ষড়যন্ত্রে সায় দিচ্ছে গুপ্ত বাহিনী : রিজভী

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৮ বার
ষড়যন্ত্রে সায় দিচ্ছে গুপ্ত বাহিনী : রিজভী

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস, নাশকতা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগের বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথিত ষড়যন্ত্রে দেশের ভেতরে থাকা একটি ‘গুপ্ত ও সুপ্ত’ গোষ্ঠী সায় দিচ্ছে। তাঁর দাবি, বিদেশে অবস্থান করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন এবং দেশের ভেতরের কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সেই প্রচেষ্টায় সহায়তা করছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সমাবেশে তিনি নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পরিচয় কিংবা প্রমাণ তুলে ধরেননি।

বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এসব কথা বলেন। দেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে কর্মসূচিটির আয়োজন করা হয়। এতে সংগঠনটির সভাপতি এস এম জিলানী সভাপতিত্ব করেন। সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিলেও অংশ নেন।

রিজভী তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করেন, বিদেশে অবস্থানরত শেখ হাসিনা সেখান থেকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য কলকাঠি নাড়ছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরে থাকা কিছু ‘গুপ্ত ও সুপ্ত’ শক্তি সেই তৎপরতায় বাতাস দিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দেশের জনগণ কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা অস্থিতিশীলতার প্রচেষ্টা মেনে নেবে না এবং এসব পরিস্থিতির বিরুদ্ধে তারা সতর্ক রয়েছে।

দেশে সন্ত্রাস ও নাশকতার বিরুদ্ধে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে রিজভী বলেন, পরিকল্পিতভাবে কেউ অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বানও উঠে আসে। তিনি বলেন, বিএনপি অন্যায়, অবিচার ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন করে আসছে এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে দলটি রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।

সমাবেশে রিজভী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে এসব বক্তব্যও তিনি রাজনৈতিক সমাবেশের বক্তব্য হিসেবে তুলে ধরেন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কোনো পাল্টা বক্তব্য ওই সমাবেশে পাওয়া যায়নি।

বক্তব্যের একটি বড় অংশজুড়ে ছিল দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি। রিজভী বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও গ্যাসের সংকট চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এই বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় পড়ছে।

হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এই পথের পরিস্থিতি বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি সরবরাহে কোনো ধরনের বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হলে তার প্রভাব পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়তে পারে বলে তিনি রাজনৈতিক বক্তব্যে তুলে ধরেন।

রিজভী বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলের কিছু কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, জনগণের সংকটের সময় অতিরিক্ত গাড়িবহর ও শোডাউনের মাধ্যমে জ্বালানি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা তাঁর মতে অপচয়ের উদাহরণ।

তিনি বিরোধী দলের একটি লংমার্চের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। রিজভীর বক্তব্য অনুযায়ী, যমুনা সেতুতে গাড়ির টোলের হিসাব নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সংখ্যা সামনে এসেছে। সরকারি হিসাবে গাড়ির সংখ্যা এবং রাজনৈতিক নেতাদের দেওয়া বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্যের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর প্রশ্ন, বিপুলসংখ্যক গাড়ি নিয়ে দূরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যাওয়ার প্রয়োজন কতটা ছিল এবং এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টি কেন বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, দেশের মানুষ যখন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটের মধ্যে রয়েছে, তখন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহার না করে সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্যে এ ধরনের কর্মসূচির ব্যয় ও জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হয়ে ওঠে।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তিনি দাবি করেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে ইতিবাচক কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছে এবং সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে অর্থনীতি উন্নতির দিকে যাচ্ছে। তবে সমাবেশে এ বিষয়ে বিস্তারিত অর্থনৈতিক তথ্য বা প্রতিবেদনের নির্দিষ্ট অংশ তিনি তুলে ধরেননি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের মানুষের কষ্টকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে কিছু মহল বিলাসিতা ও অতিরিক্ত প্রদর্শনীর রাজনীতি করছে।

সমাবেশে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আযাদ, সহ-অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিনসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

নয়াপল্টনের এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল দেশে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে রিজভীর বক্তব্যে সরকারের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক সমালোচনাও প্রকাশ পেয়েছে।

রাজনৈতিক বক্তব্যে রিজভী যে অভিযোগগুলো করেছেন, সেগুলোর মধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এবং দেশের ভেতরে থাকা কথিত ‘গুপ্ত ও সুপ্ত’ শক্তির সহায়তার দাবি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে সমাবেশে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সংগঠনের নাম, নথি বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে বিষয়গুলোকে রিজভীর রাজনৈতিক অভিযোগ ও বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এমন অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। একই সময়ে সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সামনে এলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি যাতে শান্তিপূর্ণ থাকে এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নয়াপল্টনের সমাবেশ থেকে রিজভী মূলত দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, কথিত নাশকতা প্রতিহত করা এবং জ্বালানি সংকটের মধ্যে অপচয় এড়িয়ে চলার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, দেশের যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে দলটি রাজপথে থাকবে। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমাবেশটি যেমন রাজনৈতিক কর্মসূচির রূপ পেয়েছে, তেমনি দেশের চলমান অর্থনৈতিক ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও বিরোধী দলের সমালোচনার বিষয়গুলো সামনে এসেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত