প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই তরুণ। যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে দ্রুতগামী মালবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর ট্রাকটি উল্টে গেলে ঘটনাস্থলেই এই হৃদয়বিদারক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ সময় বাসের বেশ কয়েকজন যাত্রীও মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। মাঝরাতের নিরবতা চিরে হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই সড়ক বিপর্যয় এবং হতাহতের ঘটনা এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের মাতম।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্র থেকে জানা গেছে, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে, সময় আনুমানিক পৌনে একটা। মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত নয়াপাড়া এলাকার সবুজ পাহাড়ের বাঁকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পাহাড়ি ওই বিপদজনক বাঁকে চট্টগ্রামমুখী যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা এক মালবাহী ট্রাকের বিকট শব্দে মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। আঘাতের তীব্রতায় পণ্যবাহী ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের ওপরই বিপজ্জনকভাবে একপাশে কাত হয়ে উল্টে যায়। সংঘর্ষের পর বাসের সামনের অংশ ধুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা যাত্রীদের চিৎকারে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় অধিবাসীরা ও পথচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজে হাত বাড়ান।
খবর পেয়ে ডুলাহাজারায় অবস্থিত মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। হাইওয়ে পুলিশের সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, তারা ঘটনাস্থলে পৌছে দেখতে পান দুইজন তরুণ ইতোমধ্যেই মারা গেছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত কয়েকজনকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ চিকিৎসার কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এরপর দুর্ঘটনায় পতিত বাস ও কাত হয়ে পড়ে থাকা ট্রাকটি মহাসড়ক থেকে ক্রেনের সাহায্যে সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পুলিশি তৎপরতায় খুব দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ওই দুই তরুণের সুনির্দিষ্ট নাম-পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের বয়স আনুমানিক ২২ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে হবে। প্রাণ হারানো দুই তরুণের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে, সেই দুর্ঘটনাস্থল তল্লাশি করে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত পরিচয়পত্রে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার দক্ষিণ হ্নীলা এলাকার বাসিন্দা আবুল কালামের ছেলে আব্দুল্লাহর নাম ও ঠিকানা পাওয়া গেছে। হাইওয়ে পুলিশ এই ঠিকানার সুসূত্র ধরে অনুসন্ধান জোরদার করেছে এবং নিহত তরুণরা এই ঠিকানার কি না অথবা তারা সহযাত্রী ছিলেন কি না তা যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্র থেকে জানা গেছে, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে, সময় আনুমানিক পৌনে একটা। চকরিয়া উপজেলার অধীনস্থ খুটাখালী ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত নয়াপাড়া এলাকার ‘সবুজ পাহাড়ের বাঁক’ নামক পরিচিত স্থানে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের এই অংশটি পাহাড়ি আঁকাবাঁকা ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ হিসেবে দীর্ঘকাল ধরেই পরিচিত। গভীর রাতে চট্টগ্রামমুখী একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস যখন ওই পাহাড়ের বাঁক অতিক্রম করছিল, ঠিক তখনই বিপরীত দিক থেকে আসা এক মালবাহী ট্রাকের সঙ্গে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে মুখোমুখি প্রচণ্ড সংঘর্ষ ঘটে।
সংঘর্ষের পরপরই বাস ও ট্রাক দুটির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ধুমড়ে-মুচড়ে যায়। মালবাহী ভারী ট্রাকটি ভারসাম্য বজায় রাখতে না পেরে মূল সড়কের ওপরই কাত হয়ে উল্টে পড়ে। রাতদুপুরে সেই বিকট শব্দ ও বাসের ভেতরের যাত্রীদের করুণ আর্ত চিৎকার শুনে আশপাশের বসতি ও সড়কের পাশের মানুষজন দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দারা কালবিলম্ব না করে ধুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়ির ভেতর থেকে রক্তাক্ত ও আহত যাত্রীদের বের করে আনতে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।
ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে চকরিয়ার ডুলাহাজারা এলাকায় অবস্থিত মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত উদ্ধারকারী দল নিয়ে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া হাইওয়ে পুলিশের সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, তারা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পান দুই তরুণ ইতিপূর্বেই ঘটনাস্থলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত হওয়া বেশ কয়েকজন বাসযাত্রীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরপর মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট ও বিড়ম্বনা এড়াতে হাইওয়ে পুলিশ একটি ভারী ক্রেন ডেকে এনে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও উল্টে থাকা ট্রাকটিকে সরিয়ে নেয়। পুলিশের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহত দুই তরুণের সুনির্দিষ্ট নাম ও পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তবে মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, প্রাণ হারানো দুই তরুণের বয়স আনুমানিক ২২ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে হবে। নিহতদের পরিচয় উদ্ধারে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। দুর্ঘটনাস্থল ও ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনগুলোর আশপাশে পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালিয়ে হাইওয়ে পুলিশ একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
উদ্ধার হওয়া এনআইডি কার্ডে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, নাম লেখা রয়েছে আব্দুল্লাহ, পিতা আবুল কালাম, গ্রাম দক্ষিণ হ্নীলা, উপজেলা টেকনাফ, জেলা কক্সবাজার। হাইওয়ে পুলিশ এই নির্দিষ্ট ঠিকানাকে সূত্র হিসেবে ধরে নিহতদের সঠিক পরিচয় শনাক্ত করার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে নিহত দুই তরুণের মধ্যে কোনো একজন ওই এনআইডি ধারী আব্দুল্লাহ কি না কিংবা তারা দুজনে টেকনাফ এলাকার বাসিন্দা ও সহযাত্রী ছিলেন কি না।
মহাসড়কে প্রতিনিয়ত ঝরে যাওয়া তাজা প্রাণগুলোর স্বজনদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে একের পর এক দুর্ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নয়াপাড়ার সবুজ পাহাড়ের বিপদজনক বাঁকটিতে পর্যাপ্ত আলো, গতিরোধক কিংবা নির্দেশক সংকেত না থাকায় রাতের আঁধারে দ্রুতগতির যান চালাতে গিয়ে চালকরা প্রায়শই বিভ্রান্তির মুখে পড়েন। রাতের আঁধারে নিমেষেই দুটি তাজা স্বপ্নের অকালমৃত্যু কেবল পরিবার দুটিকে নিঃস্ব করেনি, বরং পুরো চকরিয়া ও টেকনাফ জনপদে গভীর শোক ও হাহাকারের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সচেতন মহল মহাসড়কের এই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদার ও দূরপাল্লার যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মহাসড়কে প্রতিনিয়ত ঝরে যাওয়া তাজা প্রাণগুলোর স্বজনদের আহাজারি কোনোভাবেই থামছে না। চট্টগ্রামের সঙ্গে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে যুক্ত করা এই মহাসড়কের সবুজ পাহাড়ের বাঁকটি দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। রাতে দ্রুতগতি ও নিয়ন্ত্রণহীন যান চলাচলের কারণে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা প্রায়শই ঘটছে। রাতারাতি দুটি তাজা স্বপ্নের অকালমৃত্যুতে কেবল তাঁদের পরিবার নয়, পুরো চকরিয়া ও টেকনাফ এলাকায় বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার সঠিক তদন্ত ও সড়কে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত