প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে সংসদ সদস্যদের (এমপি) সফর, চ্যান্সারি ভবন ব্যবহার করে বৈঠক বা বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এখন থেকে এ ধরনের অনুরোধ নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্পন্ন করতে হবে। বিদেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের সব মিশন প্রধানকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি গোপনীয় বার্তার মাধ্যমে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিদেশে বাংলাদেশের সব মিশন প্রধানকে বিষয়টি জানানো হয়। বার্তাটি ফ্যাক্স ও ই-মেইলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মিশনগুলোতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
নতুন নির্দেশনার ফলে বিদেশ সফরে থাকা বা সফরের পরিকল্পনা করা কোনো সংসদ সদস্য বাংলাদেশ মিশনে গিয়ে সরাসরি কর্মসূচি আয়োজন কিংবা চ্যান্সারি ভবন ব্যবহারের অনুরোধ করলে সংশ্লিষ্ট মিশনকে নিজ উদ্যোগে তা চূড়ান্ত না করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। অর্থাৎ এ ধরনের বিষয় এখন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্তায় বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশন পরিদর্শন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিদেশ সফরের সময় অনেক ক্ষেত্রে তারা মিশনের চ্যান্সারি ভবন ব্যবহার করে বৈঠক, সভা কিংবা বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের অনুরোধও করেন। এসব কর্মসূচিতে স্বাগতিক সরকারের কর্মকর্তা, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ ধরনের সফর ও কর্মসূচির সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, প্রটোকল এবং মিশনের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার বিষয় জড়িত থাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিত প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোর কার্যক্রমের সঙ্গে সংসদ সদস্যদের সফর-সংক্রান্ত কর্মসূচির সমন্বয় আরও সুসংগঠিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য এ ধরনের বিষয়ে সরাসরি বাংলাদেশ মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করার বিষয়ে অবহিত করতে হবে। মিশনগুলোকে এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস, হাইকমিশন ও অন্যান্য মিশন দেশের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্ব করে। এসব মিশনের মাধ্যমে স্বাগতিক দেশের সরকার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী মহল, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে মিশনের অভ্যন্তরে কোনো বৈঠক বা অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক প্রটোকল ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন হয়।
সংসদ সদস্যদের বিদেশ সফরও বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সংসদীয় কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক সম্মেলন, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগ কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনের কারণে তারা বিদেশ সফর করতে পারেন। এসব সফরের সময় সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজন হলে নতুন নির্দেশনার আলোকে তা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।
বিশেষ করে চ্যান্সারি ভবন ব্যবহারের বিষয়টি প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। একটি কূটনৈতিক মিশনের ভবনে বিভিন্ন ধরনের বৈঠক ও অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলেও প্রতিটি আয়োজনের ক্ষেত্রে মিশনের নিয়মিত কার্যক্রম, নিরাপত্তা, প্রটোকল এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অংশগ্রহণের বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়। নতুন নির্দেশনায় এসব বিষয়কে একটি কেন্দ্রীয় সমন্বয় প্রক্রিয়ার আওতায় আনার দিকটি স্পষ্ট হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ নির্দেশনা বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোর প্রধানদের জন্যও একটি অভিন্ন প্রক্রিয়া নির্ধারণ করছে। এর ফলে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলো সংসদ সদস্যদের সফর বা কর্মসূচির বিষয়ে একই ধরনের প্রশাসনিক কাঠামো অনুসরণ করতে পারবে। এতে একেকটি মিশনে একেক ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে কেন্দ্রীয়ভাবে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণের সুযোগ তৈরি হবে।
একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের জন্যও বিদেশ সফরের সময় বাংলাদেশ মিশনের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত চ্যানেল অনুসরণ করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন নিয়মের ফলে মিশনে সরাসরি কোনো কর্মসূচির অনুরোধ জানানো হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার দিকে পাঠাবেন।
কূটনৈতিক মিশনের স্বাভাবিক কার্যক্রমের সঙ্গে অতিথি, প্রতিনিধি ও সফরকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কর্মসূচির সমন্বয় করা সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয়। বিদেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী মিশনগুলোকে একদিকে যেমন নিয়মিত কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করতে হয়, অন্যদিকে বিভিন্ন সরকারি প্রতিনিধি ও সফরকারীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও করতে হয়। নতুন নির্দেশনা এই দুই ধরনের দায়িত্বের মধ্যে সমন্বয়কে আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বার্তার বিষয়বস্তু থেকে বোঝা যায়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের পাঠানো বার্তায় বিদেশে বাংলাদেশের সব মিশন প্রধানকে সংসদ সদস্যদের সফর উপলক্ষে কোনো কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে নতুন সিদ্ধান্ত অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে এমপিদের সফরকেন্দ্রিক বৈঠক, সভা বা চ্যান্সারি ভবন ব্যবহারের বিষয়গুলো নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হবে।
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি কূটনীতিকদের জন্যও এ নির্দেশনা তাৎপর্যপূর্ণ। কোনো সংসদ সদস্য মিশনে যোগাযোগ করলে তাকে কীভাবে বিষয়টি জানাতে হবে, সে সম্পর্কে এখন একটি অভিন্ন নির্দেশনা থাকছে। এতে ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তের পরিবর্তে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণের সুযোগ বাড়বে।
এ ধরনের প্রশাসনিক নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো সরকারি কার্যক্রমে সমন্বয়, প্রটোকল ও দায়িত্বের সীমারেখা স্পষ্ট রাখা। বিদেশে কোনো সরকারি প্রতিনিধি সফর করলে তার কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, মিশন এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। নতুন নির্দেশনা সেই সমন্বয়কে আরও কাঠামোবদ্ধ করার উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে।
তবে নতুন নির্দেশনায় সংসদ সদস্যদের বিদেশ সফর বা বাংলাদেশ মিশন পরিদর্শনে কোনো সাধারণ নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়নি। বরং সফরের সময় মিশন ব্যবহার কিংবা কর্মসূচি আয়োজনের অনুরোধকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বিষয়টি মূলত অনুমোদন ও সমন্বয়ের প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি অনুসরণের সঙ্গে সম্পর্কিত।
বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে সরকারি প্রতিনিধি, সংসদ সদস্য, ব্যবসায়ী, প্রবাসী এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নানা ধরনের যোগাযোগ হয়ে থাকে। এসব কার্যক্রম যথাযথভাবে সমন্বিত হলে মিশনের নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সফরকারীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই সমন্বয় প্রক্রিয়াকে আরও নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনতে চেয়েছে।
এখন থেকে কোনো সংসদ সদস্য বিদেশে বাংলাদেশ মিশন পরিদর্শন করতে চাইলে বা চ্যান্সারি ভবনে বৈঠক কিংবা অন্য কোনো কর্মসূচি আয়োজনের অনুরোধ জানালে সংশ্লিষ্ট মিশনকে মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। বিদেশে নিযুক্ত মিশন প্রধানদের প্রতি এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ফলে সংসদ সদস্যদের বিদেশ সফরকেন্দ্রিক মিশন কার্যক্রমে কেন্দ্রীয় সমন্বয় আরও জোরদার হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।