ফুলবাড়িয়ার লাল চিনি জিওগ্রাফিক ইন্ডিকেশন (জিআই) স্বীকৃতি অর্জন করেছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫
  • ৭২ বার
ফুলবাড়িয়ার লাল চিনি জিওগ্রাফিক ইন্ডিকেশন (জিআই) স্বীকৃতি অর্জন করেছে

২৬ আগস্ট ২০২৫|  নিজস্ব সংবাদদাতা| একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় আখের রস থেকে হাতে তৈরি ঐতিহ্যবাহী লাল চিনি ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রায় আড়াই শতক ধরে এ অঞ্চলজুড়ে তৈরি হয়ে আসা এই লাল চিনি শরবত, পিঠা ও অন্যান্য মিষ্টান্নে ব্যবহৃত হয়। আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন যে, ফুলবাড়িয়ার লাল চিনি জিআই স্বীকৃতি অর্জন করেছে এবং সরকারের নির্ধারিত ফি জমা দেওয়া হয়েছে।

নূর মোহাম্মদ জানান, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জিআই স্বীকৃতির জন্য আবেদন করা হয়। কোনো পক্ষের বিরোধিতা না থাকায় প্রক্রিয়া শেষে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জিআই স্বীকৃতি লাল চিনি উৎপাদন ও বিপণনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে যারা লাল চিনি সম্পর্কে আগেই অজ্ঞাত ছিলেন, তারা এখন এর খ্যাতি ও ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হবেন। কৃষকেরা উৎপাদন বৃদ্ধি করবেন এবং সরকারের পৃষ্ঠপোষকতাও বাড়বে। পাশাপাশি, অর্গানিক পণ্য হিসেবে বিদেশে রপ্তানি করা গেলে চাষিদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ফুলবাড়িয়া উপজেলার বাকতা, কালাদহ ও রাধাকানাই ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামে কৃষকরা আখ চাষ ও লাল চিনি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিবছর উপজেলার লাল চিনি বিক্রির পরিমাণ শতকোটি টাকার কাছাকাছি হয়। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, আখ সংগ্রহের পর তা পরিষ্কার করে যন্ত্রচালিত কলের মাধ্যমে রস বের করা হয়। জ্বালঘরের চুলায় সাতটি লোহার কড়াই ব্যবহার করে ধাপে ধাপে রস ঘন করা হয়। শেষ পর্যায়ে কাঠের মুগুর দিয়ে বারবার নাড়া দিয়ে তৈরি হয় বাদামি রঙের মিহি দানা লাল চিনি। এটি শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। চৈত্র মাসে আখ রোপণ শুরু হয়ে পৌষ মাসে আখমাড়াই সম্পন্ন হয়, এরপর আড়াই মাস ধরে লাল চিনি তৈরির কাজ চলে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে উপজেলার ৬৫০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে, যার ৯০ শতাংশে দেশি জাতের আখ এবং বাকিতে ঈশ্বরদী-৪১ ও ঈশ্বরদী-৪২ জাতের আখ চাষ হয়েছে। এক হেক্টর জমি থেকে প্রায় আট মেট্রিক টন লাল চিনি উৎপন্ন হয়। প্রতি মণ লাল চিনি গড়ে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এ বছর প্রায় ১০৮ কোটি টাকার লাল চিনি বিক্রি হয়েছে। আখ থেকে প্রতি মেট্রিক টনে প্রায় ৩২ হাজার লিটার রস পাওয়া যায়, যা চার কেজি রস থেকে এক কেজি চিনি তৈরি হয়।

স্থানীয় কৃষক ইউসুফ আলী জানিয়েছেন, তিনি বংশপরম্পরায় লাল চিনি তৈরি করে আসছেন এবং কোনো প্রকার কৃত্রিম রাসায়নিক ব্যবহার করেন না। পাইকার মো. আবদুল মজিদ বলেন, জিআই স্বীকৃতির ফলে চাহিদা আরও বাড়বে এবং ব্যবসা বিস্তৃত হবে। ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুর ইসলাম উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, এই স্বীকৃতি স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং এলাকার মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে।

ফুলবাড়িয়ার লাল চিনি জিআই স্বীকৃতির মাধ্যমে শুধু ঐতিহ্য সংরক্ষিত হবে না, বরং কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় ব্যবসাকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সংযুক্ত করার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত