অক্টোবরে শুরু হচ্ছে ১৯তম বিজেএসের কার্যক্রম

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১১ বার
অক্টোবরে শুরু হচ্ছে ১৯তম বিজেএসের কার্যক্রম

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের (বিজেএস) ১৯তম পরীক্ষার কার্যক্রম অক্টোবর মাসের তৃতীয় সপ্তাহে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হতে পারে। একই সঙ্গে এবারও তুলনামূলক বেশি সংখ্যক বিচারক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজল।

বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব তথ্য জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯তম বিজেএস পরীক্ষার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশের আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করা চাকরিপ্রত্যাশী তরুণদের মধ্যে নতুন করে প্রস্তুতির ব্যস্ততা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যারা বিচার বিভাগে ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্য নিয়ে বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য পরীক্ষার সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এর আগে বুধবার ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। ওই পরীক্ষার মাধ্যমে ২০০ জনকে সিভিল জজ পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। ফল প্রকাশের পর সুপারিশপ্রাপ্ত সবাইকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।

তিনি জানান, সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবশিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রত্যাশা, নবনিযুক্ত বিচারকেরা অল্প সময়ের মধ্যেই বিচারিক কার্যক্রমে যোগ দিতে পারবেন।

নবনিযুক্ত বিচারকদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও কয়েকটি মৌলিক বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তাঁর প্রত্যাশা, নতুন বিচারকেরা সততা, ন্যায়নিষ্ঠা, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে বিচারিক দায়িত্ব পালন করবেন। বিচার বিভাগের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ধরে রাখতে বিচারকদের পেশাগত আচরণ ও দায়িত্বশীলতার গুরুত্ব রয়েছে বলেও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল একই সঙ্গে দেশের বিচারক স্বল্পতার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশে বিচারকের স্বল্পতা একটি সুপরিচিত বাস্তবতা। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন চাহিদাকৃত ১০০ জনের পরিবর্তে ২০০ জন সিভিল জজ নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছে।

ফলে ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে একসঙ্গে ২০০ জন সিভিল জজ নিয়োগের সুপারিশকে বিচারক সংকট মোকাবিলায় একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নতুন বিচারকদের নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার পর তারা বিভিন্ন আদালতে যোগ দিলে বিচারিক কার্যক্রমে এর বাস্তব প্রভাব কতটা পড়ে, সেটিই পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

দেশের আদালতগুলোতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা এবং বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। বিচারকের সংখ্যা, আদালতের অবকাঠামো, সহায়ক জনবল এবং মামলার ব্যবস্থাপনা—সবকিছুর ওপর বিচার কার্যক্রমের গতি নির্ভর করে। এ কারণে নতুন বিচারক নিয়োগের পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও গুরুত্বপূর্ণ।

রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, বিচার বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিচারকের স্বল্পতা দূর করা এবং জনগণের জন্য দ্রুত ও দক্ষ বিচারসেবা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় কাজ করার সুযোগ তাঁর জন্য একই সঙ্গে দায়িত্ব ও গৌরবের বিষয়। অ্যাটর্নি জেনারেল পদাধিকারবলে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের একজন সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

১৯তম বিজেএস পরীক্ষার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণার পেছনেও বিচারক নিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একটি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পরবর্তী পরীক্ষার কার্যক্রম দ্রুত শুরু হলে বিচার বিভাগে নতুন জনবল যুক্ত করার প্রক্রিয়ায় সময় কমানো সম্ভব হতে পারে।

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের নোটিশ তালিকায় ১৯তম বিজেএস পরীক্ষা, ২০২৬-এর বিজ্ঞপ্তি এবং সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির উল্লেখ রয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন বিসিএস নয়, বরং বিচার বিভাগে প্রবেশের জন্য পৃথক এই নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি প্রক্রিয়া এগিয়ে চলার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

বিজেএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য আইন বিষয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনকারী বিপুলসংখ্যক তরুণ প্রতিবছর প্রস্তুতি নেন। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ নির্ধারিত ধাপ অতিক্রম করে চূড়ান্তভাবে প্রার্থীদের নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। ফলে প্রাথমিক পরীক্ষার সম্ভাব্য সময় জানার সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির পরিকল্পনাতেও নতুন গতি আসতে পারে।

অক্টোবরে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা শুরু হওয়ার সম্ভাব্য সময় জানানো হলেও পরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখ, সময়, কেন্দ্র ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানা যাবে। পরীক্ষার্থীদের জন্য তাই আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা ও বিজ্ঞপ্তির বিষয়গুলো অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যে বিচারক নিয়োগের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বিচারব্যবস্থার মান নিয়েও প্রত্যাশার কথা উঠে এসেছে। তিনি এমন একটি বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেছেন, যা দক্ষ, ন্যায়নিষ্ঠ, জনবান্ধব এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে।

বিচারপ্রার্থীদের জন্য দ্রুত বিচার পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা বিচারব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। একটি মামলা দীর্ঘ সময় ধরে চললে এর সঙ্গে যুক্ত পক্ষগুলোর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানসিক চাপও বাড়তে পারে। ফলে বিচারকের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকর করার বিষয়টি সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ।

এ কারণে ১৯তম বিজেএস পরীক্ষার কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার উদ্যোগ শুধু চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য নয়, বিচার বিভাগের ভবিষ্যৎ জনবল কাঠামোর দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন পরীক্ষার মাধ্যমে আরও বিচারক নিয়োগের সুযোগ তৈরি হলে আদালতগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানোর পথ কিছুটা সহজ হতে পারে।

তবে বিচারক নিয়োগের পাশাপাশি তাঁদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, আদালতের অবকাঠামো, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সহায়ক জনবল নিশ্চিত করাও বিচারসেবার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। নতুন বিচারকদের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করা গেলে নিয়োগের সুফল বিচারপ্রার্থীদের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছাতে পারে।

১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় ২০০ জন সিভিল জজ নিয়োগের সুপারিশের পরপরই ১৯তম পরীক্ষার কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা এসেছে। এতে বিচারক নিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এখন অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি কতটা দ্রুত এগোয় এবং পরবর্তী ধাপগুলো কীভাবে সম্পন্ন হয়, সেটিই দেখার বিষয়।

অন্যদিকে, যারা বিচার বিভাগে ক্যারিয়ার গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য সময়টি গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভাব্য পরীক্ষার সময় সামনে রেখে এখন থেকেই প্রস্তুতি আরও গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে পরীক্ষার চূড়ান্ত সময়সূচি ও অন্যান্য নির্দেশনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

সব মিলিয়ে ১৯তম বিজেএস পরীক্ষার কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার উদ্যোগ বিচারক নিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে নতুন একটি ধাপ হিসেবে সামনে এসেছে। ১৮তম পরীক্ষায় ২০০ জন সিভিল জজ নিয়োগের সুপারিশের পর এবার আরও বিচারক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল। এই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হলে বিচারকের স্বল্পতা কমানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য দ্রুত ও কার্যকর বিচারসেবা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাও আরও এগিয়ে যেতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত