প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের কয়েকটি এলাকায় আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল থেকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। গাছের ডালপালা কাটা, বিদ্যুৎ লাইনের আশপাশ পরিষ্কার করা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলো সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে নাটোরের বড়াইগ্রাম এলাকায় টানা প্রায় ১০ ঘণ্টা এবং সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের কয়েকটি ইউনিয়নে সাড়ে সাত ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ থাকবে না।
সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলো শুক্রবার পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সাময়িক ভোগান্তি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ছোট শিল্পকারখানা, কৃষিকাজ এবং বাসাবাড়ির স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিদ্যুৎনির্ভর কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বিদ্যুৎ লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ জানিয়েছে, গাছের ডালপালা কর্তন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে বড়াইগ্রাম-১ (বনপাড়া) উপকেন্দ্রের ৪, ৭ ও ১০ নম্বর ফিডারে শনিবার সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। অর্থাৎ নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রায় ১০ ঘণ্টা এসব ফিডারের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না।
এই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে পারেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে পানির পাম্প, ফ্রিজ, বৈদ্যুতিক রান্নার সরঞ্জামসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা সম্ভব হবে না। একই সঙ্গে দোকানপাট ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লেনদেন ও অন্যান্য কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে। বিদ্যুৎনির্ভর ছোট ব্যবসা ও সেবাপ্রতিষ্ঠানের জন্য কয়েক ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিভ্রাট বিশেষভাবে অসুবিধার কারণ হতে পারে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার আওতায় থাকবে বনপাড়া বাজার, সরদারপাড়া, হারোয়া, ছাতিয়ানগাছা, মালিপাড়া, কালিকাপুর, হালদারপাড়া, শ্রীখণ্ডি, ভবানীপুর, আহম্মেদপুর, বালিয়া, পার আহম্মেদপুর, কাচুটিয়া, কায়েমকোলা ও ফজলিতলা এলাকার গ্রাহকেরা। ফলে এসব এলাকার বাসিন্দাদের দিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্ভব হলে বিদ্যুৎ বন্ধ হওয়ার আগেই সম্পন্ন করার প্রয়োজন হতে পারে।
তবে নির্ধারিত সময়ের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির কিছুটা পার্থক্য হতে পারে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। রক্ষণাবেক্ষণ ও গাছের ডালপালা কাটার কাজের অগ্রগতি, নিরাপত্তাজনিত বিষয় এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্ধারিত সময়ের আগে চালু হতে পারে, আবার প্রয়োজনে কিছুটা দেরিও হতে পারে। তাই স্থানীয় গ্রাহকদের সাময়িক প্রস্তুতি নিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারেও আজ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। দোয়ারাবাজার সাব জোনাল অফিস জানিয়েছে, বাংলাবাজার উপকেন্দ্রের ৩৩ কেভি লাইনের কাছাকাছি এলাকায় গাছপালা কর্তনের কাজ করা হবে। বিদ্যুৎ লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই কাজের সময় সংশ্লিষ্ট লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে।
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে সকাল ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার কথা রয়েছে। এ হিসাবে প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হবে নির্ধারিত এলাকার গ্রাহকদের। এই সময়ের মধ্যে বাংলাবাজার ইউনিয়ন, নরসিংপুর ইউনিয়ন ও বোগলাবাজার ইউনিয়নের পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের আংশিক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
পাহাড়ি ও সবুজঘেরা বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ লাইনের ওপর বা আশপাশে গাছের ডালপালা পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি থাকে। ঝড়-বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এ ধরনের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। বিদ্যুৎ লাইনের কাছাকাছি গাছের ডালপালা থাকলে তা লাইনের সঙ্গে সংস্পর্শে এসে শর্টসার্কিট, বিদ্যুৎ বিভ্রাট কিংবা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এ কারণে নিয়মিতভাবে গাছের ডালপালা ছাঁটাই ও লাইনের আশপাশ পরিষ্কার রাখা বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তবে এ ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখায় গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনে যে অসুবিধা হয়, সেটিও কম নয়। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র চার্জ দেওয়া, পানির পাম্প চালানো এবং অনলাইনভিত্তিক কাজ করার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্রিজ বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল কাজও ব্যাহত হতে পারে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ মূলত দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই করা হয়। বিদ্যুৎ লাইনের আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ গাছপালা অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি কাজ শেষ করা গেলে ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তাই সাময়িক ভোগান্তির বিনিময়ে বিদ্যুৎ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা শুধু উৎপাদন ও বিতরণের ওপর নির্ভর করে না; নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পুরোনো সরঞ্জাম পরীক্ষা, লাইন পরিদর্শন এবং ঝুঁকিপূর্ণ গাছপালা ব্যবস্থাপনার মতো কাজও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব কাজ সময়মতো করা না হলে ছোটখাটো সমস্যা পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
এদিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার সম্ভাবনায় সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যেসব পরিবার পানির পাম্প, বৈদ্যুতিক রান্নার সরঞ্জাম বা অন্যান্য জরুরি বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল, তারা বিদ্যুৎ বন্ধ হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে পারেন। একইভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও দিনের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সময় বিবেচনায় সাজিয়ে নিতে পারলে ভোগান্তি কিছুটা কমানো সম্ভব।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাজের স্বার্থে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার জন্য তারা গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা থাকবে। তবে মাঠপর্যায়ের কাজের বাস্তব পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময় কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।
আজকের এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট তাই কেবল সাময়িক অসুবিধার বিষয় নয়; এর সঙ্গে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতার বিষয়টিও জড়িত। গ্রাহকদের জন্য কয়েক ঘণ্টার বিদ্যুৎহীনতা নিঃসন্দেহে ভোগান্তিকর হলেও নিরাপদ ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ কাজ নিয়মিতভাবে সম্পন্ন করা জরুরি। নির্ধারিত কাজ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত