়ারি ২০২৭ অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় সমাবর্তন তাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য আয়োজন হতে যাচ্ছে। ২০১৭ সালের প্রথম সমাবর্তনের প্রায় এক দশক পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে। এখন অপেক্ষা কেবল আয়োজনের বিস্তারিত কর্মসূচি, অংশগ্রহণের নিয়ম এবং সমাবর্তন বক্তার নাম ঘোষণার। এসব তথ্য প্রকাশ হলে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই অনুষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ চিত্রও স্পষ্ট হবে।