সংবিধান সংস্কার নিয়ে বিএনপির অবস্থানকে দায়ী করলেন জামায়াত আমির

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫ বার
সংবিধান সংস্কার নিয়ে বিএনপির অবস্থানকে দায়ী করলেন জামায়াত আমির

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন, বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় নির্বাচনের পর থেকেই দেশে নতুন সংকটের সূচনা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সংসদে বিরোধী দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে না দেওয়ার অভিযোগ তুলে সরকারের সমালোচনা করেছেন।

বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংসদীয় কার্যক্রম, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং জনভোগান্তি নিয়ে আলোচনার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

জামায়াত আমিরের বক্তব্য অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের দুই পক্ষ শপথ নিলেও সরকার একটি শপথ নিয়েছে এবং বিএনপির সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি ‘অপনীতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, এই সিদ্ধান্তের কারণেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

তবে বিএনপির শপথ না নেওয়া নিয়ে জামায়াত আমিরের এই বক্তব্য তার নিজস্ব রাজনৈতিক মূল্যায়ন। বক্তব্যের সময় তিনি এ সিদ্ধান্তের কারণে দেশে কী ধরনের সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। তার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ এবং নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রশ্ন।

শফিকুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি জনগণের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, নির্বাচনের পর সেসব প্রতিশ্রুতি থেকে দলটি সরে গেছে। তার বক্তব্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলে তিনি যে দাবি করেছেন, সেটিই গুরুত্ব পেয়েছে। তবে কোন কোন প্রতিশ্রুতি কীভাবে ভঙ্গ করা হয়েছে, সে বিষয়ে মতবিনিময় সভায় বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

দেশের সংসদীয় কার্যক্রম নিয়েও বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন। তার দাবি, দেশের চলমান সমস্যা ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়গুলো নিয়ে বিরোধী দল সংসদে আলোচনা করতে চাইলেও সরকারি দল সেসব আলোচনার অনুমোদন দেয় না। তিনি মনে করেন, সংসদে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময়ের সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। বিরোধী দলের দায়িত্বের মধ্যে সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা, জনস্বার্থের বিষয় তুলে ধরা এবং নীতিগত বিকল্প প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়গুলো থাকে। একইভাবে সংসদ পরিচালনা ও আলোচনার কার্যক্রম নির্ধারিত নিয়ম ও কার্যপ্রণালির আওতায় পরিচালিত হয়। শফিকুর রহমানের বক্তব্যে সংসদে বিরোধী দলের আলোচনার সুযোগ নিয়ে যে অভিযোগ এসেছে, সেটি সেই রাজনৈতিক বিতর্কেরই একটি অংশ।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির। বিশেষ করে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যাকে তিনি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, জ্বালানি সংকটের কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ না করে অন্য দেশে চলে যাচ্ছেন। শিল্প ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তিনি বিষয়টিকে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

বাংলাদেশের শিল্প খাতে গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ প্রয়োজন। জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে এবং নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্তেও প্রভাব পড়তে পারে। শফিকুর রহমানের বক্তব্যে এই বিষয়টি রাজনৈতিক সমালোচনার অংশ হিসেবে উঠে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু তার মতে, বাস্তবে কর্মসংস্থান বাড়ার পরিবর্তে বেকারত্বের চাপ বাড়ছে। তিনি এ পরিস্থিতিকে সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য হিসেবে তুলে ধরেন।

কর্মসংস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নতুন বিনিয়োগ, শিল্প সম্প্রসারণ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধির সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টি সরাসরি সম্পর্কিত। তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি না হলে তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। ফলে কর্মসংস্থান নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্যও সাধারণ মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

শফিকুর রহমানের বক্তব্যে দেশের সামগ্রিক সমস্যা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেন, দেশে সমস্যা কমার পরিবর্তে একের পর এক নতুন সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তার মতে, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি অর্থনীতি, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও কর্মসংস্থান—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই চাপ রয়েছে।

মতবিনিময় সভায় তিনি মূলত সরকারের কার্যক্রম এবং বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান—দুই দিক নিয়েই সমালোচনা করেন। একদিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার বিষয়টিকে তিনি রাজনৈতিক সংকটের সূচনার সঙ্গে যুক্ত করেছেন, অন্যদিকে সংসদে বিরোধী দলের বক্তব্য ও জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে আলোচনার সুযোগ সীমিত করার অভিযোগ তুলেছেন।

তার বক্তব্যে অর্থনৈতিক প্রসঙ্গও রাজনৈতিক আলোচনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ, বিদেশি বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলোকে তিনি দেশের চলমান সমস্যার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তার বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে বিভিন্ন দলের মধ্যে নীতিগত মতপার্থক্য নতুন নয়। নির্বাচনের পর সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের সম্পর্ক, সংবিধান সংস্কারের প্রশ্ন এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন—এসব বিষয় নিয়ে দলগুলোর অবস্থান ভিন্ন হতে পারে। শফিকুর রহমানের বক্তব্য সেই মতপার্থক্যের একটি সাম্প্রতিক প্রকাশ।

বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে তার মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার নতুন বিষয় তৈরি করতে পারে। শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ ও অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় এ নিয়ে ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাখ্যাও থাকতে পারে। ফলে বিষয়টির মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষগুলোর বক্তব্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অবস্থান বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান নিয়ে তার বক্তব্য দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে জ্বালানি সরবরাহ, অবকাঠামো, নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং ব্যবসার পরিবেশের মতো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দেশীয় বিনিয়োগ বাড়ানো ও নতুন কর্মসংস্থান তৈরির জন্যও এসব ক্ষেত্রে কার্যকর পরিবেশ প্রয়োজন।

মতবিনিময় সভায় শফিকুর রহমান যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন, তাতে রাজনৈতিক সংকটের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত অর্থনৈতিক বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে। সংসদে জনভোগান্তির বিষয় আলোচনা, বিনিয়োগ ধরে রাখা এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর প্রশ্নকে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

সবশেষে তিনি আবারও বলেন, দেশের সমস্যা কমার পরিবর্তে বাড়ছে। তার বক্তব্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য, সংসদীয় কার্যক্রম, জ্বালানি সংকট, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলোকে একই সামগ্রিক পরিস্থিতির অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এখন এসব বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টা বক্তব্যের ওপরই পরবর্তী রাজনৈতিক আলোচনার দিক অনেকটা নির্ভর করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত