ট্রাম্প অস্বীকার করলেন ইরানকে অর্থছাড়ের প্রস্তাব

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩ বার
ট্রাম্প অস্বীকার করলেন ইরানকে অর্থছাড়ের প্রস্তাব

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশটির জব্দকৃত অর্থ ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছেন—এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর তা সরাসরি অস্বীকার করেছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নিলে ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক চাপ কমানোর বিষয়ে রাজি হতে পারে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানকে এ ধরনের কোনো প্রস্তাব তিনি দেননি।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, অ্যাক্সিওস তাঁর পক্ষ থেকে ইরানকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও জব্দ করা অর্থ ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়ার যে খবর প্রকাশ করেছে, তা সত্য নয়। তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেন, ইরানকে তিনি কোনো প্রস্তাব দেননি। একই সঙ্গে তিনি অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনকে মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করেন এবং প্রতিবেদনটি প্রত্যাহারের দাবি জানান।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের পরিবর্তে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। কাতারসহ আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষের মধ্যে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করছেন।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দৃশ্যমান ও নির্দিষ্ট পদক্ষেপের বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি অর্থ ছাড়ের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন বিবেচনা করতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আলোচনায় কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে। বিশেষ করে কোন পক্ষ আগে কী পদক্ষেপ নেবে, সেটি নিয়ে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ট্রাম্পের প্রকাশ্য অস্বীকৃতি আলোচনাটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। কারণ, একদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগও চলছে। ফলে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে আলোচনা তৈরি হয়েছিল, ট্রাম্পের বক্তব্যের পর তার বাস্তব অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই জলপথকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান পরস্পর থেকে অনেক দূরে। ইরান সাম্প্রতিক প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ কমানোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন আলোচনার কেন্দ্রে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল। মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় অনুষ্ঠিত ওই যোগাযোগকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে দেখা হয়েছিল। তবে আলোচনার পরও মৌলিক মতপার্থক্য দূর হয়নি। ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি ও সামরিক অবরোধের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে, আর যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক ইস্যুকে আলোচনার প্রধান শর্ত হিসেবে সামনে রাখছে।

এরই মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি নিউইয়র্কে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। ইরানি পক্ষ জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন কিছু ধারণা বা প্রস্তাব পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এর লক্ষ্য মূলত হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার জন্য একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরি করা।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাতে এর আগে বলা হয়েছিল, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের আর কোনো সরাসরি বৈঠক নির্ধারিত নেই। তবে একই সময়ে ট্রাম্প বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে আবার আলোচনা শুরু হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন। ফলে সরাসরি বৈঠকের পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ চালু রাখার সম্ভাবনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইরানের জন্য নিষেধাজ্ঞা ও বিদেশে আটকে থাকা অর্থের বিষয়টি অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির অর্থনীতি নানা ধরনের চাপের মুখে রয়েছে। তেল রপ্তানি, বৈদেশিক লেনদেন ও আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকারের ওপর বিধিনিষেধ ইরানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে নিষেধাজ্ঞা ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। তাই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রশ্নটি শুধু অর্থনৈতিক নয়, দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ।

এ অবস্থায় ট্রাম্পের অস্বীকৃতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ, নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা জব্দকৃত অর্থ ছাড়ের মতো কোনো পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের আলোচনায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারত। কিন্তু ট্রাম্প প্রকাশ্যে এমন কোনো প্রস্তাব দেওয়ার কথা অস্বীকার করায় বিষয়টি এখনো সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দাবি ও প্রেসিডেন্টের প্রত্যাখ্যানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তি বা সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে নিশ্চিত হয়নি।

একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ওপরও এই কূটনৈতিক অচলাবস্থার প্রভাব রয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে জলপথটির নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব আঞ্চলিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাজারেও পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও জব্দকৃত অর্থ ছাড়ের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। তবে একই সময়ে কাতারসহ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এখন আলোচনার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি, সামরিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা এবং পারস্পরিক আস্থার মতো জটিল বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কতটা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে তার ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত