ধীরে ধীরে সাদাপাথরে ফিরছেন পর্যটকরা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫০ বার

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সিলেটের পর্যটন মানচিত্রে অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান সাদাপাথর। জাফলংয়ের পিয়াইন নদীর তীরে পাহাড় ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এ এলাকা দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশি ভ্রমণপিপাসুদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত। তবে গত কয়েক মাস ধরে নানা অনিয়ম, নিরাপত্তা শঙ্কা, বালু-পাথর উত্তোলন নিয়ে জটিলতা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্টের কারণে পর্যটকের সংখ্যা একসময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্বেগও বাড়তে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ধীরে ধীরে আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সাদাপাথর, ফিরছেন পর্যটকরাও।

বিশেষ করে ঈদ, ছুটি কিংবা সপ্তাহান্তে এখানে ভ্রমণ পিয়াশিদের ভিড় জমতো , সাপ্রতিক ঘটনাতে অনেকদিন তা শূন্যের কোটাতে নেমেছিল ধীরে এখন আগের মতোই ভিড় দেখা যাচ্ছে। পরিবার নিয়ে কিংবা দল বেঁধে বন্ধুদের সাথে অনেকেই সাদাপাথরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছেন। শীতল স্বচ্ছ নদীর জল, পাহাড়ি পরিবেশ, সবুজ প্রকৃতি আর স্বচ্ছন্দ সময় কাটানোর জন্য এটি হয়ে উঠছে অন্যতম গন্তব্য। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বলছেন, সাদাপাথরে পর্যটকের পদচারণা বাড়ায় আবারও তাদের ব্যবসায় গতি ফিরে আসছে। আগে যেখানে দিনে দিনে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছিল, এখন সেখানে হোটেল, রেস্তোরাঁ, নৌকা ভাড়া ও ছোটখাটো দোকানপাটে চাঙ্গাভাব ফিরে এসেছে।

পর্যটকরা জানাচ্ছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা নেতিবাচক খবরের কারণে আগে সাদাপাথরে আসতে দ্বিধায় ছিলেন অনেকে। তবে সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাড়তি নজরদারি, স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগ এবং পরিবেশ রক্ষায় নেওয়া কিছু পদক্ষেপে ভরসা পাচ্ছেন ভ্রমণকারীরা। এ কারণে এখন আবার অনেকেই পরিবার নিয়ে নির্ভয়ে আসছেন। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিনই পর্যটকের আগমন বাড়ছে।

স্থানীয় হোটেল ও গেস্টহাউজ মালিকরা বলছেন, পর্যটকদের ফিরে আসায় সিলেটের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কারণ সাদাপাথর ঘিরে পর্যটন নির্ভর স্থানীয় অর্থনীতি অনেকাংশে সচল থাকে। নৌকার মাঝি থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁর কর্মচারী, স্থানীয় গাইড ও দোকানিরা প্রত্যেকেই পর্যটকদের উপস্থিতির উপর নির্ভরশীল। তারা মনে করছেন, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামী শীত মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।

তবে পরিবেশবিদরা সতর্ক করেছেন যে পর্যটক বৃদ্ধির সাথে সাথে পরিবেশ রক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থারও জোরদার করা প্রয়োজন। কারণ অতিরিক্ত জনসমাগম প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য হুমকি হতে পারে। বিশেষ করে নদীর স্বচ্ছ পানি, জীববৈচিত্র্য এবং পাহাড়ি গাছপালার সুরক্ষা জরুরি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, অবৈধ পাথর উত্তোলন ও পরিবেশ ধ্বংসকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তায় টহল জোরদার রাখা হয়েছে।

সাদাপাথর ভ্রমণে আসা এক পর্যটক বলেন, “আমরা শুনেছিলাম এখানে আগে নানা সমস্যার কারণে পর্যটন কমে গিয়েছিল। তবে এখন অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। নিরাপত্তার ব্যবস্থা আছে এবং প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছি নির্ভয়ে।”

ধীরে ধীরে পর্যটকের পদচারণায় আবারও মুখর হয়ে উঠছে সাদাপাথর এলাকা। সিলেটের পর্যটন শিল্পের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দিক। প্রকৃতি, ব্যবসা ও স্থানীয় অর্থনীতি—সব মিলিয়ে সাদাপাথরের প্রাণচাঞ্চল্য ফেরাটা স্থানীয় মানুষের কাছে আশার আলো হয়ে এসেছে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে প্রয়োজন আরও সমন্বিত উদ্যোগ, যাতে সাদাপাথর শুধু সিলেট নয়, পুরো বাংলাদেশের জন্য একটি টেকসই ও নিরাপদ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।রে ধীরে সাদাপাথরে ফিরছেন পর্যটকরা

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত