প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, দেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই পিআর পদ্ধতিতে হতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রীয় যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হলে জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে বাস্তবে ধারণ করতে হবে। অন্যথায় বিপ্লবীরা নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকবে না, বরং দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজন হলে আবারো রাজপথে নেমে আসবে ছাত্র-জনতা।
বুধবার রাজধানীর কাফরুলে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেলিম উদ্দিন এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, জনগণ দায়সারা গোছের নির্বাচন আর মেনে নেবে না। দৃশ্যমান সংস্কার, জবাবদিহি ও বিচারের নিশ্চয়তা না থাকলে ভোটে আস্থা ফেরানো সম্ভব নয়। তাই জুলাই সনদকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
জাতীয় জীবনে আসন্ন নির্বাচনকে ভাগ্য নির্ধারণী উল্লেখ করে সেলিম উদ্দিন বলেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের নতুন দ্বার খুলতে হবে। তিনি কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নতুন সংগ্রামে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কাফরুল জোন পরিচালক মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি লস্কর মোহাম্মদ তসলিম এবং ঢাকা উত্তরের সভাপতি মাওলানা মহিববুল্লাহ। এসময় স্থানীয় শ্রমিক নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
শ্রমিক সমাজের অধিকার নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের শ্রমিক সমাজ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও অধিকারবঞ্চিত। অথচ ইসলাম শ্রমিকদের বিশেষ সম্মান দিয়েছে। হাদিসে শ্রমিককে আল্লাহর বন্ধু বলা হয়েছে এবং তাদের ঘামের মূল্য শুকানোর আগেই মজুরি পরিশোধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে ইসলামী শ্রমনীতি কার্যকর না থাকার কারণে স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও শ্রমিকদের ভাগ্য বদলায়নি।
তিনি বলেন, শ্রমিক সমাজসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে দেশকে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে হবে। এর মাধ্যমে শুধু শ্রমিকদের অধিকারই নয়, পুরো সমাজের জন্য একটি ন্যায়সঙ্গত ও মানবিক রাষ্ট্র কাঠামো প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।