প্রকাশ:২২ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের সড়কে প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। মহাসড়ক থেকে অলিগলি সর্বত্রই যানবাহনের বেপরোয়া গতি আর তাণ্ডবের পেছনে প্রধান কুশীলব হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে অদক্ষ ও অনিয়মের মাধ্যমে লাইসেন্স পাওয়া চালকেরা। অথচ একটি নিরাপদ ও শৃঙ্খলিত সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব যে প্রতিষ্ঠানের কাঁধে, সেই বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি বা বিআরটিএ-এর ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটিই আজ নানা অনিয়ম, দুর্নীতি আর গভীর সংকটে আবর্তিত। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে লাইসেন্স প্রদানে নজিরবিহীন জালিয়াতি, দালালদের দৌরাত্ম্য, অস্বাভাবিক পাসের হার এবং নীতিবহির্ভূত প্রভাব বিস্তারের এক লোমহর্ষক চিত্র উঠে এসেছে, যা সচেতন মহলে তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন মেট্রো সার্কেলে অনুষ্ঠিত ড্রাইভিং লাইসেন্সের লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় পাসের হার রীতিমতো অবিশ্বাস্য। ঢাকার চারটি মেট্রো সার্কেল ও ঢাকা জেলা সার্কেলের সাম্প্রতিক ১০টি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেখানে অংশগ্রহণকারী চার হাজার ৯৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে চার হাজার ৪৪৭ জনই সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রতিটি কেন্দ্রেই পাসের এই হার ৮৪ থেকে ৯৫ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। শুধু ঢাকাতেই নয়, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ এবং গাজীপুরের পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর ফলাপাতালেও দেখা গেছে একই ধরনের অস্বাভাবিক ও উচ্চ পাসের হার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের সামগ্রিক সড়ক পরিবহন খাতে দক্ষ চালকের তীব্র সংকট থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষার নামে এই ছাঁটাইহীন ও গতানুগতিক পাস প্রক্রিয়া মূলত অনিয়মকেই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে।
এই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য দাখিল করা নথিপত্রের শতভাগ সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন। অনুসন্ধানে ১৬টি আবেদনপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সেগুলোর প্রতিটিতেই জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া বাকি সব নথিই ভুয়া বা জাল। নিয়ম অনুযায়ী অপেশাদার লাইসেন্সের আবেদনে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, ইউটিলিটি বিলের কপি এবং মেডিক্যাল সার্টিফিকেট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। আর পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে এর সঙ্গে ডোপ টেস্টের রিপোর্ট জমা দেওয়া আবশ্যক। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, পেশাদার লাইসেন্সের জন্য জমা দেওয়া কোনো সনদের সঙ্গেই আবেদনকারীর নাম মিলেনি। এমনকি যেসব মেডিক্যাল সার্টিফিকেট সংযুক্ত করা হয়েছে, সেগুলোতে চিকিৎসকের সিল থাকলেও কোনো স্বাক্ষর মেলেনি। চিকিৎসকদের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে আবেদনকারীরা কখনো ডোপ টেস্টের জন্য হাসপাতালেই যাননি। একইভাবে অপেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রেও মেডিক্যাল সার্টিফিকেট ও ঠিকানার প্রমাণপত্র জাল করার প্রমাণ মিলেছে। লারনার কার্ড বা শিক্ষানবিশ লাইসেন্স নেওয়ার সময় অনলাইনে আপলোড করা এসব নথি পরীক্ষার দিন সশরীরে যাচাই করার কথা থাকলেও বিআরটিএর কেন্দ্রগুলোতে কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অবশ্য নিজেদের দায় এড়িয়ে ভিন্ন যুক্তি দিয়েছেন। তাদের দাবি, মেডিক্যাল সার্টিফিকেট বা ডোপ টেস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র অনলাইনে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করার কোনো সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবস্থা তাদের হাতে নেই। ঢাকার বাইরে বা অন্যান্য হাসপাতালের ডোপ টেস্টের রিপোর্ট যাচাই করা এক প্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কারণ বিআরটিএর তরফ থেকে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের ইমেইলে রিপোর্ট পাঠানোর অনুরোধ জানানো হলেও হাসপাতালগুলো অনেক সময় তা প্রতিপালন করে না। ফলে বাধ্য হয়েই আবেদনকারীদের আপলোড করা নথির ওপর নির্ভর করতে হয় কর্মকর্তাদের। তবে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান দাবি করেছেন যে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং এই জটিলতা নিরসনে খুব দ্রুত কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
নথি জালিয়াতির পাশাপাশি ড্রাইভিং লাইসেন্স বাণিজ্যের আরেকটি বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে শক্তিশালী দালাল চক্র। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিটি লাইসেন্স প্রার্থীর কাছ থেকে দালালরা নানা উপায়ে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে। অথচ সরকারের নির্ধারিত সরকারি ফি অপেশাদার লাইসেন্সের জন্য চার হাজার ৪৯৭ এবং পেশাদার লাইসেন্সের জন্য মাত্র দুই হাজার ৭৭২ টাকা। অতিরিক্ত এই অর্থের একটি বড় অংশ বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট মোটরযান পরিদর্শকদের কাছে পৌঁছায়, যাকে দালালরা টেবিল খরচ বলে অভিহিত করে থাকে। প্রতিটি লাইসেন্স নিশ্চিত করতে দুই থেকে তিন হাজার টাকা এই খাতে দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর বিনিময়ে পরীক্ষার খাতায় ফেল করা প্রার্থীকেও বিশেষ উপায়ে পাস করিয়ে নেওয়ার মতো গুরুতর অনিয়ম আকছার ঘটছে। পরীক্ষা গ্রহণের জন্য নির্ধারিত ড্রাইভিং কমপিটেন্সি টেস্ট বোর্ডে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক সময়ই সদস্যরা উপস্থিত থাকেন না। মোটরযান পরিদর্শকরাই নেপথ্যে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন এবং পরবর্তীতে সদস্যদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। তাছাড়া বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল, মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন দপ্তরের তদবিরের কারণে বাধ্য হয়েই ১০ থেকে ১৫ শতাংশ অযোগ্য প্রার্থীকে পাস করিয়ে দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য দাখিল করা নথিপত্রের শতভাগ সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন। অনুসন্ধানে ১৬টি আবেদনপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সেগুলোর প্রতিটিতেই জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া বাকি সব নথিই ভুয়া বা জাল। নিয়ম অনুযায়ী অপেশাদার লাইসেন্সের আবেদনে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, ইউটিলিটি বিলের কপি এবং মেডিক্যাল সার্টিফিকেট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। আর পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে এর সঙ্গে ডোপ টেস্টের রিপোর্ট জমা দেওয়া আবশ্যক। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, পেশাদার লাইসেন্সের জন্য জমা দেওয়া কোনো সনদের সঙ্গেই আবেদনকারীর নাম মিলেনি। এমনকি যেসব মেডিক্যাল সার্টিফিকেট সংযুক্ত করা হয়েছে, সেগুলোতে চিকিৎসকের সিল থাকলেও কোনো স্বাক্ষর মেলেনি। চিকিৎসকদের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে আবেদনকারীরা কখনো ডোপ টেস্টের জন্য হাসপাতালেই যাননি। একইভাবে অপেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রেও মেডিক্যাল সার্টিফিকেট ও ঠিকানার প্রমাণপত্র জাল করার প্রমাণ মিলেছে। লারনার কার্ড বা শিক্ষানবিশ লাইসেন্স নেওয়ার সময় অনলাইনে আপলোড করা এসব নথি পরীক্ষার দিন সশরীরে যাচাই করার কথা থাকলেও বিআরটিএর কেন্দ্রগুলোতে কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অবশ্য নিজেদের দায় এড়িয়ে ভিন্ন যুক্তি দিয়েছেন। তাদের দাবি, মেডিক্যাল সার্টিফিকেট বা ডোপ টেস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র অনলাইনে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করার কোনো সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবস্থা তাদের হাতে নেই। ঢাকার বাইরে বা অন্যান্য হাসপাতালের ডোপ টেস্টের রিপোর্ট যাচাই করা এক প্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কারণ বিআরটিএর তরফ থেকে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের ইমেইলে রিপোর্ট পাঠানোর অনুরোধ জানানো হলেও হাসপাতালগুলো অনেক সময় তা প্রতিপালন করে না। ফলে বাধ্য হয়েই আবেদনকারীদের আপলোড করা নথির ওপর নির্ভর করতে হয় কর্মকর্তাদের। তবে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান দাবি করেছেন যে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং এই জটিলতা নিরসনে খুব দ্রুত কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
নথি জালিয়াতির পাশাপাশি ড্রাইভিং লাইসেন্স বাণিজ্যের আরেকটি বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে শক্তিশালী দালাল চক্র। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিটি লাইসেন্স প্রার্থীর কাছ থেকে দালালরা নানা উপায়ে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে। অথচ সরকারের নির্ধারিত সরকারি ফি অপেশাদার লাইসেন্সের জন্য চার হাজার ৪৯৭ এবং পেশাদার লাইসেন্সের জন্য মাত্র দুই হাজার ৭৭২ টাকা। অতিরিক্ত এই অর্থের একটি বড় অংশ বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট মোটরযান পরিদর্শকদের কাছে পৌঁছায়, যাকে দালালরা টেবিল খরচ বলে অভিহিত করে থাকে। প্রতিটি লাইসেন্স নিশ্চিত করতে দুই থেকে তিন হাজার টাকা এই খাতে দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর বিনিময়ে পরীক্ষার খাতায় ফেল করা প্রার্থীকেও বিশেষ উপায়ে পাস করিয়ে নেওয়ার মতো গুরুতর অনিয়ম আকছার ঘটছে।
পরীক্ষা গ্রহণের জন্য নির্ধারিত ড্রাইভিং কমপিটেন্সি টেস্ট বোর্ডে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক সময়ই সদস্যরা উপস্থিত থাকেন না। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিনিধিদের আলাদা কক্ষে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করে মূলত মোটরযান পরিদর্শকরাই পরীক্ষা পরিচালনা করেন এবং পরবর্তীতে সদস্যদের কার্যালয়ে গিয়ে অনুমোদন গ্রহণ করা হয়। তাছাড়া বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল, মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন দপ্তরের তদবিরের কারণে বাধ্য হয়েই ১০ থেকে ১৫ শতাংশ অযোগ্য প্রার্থীকে পাস করিয়ে দিতে হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সাধারণ পরীক্ষার্থীরা যখন নিয়ম মেনে লাইসেন্স পেতে হয়রানির শিকার হন, তখন অনৈতিক সুবিধা প্রদানকারীরা সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে।
সড়ক দুর্ঘটনার বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ভুয়া সনদে পাওয়া লাইসেন্সধারী চালকেরাই মহাসড়কে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। সাধারণ পথচারী ও যাত্রীরা প্রতিদিনই এমন এক অনিশ্চিত যাত্রায় অংশ নেন, যেখানে চালকের দক্ষতা নিয়ে পদে পদে সংশয় থেকে যায়। পরিবহন মালিক সমিতি এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোর ভেতরের একশ্রেণির অসাধু নেতৃত্বও এই ভুয়া লাইসেন্সধারীদের ব্যাকআপ দিয়ে থাকে বলে সাধারণ চালকদের মাঝে ক্ষোভ রয়েছে। ফলে একদিকে যেমন সৎ ও যোগ্য চালকেরা তাদের প্রাপ্য মূল্যায়ন পাচ্ছেন না, অন্যদিকে সম্পূর্ণ অদক্ষ চালকদের হাতে কোটি টাকার যানবাহন সঁপে দিয়ে প্রতিনিয়ত সড়কজুড়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু বিক্ষিপ্তভাবে কিছু দালাল ধরে এই গভীর ক্ষত সারানো সম্ভব নয়। বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ও বিশিষ্ট পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান স্পষ্টতই উল্লেখ করেছেন যে দেশে ভারী যানবাহনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক দক্ষ চালক নেই এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও এ ক্ষেত্রে চরম উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি ভারী যানবাহনের বিপরীতে দেড়জন চালক প্রয়োজন হলেও আমাদের দেশে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও দক্ষ চালকের চরম ঘাটতি রয়েছে। প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন না করে এভাবে অসদুপায়ে লাইসেন্স দেওয়া হলে ভবিষ্যতে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনেও সেবা খাতের মধ্যে দুর্নীতিতে বিআরটিএর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে, যেখানে প্রায় ৭৯ শতাংশেরও বেশি মানুষ সেবা নিতে গিয়ে কোনো না কোনোভাবে দুর্নীতির শিকার হন। দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে এই অনিয়মের জাল এখনই ছিঁড়ে ফেলা জরুরি। পরীক্ষাকেন্দ্রে কড়া নজরদারি, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, বায়োমেট্রিক হাজিরা নিশ্চিত করা এবং ডোপ টেস্টের রিপোর্ট সরাসরি অনলাইন ভিত্তিক ভেরিফিকেশনের আওতায় আনা না হলে কাঙ্ক্ষিত নিরাপদ সড়ক কখনোই বাস্তবায়িত হবে না। একইসঙ্গে বিআরটিএর যেসব অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যোগসাজশে এই জালিয়াতি প্রক্রিয়া চালু রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু বিক্ষিপ্তভাবে কিছু দালাল ধরে এই গভীর ক্ষত সারানো সম্ভব নয়। বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ও বিশিষ্ট পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান স্পষ্টতই উল্লেখ করেছেন যে দেশে ভারী যানবাহনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক দক্ষ চালক নেই এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও এ ক্ষেত্রে চরম উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনেও সেবা খাতের মধ্যে দুর্নীতিতে বিআরটিএর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে, যেখানে প্রায় ৭৯ শতাংশেরও বেশি মানুষ সেবা নিতে গিয়ে কোনো না কোনোভাবে দুর্নীতির শিকার হন। দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে এই অনিয়মের জাল এখনই ছিঁড়ে ফেলা জরুরি। পরীক্ষাকেন্দ্রে কড়া নজরদারি, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, বায়োমেট্রিক হাজিরা নিশ্চিত করা এবং ডোপ টেস্টের রিপোর্ট সরাসরি অনলাইন ভিত্তিক ভেরিফিকেশনের আওতায় আনা না হলে কাঙ্ক্ষিত নিরাপদ সড়ক কখনোই বাস্তবায়িত হবে না।
স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত