প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ সমর্থিত সচেতন শিক্ষার্থী সংসদ মনোনীত জিএস প্রার্থী মো. খায়রুল আহসান মারজান অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাদের বৈধ এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেছেন, এটি ডাকসু নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মারজান জানান, যথাযথ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের কাছে তালিকা জমা দিয়ে এবং ছবিযুক্ত কার্ড সংগ্রহের পরও তাদের প্রেরিত এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। তার অভিযোগ, নির্দিষ্ট কিছু সংগঠন ছাড়া ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কোনো এজেন্টকে দায়িত্বপালনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি বৈধ কার্ডধারী এজেন্টদেরও প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ইউল্যাব কেন্দ্রে ঘটে যাওয়া ঘটনার উদাহরণ টেনে মারজান বলেন, সকাল আটটার আগেই ছাত্রদলের প্যানেলের অন্তত পাঁচজন এজেন্ট প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে। অথচ ইসলামী ছাত্র আন্দোলন সমর্থিত প্যানেল থেকে বৈধ কার্ডধারী কোনো এজেন্টকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, বরং বাধ্য করা হয়েছে কেন্দ্র ত্যাগ করতে। তিনি অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে বারবার প্রশ্ন তুললেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কোনো সদুত্তর দেননি।
এই পরিস্থিতিকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য মারাত্মক হুমকি আখ্যা দিয়ে মারজান সতর্ক করে বলেন, কোনো পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। তার দাবি, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যুক্ত সাদা দলের কিছু ব্যক্তি শুরু থেকেই একটি নির্দিষ্ট সংগঠনের পক্ষে কাজ করছেন। তিনি বলেন, “আমরা আগেই আশঙ্কা করেছিলাম নির্বাচনকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা হতে পারে। আজ নির্বাচনের দিনই সেই আশঙ্কার বাস্তবায়ন দেখতে পাচ্ছি।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি তাদের বৈধ এজেন্টদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া না হয় এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে এর জবাব দেবে। তার ভাষায়, “ডাকসু নির্বাচনকে কলঙ্কিত করার কোনো চেষ্টা আমরা সহ্য করব না।”
এ ঘটনায় ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘ এক যুগ পর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিল সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের। তবে একের পর এক অভিযোগ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডাকসু নির্বাচন শুধু একটি শিক্ষার্থী পরিষদের ভোট নয়, বরং দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলনও বটে। তাই এ ধরনের বিতর্ক ও পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা কমিয়ে দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, কমিশন কীভাবে এই অভিযোগের জবাব দেয় এবং পরিস্থিতি সামাল দেয়।