প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন বাবা ও ছেলে। শনিবার ভোরে গাজীপুরা এলাকায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় প্রথমে ছেলে লিখন চন্দ্র দাসের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া তাঁর বাবা তপন চন্দ্র দাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনিও মারা যান। একই দুর্ঘটনায় পরিবারের দুই সদস্যকে হারানোর এই ঘটনা এলাকায় শোকের পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
নিহত বাবা তপন চন্দ্র দাসের বয়স ৫০ বছর এবং ছেলে লিখন চন্দ্র দাসের বয়স ২০ বছর। তাঁদের বাড়ি শেরপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানার কৈবর্তপাড়া এলাকায়। কর্মব্যস্ত রাজধানী ঢাকার সঙ্গে গাজীপুরের সংযোগকারী ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ভোরের দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে তাঁদের যাত্রার উদ্দেশ্য কী ছিল, কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছিলেন কিংবা দুর্ঘটনার সময় তাঁরা মহাসড়কের কোন অংশ দিয়ে পার হচ্ছিলেন—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোর আনুমানিক ৪টা ১০ মিনিট থেকে ৪টা ২০ মিনিটের মধ্যে গাজীপুরা বিআরটি লেনের পূর্ব পাশে কুটুমবাড়ি রেস্তোরাঁসংলগ্ন মহাসড়কে হাঁটার সময় বাবা ও ছেলে একটি অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে কোন গাড়িটি তাঁদের ধাক্কা দিয়েছে, সেটির চালক দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ছিলেন কি না এবং গাড়িটি কীভাবে দুর্ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার উপপরিদর্শক মো. মোন্নাফ আহমেদ রাতের বিশেষ দায়িত্ব পালনকালে সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে আহত দুজনকে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ছেলে লিখন চন্দ্র দাসকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে তাঁর বাবা তপন চন্দ্র দাস গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তপন চন্দ্র দাসের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরিবারের সদস্যদের জন্য ছেলেকে হারানোর শোকের সঙ্গে তখন যুক্ত হয় বাবার জীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তপন চন্দ্র দাসের মৃত্যু হয়। এর মধ্য দিয়ে একই দুর্ঘটনায় বাবা ও ছেলে দুজনেরই প্রাণহানি ঘটে।
দুর্ঘটনার পর দুই হাসপাতালে চিকিৎসা ও মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেন। খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছে নিহতদের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং মরদেহ নিজেদের হেফাজতে নেয়। পাশাপাশি নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, যাতে তাঁরা ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পারেন এবং পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেন।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম জানান, নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাঁদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তবে দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়িটি শনাক্ত করা হয়েছে কি না, চালকের পরিচয় পাওয়া গেছে কি না কিংবা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার পর সাধারণত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, কোন পরিস্থিতিতে পথচারীরা গাড়ির ধাক্কায় পড়েছেন এবং দায়ী যানবাহনটি শনাক্ত করা সম্ভব কি না। এ ক্ষেত্রেও এসব প্রশ্নের উত্তর বের করা জরুরি। অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় দুইজনের মৃত্যু হওয়ায় যানবাহন শনাক্তকরণ, সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ এবং প্রাসঙ্গিক আলামত পরীক্ষা তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে তদন্তের ফল প্রকাশের আগে দুর্ঘটনার নির্দিষ্ট কারণ বা কারও দায় সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলের মধ্যে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই সড়কে বিভিন্ন সময়ে যানবাহনের পাশাপাশি পথচারীদেরও চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে ভোরের সময় সড়কে আলো, যানবাহনের গতি, দৃশ্যমানতা এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের সুযোগ দুর্ঘটনার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে বর্তমান দুর্ঘটনাটি ঠিক কোন কারণে ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
মহাসড়কে পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের সতর্কতা, নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে গাড়ি চালানোর সময় বাড়তি মনোযোগ দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে যেখানে পথচারীদের সড়ক পারাপার বা চলাচলের প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে নিরাপদ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং কার্যকর নজরদারির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার। দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা যেমন জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দুর্ঘটনা এড়াতে কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপও সমান প্রয়োজনীয়।
তপন চন্দ্র দাস ও তাঁর ছেলে লিখন চন্দ্র দাসের মৃত্যু একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। একই দুর্ঘটনায় বাবা ও ছেলেকে হারানোর শোক স্বজনদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলবে। তাঁদের বাড়ি শেরপুরের দেওয়ানগঞ্জে হলেও দুর্ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের টঙ্গীতে, ফলে মরদেহ গ্রহণ ও পরবর্তী পারিবারিক কার্যক্রমের জন্য স্বজনদের প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে হতে পারে। তবে তাঁদের পরিবারের অন্য সদস্যদের অবস্থা কিংবা মরদেহ হস্তান্তর ও দাফনসংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
এ ঘটনায় এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত যানবাহন শনাক্ত করা এবং কী পরিস্থিতিতে বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা। পাশাপাশি মহাসড়কে পথচারীদের নিরাপত্তা বাড়াতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সেটিও নতুন করে আলোচনার দাবি রাখে। দুটি প্রাণের এই অকাল সমাপ্তি আবারও মনে করিয়ে দিল, সড়কে সামান্য অসতর্কতা কিংবা নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াই এখন প্রত্যাশা।
স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত