ডুমুরিয়ায় আওয়ামী লীগের ৪৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১০ বার
ডুমুরিয়ায় আওয়ামী লীগের ৪৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৪৭ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। বর্তমান সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র, নাশকতার পরিকল্পনা এবং গোপন বৈঠকে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গত সোমবার রাতে ডুমুরিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন রঘুনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রব আকুঞ্জি। মামলায় সাবেক জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও একজন স্থানীয় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে পুলিশ মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গত শুক্রবার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের কোমরাইল গ্রামের একটি বাগানবাড়িতে ডুমুরিয়া ও পার্শ্ববর্তী ফুলতলা উপজেলার আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের একদল নেতাকর্মী একত্রিত হন। সেখানে তারা বর্তমান সরকার উৎখাত এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে একটি গোপন বৈঠক করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে শপথ নেওয়া এবং সরকারবিরোধী ঝটিকা মিছিল ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ওই বৈঠকের কিছু ভিডিও পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি নেতা আব্দুর রব আকুঞ্জি ডুমুরিয়া থানায় গিয়ে মামলাটি করেন। মামলায় মোট ৪৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং সাবেক জনপ্রতিনিধিরাও রয়েছেন।

মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহনেওয়াজ হোসেন জোয়াদ্দার এবং সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ এবিএম শফিকুল ইসলামের নাম রয়েছে। এ ছাড়া সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট প্রতাপ কুমার রায়, মোস্তফা কামাল খোকন ও সরদার আব্দুল গনি, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য শোভা রানী হালদার ও হাসনা হেনা এবং উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শারমিনা পারভিন রুমার নামও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় একজন স্থানীয় সাংবাদিকের নামও রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পাশাপাশি পেশাজীবী ও সাবেক জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে একই মামলায় অভিযোগ আনার বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে গুরুত্ব পেয়েছে। তবে মামলায় নাম থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য এ প্রতিবেদনে নেই। মামলার এজাহারে বাদীর পক্ষ থেকে যে অভিযোগগুলো করা হয়েছে, সেগুলোর ভিত্তিতেই আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।

স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের মামলা নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধ, কর্মসূচি এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে। ডুমুরিয়ার ঘটনাতেও একটি নির্দিষ্ট বৈঠককে কেন্দ্র করে একসঙ্গে ৪৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মামলার বাদী আব্দুর রব আকুঞ্জির অভিযোগ অনুযায়ী, বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা শুধু রাজনৈতিক আলোচনা করেননি, বরং বর্তমান সরকার উৎখাতের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়ার বিষয়ে পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি এজাহারে সরকারবিরোধী ঝটিকা মিছিল এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে শপথ নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।

তবে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের বিষয়টি তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। মামলার এজাহারে কোনো ব্যক্তির নাম থাকাই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সমান নয়। আইন অনুযায়ী তদন্তে সংশ্লিষ্ট ঘটনার সঙ্গে কার কী ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল, সে বিষয়গুলো যাচাই করার সুযোগ রয়েছে। একইভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদেরও আইনি প্রক্রিয়ায় নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের অধিকার রয়েছে।

পুলিশ ইতোমধ্যে মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের গ্রেপ্তারের পর মামলার তদন্ত কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বৈঠকটি কোথায়, কীভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেখানে কারা উপস্থিত ছিলেন এবং অভিযোগে উল্লেখ করা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কারও প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

এদিকে মামলায় অধিকাংশ আসামিই সাবেক জনপ্রতিনিধি বা স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে এজাহারের তথ্য থেকে জানা যায়। ফলে মামলাটির প্রভাব স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও পড়তে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষক ও সাংবাদিকের নাম মামলায় থাকায় পেশাজীবীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলার অভিযোগ নিয়েও স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডুমুরিয়া ও পার্শ্ববর্তী ফুলতলা উপজেলার আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি অংশ ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। তবে বৈঠকে উপস্থিত প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা কী ছিল এবং সেখানে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের বিষয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করেই মামলার সূত্রপাত হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন বাদী।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হওয়ায় বিষয়টি সাধারণ রাজনৈতিক মামলার তুলনায় ভিন্ন আইনগত কাঠামোর মধ্যে পড়েছে। এ ধরনের মামলায় অভিযোগের ধরন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে তদন্তকারী সংস্থার তথ্য ও আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে নজর থাকবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক কর্মসূচি কিংবা সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হলে তার প্রভাব সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় পরিবেশে পড়তে পারে। তাই রাজনৈতিক বিরোধ বা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সহিংসতা বা নাশকতা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের ঘটনায় মামলা হলে তার আইনগত প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা না করে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে প্রকৃত অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে, অন্যদিকে নির্দোষ কেউ হয়রানির শিকার হলে তার প্রতিকারের সুযোগও থাকবে।

ডুমুরিয়ার এই মামলায় এখন তদন্তের পরবর্তী ধাপের দিকে তাকিয়ে আছে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল। ৪৭ জনের নাম উল্লেখ করে করা মামলার অভিযোগগুলো কতটা সত্য, বৈঠকে কারা কী ভূমিকা পালন করেছেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় পরিষ্কার হওয়ার কথা। আপাতত মামলাটি ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামির পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের দিকেও নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত