প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাংবাদিকদের ভূমিকা ও নির্বাসন থেকে দেখা হাসিনার ফ্যাসিবাদ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ফ্যাসিবাদ প্রতিহত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা 강조 করেছেন। তিনি বলেন, “জুলাই বিপ্লবে ভারতীয় হেজেমনি এবং ফ্যাসিবাদী অপশক্তির পতন ঘটেছে, কিন্তু পতিত ফ্যাসিবাদ এখনও নিষ্ক্রিয় হয়নি। তারা এক এক বার এক এক রূপে ফিরে আসতে চায়। তাই দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হতে হবে। নইলে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে।”
মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, আওয়ামী লীগ এক সময় রাজনৈতিক ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিল এবং একটি সাংস্কৃতিক ফ্যাসিস্ট শক্তিকে সৃষ্টি করেছিল, যা ১৬ বছর ধরে জনগণের ওপর দমনমূলক শাসন ব্যবস্থা চাপিয়ে রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। এই সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদকে সাংবাদিক সমাজের একটি অংশ শক্তিশালী করেছে, যা স্বাধীনতার পর থেকে অর্ধ শতাব্দীর বেশি সময় মিডিয়াকে দখল করে রেখেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “এখনো আমরা মিডিয়াকে সেই শক্তি থেকে পুরোপুরি মুক্ত করতে পারিনি। এটি আমাদের সম্মিলিত ব্যর্থতা, যার কারণে আজও সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে।”
তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে সরাসরি সতর্ক করে বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা স্বাভাবিক, কিন্তু ফ্যাসিবাদের প্রশ্নে আপনাদের এক থাকতে হবে। জাতীয় পার্টি অতীতে ফ্যাসিবাদের সহায়ক ভূমিকা নিয়েছে, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি বর্তমানে প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। এই তিন শক্তিকে একত্রিত হতে হবে, ভারতীয় হেজেমনির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে এবং দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। যারা দুর্বলতা দেখাবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।”
আলোচনা সভায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ সভাপতিত্ব করেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাৎ হোসেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী, এ্যাব চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম, সাংবাদিক সালেহ নোমান এবং মিয়া মোহাম্মদ আরিফ।
সভায় আলোচিত মূল বিষয় ছিল ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দেশের রাজনৈতিক দল এবং সাংবাদিক সমাজকে সতর্ক এবং ঐক্যবদ্ধ রাখার গুরুত্ব, যাতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষিত থাকে।