ভারসাম্যহীন পররাষ্ট্রনীতিতে পিছিয়েছে বাংলাদেশ: জহরত আদিব

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৪ বার
ভারসাম্যহীন পররাষ্ট্রনীতিতে পিছিয়েছে বাংলাদেশ: জহরত আদিব
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র পরিচালনায় পররাষ্ট্রনীতির সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি, জাতীয় স্বার্থের অগ্রাধিকার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্বাধীনতার পরবর্তী এক দশকের কূটনৈতিক অবস্থান পর্যালোচনা করতে গিয়ে জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী বলেছেন, তৎকালীন সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি বাংলাদেশকে সম্ভাবনার পথে এগিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে পিছিয়ে দিয়েছিল। তাঁর মতে, স্বাধীনতার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য যে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। এর ফলে কূটনৈতিক সম্পর্ক, বৈদেশিক সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রেও দেশকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

তিনি মনে করেন, একটি সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করে স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থান গড়ে তুলতে না পারায় বাংলাদেশ সম্ভাব্য অনেক সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হয়। স্বাধীনতার পরবর্তী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের পেছনে পররাষ্ট্রনীতির ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সেমিনার সিরিজ’-এর চতুর্থ পর্বে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী এক দশকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির তুলনামূলক পর্যালোচনা’ শীর্ষক এই আলোচনায় স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, আইনজীবী, শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন লেখক ও গবেষক তুহিন খান।

জহরত আদিব চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছিল। নতুন রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন অংশীদারত্ব তৈরির ক্ষেত্রেও সেই সময়ের সম্ভাবনা কাজে লাগানো প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার পরিবর্তে নির্দিষ্ট একটি রাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার নীতি অনুসরণ করেছিল। এর ফলে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের সম্পর্কের পরিধি প্রত্যাশিতভাবে বিস্তৃত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, একটি দেশের পররাষ্ট্রনীতি কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য বা বন্ধুত্বের বিষয় নয়; এর সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান এবং জনগণের জীবনযাত্রার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অর্জনে ব্যর্থ হলে একটি নতুন রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন আরও কঠিন হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, খাদ্যসংকট মোকাবিলা, শিল্পকারখানা সচল করা এবং মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের মতো বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এমন পরিস্থিতিতে বহুমুখী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে তিনি মনে করেন।

জহরত আদিব চৌধুরী স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের সঙ্গে পরবর্তী শাসনামলের তুলনা করতে গিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতির প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পরবর্তী দশকের দ্বিতীয় ভাগে জিয়াউর রহমান জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করে যেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ছিল, সেসব দেশের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

জহরত আদিবের মতে, জিয়াউর রহমানের সময় বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্কের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশে শ্রমশক্তি পাঠানোর সুযোগও সম্প্রসারিত হয়। বাংলাদেশের বিপুল জনশক্তিকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে যুক্ত করার উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে একদিকে যেমন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আয় বাড়ে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথও বিস্তৃত হয়। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, জনশক্তিকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজে লাগানোর উদ্যোগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।

একই সঙ্গে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, তৎকালীন সরকারের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তে বাকশাল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। একটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশ, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক অধিকার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। ফলে রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা কূটনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তাঁর বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়।

সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক মো. আবদুল মান্নানও বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারত বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিল নিজেদের কৌশলগত স্বার্থের বিষয়টিও বিবেচনায় রেখে। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাসকে কেবল কোনো একটি রাষ্ট্রের সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখার সুযোগ নেই। মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ, সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ এবং দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়েই স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে।

আবদুল মান্নানের মতে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস উপস্থাপনের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান ও আত্মত্যাগ যথাযথভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রচারণায় অনেক সময় এমন ধারণা তৈরি করা হতো, যেন ভারত একাই বাংলাদেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। তাঁর মতে, এ ধরনের বক্তব্য মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস এবং বাংলাদেশের মানুষের আত্মত্যাগকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি করে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেই সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে। ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও নিরাপত্তাগত বাস্তবতার কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। তবে বন্ধুত্বের অর্থ কোনো দেশের সিদ্ধান্তের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়া নয়। বরং আলোচনার মাধ্যমে নিজস্ব অবস্থান তুলে ধরা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা ও মতপার্থক্য—দুই ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষা করাই হওয়া উচিত একটি স্বাধীন দেশের কূটনৈতিক লক্ষ্য।

আলোচনায় পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে আসে। আবদুল মান্নান বলেন, স্বাধীনতার পর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জন্মকে একটি মুসলিম রাষ্ট্র বিভক্ত হওয়ার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের প্রচেষ্টা ছিল। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বতন্ত্র রাষ্ট্রীয় পরিচয় ও পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান প্রতিষ্ঠা করা সহজ ছিল না। একদিকে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বাস্তবতা, অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বিরোধ—সব মিলিয়ে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য নিজস্ব কূটনৈতিক অবস্থান তৈরি করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় আত্মমর্যাদা ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আবেগ বা রাজনৈতিক আনুগত্যের পরিবর্তে বাস্তবতা, পারস্পরিক লাভ এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত বলে আলোচনার মূল সুরে প্রতিফলিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহ্সান মাহমুদ স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ওই সময়ের পররাষ্ট্রনীতি পর্যালোচনা করতে গেলে শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানের শাসনামল বিশেষভাবে সামনে আসে। তাঁর মতে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামের পর স্বাধীনতা অর্জন করলেও পরবর্তী সময়ে ভারতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার ধারণা সমাজের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছিল।

এহ্সান মাহমুদ বলেন, প্রবীণ নাগরিকদের একাংশের মধ্যে সে সময় প্রশ্ন উঠেছিল, পাকিস্তানের শাসন ও নির্ভরশীলতা থেকে মুক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ আবার অন্য কোনো রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে কি না। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘদিন সংগ্রাম করা মানুষের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে দেশের সিদ্ধান্ত দেশের জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করেই নেওয়া হবে। সেই প্রত্যাশার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তবতার ব্যবধান নিয়ে তখন বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।

জিয়াউর রহমানের সময়কার কিছু উদ্যোগের উদাহরণ দিতে গিয়ে এহ্সান মাহমুদ ‘হিজবুল বাহার’ নামের জাহাজে শিক্ষার্থীদের সমুদ্রসীমা দেখানোর বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের সমুদ্রসীমা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা দেওয়ার মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তাঁর মতে, একটি দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মকে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানে সীমাবদ্ধ রাখলে চলে না; রাষ্ট্রের ভূখণ্ড, সমুদ্রসীমা, সম্পদ এবং আন্তর্জাতিক অবস্থান সম্পর্কেও বাস্তব ধারণা দিতে হয়।

তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণদের মধ্যে জাতীয় দায়িত্ববোধ, আত্মনির্ভরশীলতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার মানসিকতা তৈরি করা প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা ভূমিকা রাখবে, তাদের দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ সম্পর্কে সচেতন করে তোলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সেমিনারের আলোচনায় স্বাধীনতার পরবর্তী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সাফল্য, সীমাবদ্ধতা এবং রাজনৈতিক বিতর্ক বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে উঠে আসে। বক্তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা, বহুমুখী সহযোগিতা নিশ্চিত করা এবং নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে স্বাধীনতার পরবর্তী দশকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু পররাষ্ট্রনীতিকে বিচ্ছিন্নভাবে বিবেচনা না করে যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং তৎকালীন বাস্তবতাকেও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস যেমন আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস, তেমনি স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠার ইতিহাসও। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো একক শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা যেমন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তেমনি বৈশ্বিক সহযোগিতা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকাও একটি দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই পারস্পরিক সম্মান, সমতা, কূটনৈতিক দক্ষতা এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এনেছে এই সেমিনার। বক্তাদের আলোচনার মধ্য দিয়ে অতীতের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতের জন্য একটি আত্মমর্যাদাপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com