তারেক রহমানের নেতৃত্বে ক্ষমতা জনগণের কাছে: কাদের গনি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫ বার
তারেক রহমানের নেতৃত্বে ক্ষমতা জনগণের কাছে: কাদের গনি

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্রক্ষমতা এখন ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার বাইরে জনগণের কাছে পৌঁছেছে। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় কাদের গনি চৌধুরী সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা ও সমর্থনের বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন জনমত জরিপে সরকারের কার্যক্রমের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তিনি একটি জাতীয় জনমত জরিপের উল্লেখ করে দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের দায়িত্ব পালনের ধরনকে ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা সমর্থন করেছেন। তবে এ ধরনের জরিপের ফলাফল কীভাবে পরিচালিত হয়েছে, কোন সময়ে এবং কোন জনগোষ্ঠীর মধ্যে জরিপটি করা হয়েছে—এসব বিস্তারিত তথ্য তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরা হয়নি।

কাদের গনি চৌধুরী বাংলাদেশের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপির ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, দেশের যে উন্নয়ন হয়েছে তার ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশের সঙ্গে বিএনপির অবদান রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ আসে। একই ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

তারেক রহমান বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সংসদে তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যেও জনগণের প্রতিনিধিত্ব, জবাবদিহি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

মতবিনিময় সভায় সরকারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও বিস্তারিত বক্তব্য দেন কাদের গনি চৌধুরী। তিনি দাবি করেন, ডলার ও ভারতীয় রুপির বিপরীতে বাংলাদেশের টাকা পাঁচ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তাঁর মতে, বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকলে বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা আরও বাড়তে পারে। অর্থনীতির ক্ষেত্রে বিনিময় হার ও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা যে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তাঁর বক্তব্যে সেই বিষয়টিও উঠে আসে।

তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি নিয়েও তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। কাদের গনি চৌধুরীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রচলিত বাজারের বাইরে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্ট মাসে এসব বাজারে ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে বলে তিনি জানান, যা একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ রপ্তানি আয় বলে তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও খেলাপি ঋণ আদায়ের বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পায়। কাদের গনি চৌধুরী দাবি করেন, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে চলতি বছরের জুনে খেলাপি ঋণের অনুপাত কমে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যভিত্তিক সরকারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সাম্প্রতিক তথ্যভাণ্ডারেও ২০২৬ সালের জুন শেষে ব্যাংক খাতে শ্রেণিকৃত ঋণের অনুপাত ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ দেখানো হয়েছে।

তবে ব্যাংক খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। একই তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছয় লাখ কোটি টাকার বেশি ছিল। ফলে খেলাপি ঋণ কমানোর উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যাংক খাতে সুশাসন, ঋণ আদায় এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে।

বিদেশি ঋণ পরিশোধের বিষয়েও সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম পাঁচ মাসে সরকার বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে। তাঁর বক্তব্যে দেশের বৈদেশিক দায় পরিশোধে সরকারের সক্ষমতা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহির সংস্কৃতির পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। কাদের গনি চৌধুরীর দাবি, জাতীয় সংসদে প্রশ্ন, পাল্টা প্রশ্ন, আলোচনা এবং জবাবদিহির সংস্কৃতি এখন দৃশ্যমান হচ্ছে। সরকারের কার্যক্রমে সংসদীয় আলোচনার গুরুত্ব বাড়ানো হলে নীতিনির্ধারণ ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে জনস্বার্থের বিষয়গুলো আরও বেশি আলোচনায় আসতে পারে—এমন একটি ধারণাও তাঁর বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়।

সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রসাধনের কথাও তুলে ধরেন কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণ সীমিত করা, সরকারি ব্যয়ে সংযম এবং প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ছোট করার মতো পদক্ষেপ রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে। এসব পদক্ষেপকে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যয়সংযম ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে তুলে ধরেন।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিষয়েও সভায় বক্তব্য দেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে পরিবারপ্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এবং বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৩ লাখ কৃষক পরিবারের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত আরও কিছু কর্মসূচির কথাও তিনি তুলে ধরেন। এর মধ্যে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় গুরুদের সম্মানি ভাতা, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস নিশ্চিত করা এবং অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

প্রবাসীদের সঙ্গে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্র জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের সভাপতি নাছিম আহমদ সভায় সভাপতিত্ব করেন। আলোচনায় আমেরিকা বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট জাকির এইচ চৌধুরীসহ প্রবাসী সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

কাদের গনি চৌধুরীর বক্তব্যে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তনের পাশাপাশি অর্থনীতি, ব্যাংক খাত, সামাজিক নিরাপত্তা, সরকারি ব্যয় এবং প্রবাসীদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক—বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। তাঁর বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা এবং সেগুলোর সম্ভাব্য প্রভাবের ব্যাখ্যা। এসব বক্তব্যের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকের বাস্তব পরিবর্তন কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ঘোষিত কর্মসূচিগুলো মানুষের জীবনে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা সময়ের সঙ্গে মূল্যায়নের বিষয় হয়ে থাকবে।

দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সরকারের সামনে এখন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা, কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণের মতো একাধিক প্রত্যাশা রয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে আলোচনায় কাদের গনি চৌধুরী সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, তার বাস্তব প্রতিফলন নির্ভর করবে এসব উদ্যোগের ধারাবাহিক বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা এবং সাধারণ মানুষের কাছে সেবার কার্যকারিতার ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত